২৯ আগাস্ট, ১২ভাদ্র ১৪২৬ বৃহস্পতিবার রাত্রি ৭ টা ৫৬ মিনিট থেকে ৩০ অগাস্ট, ১৩ ভাদ্র ১৪২৬ শুক্রবার বিকেল ৪টে ৭ মিনিট অবধি, এই দুই দিন থাকছে কৌশিকী অমাবস্যা। বিশেষ এই তিথিতে তারাপীঠে মায়ের বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়। এদিন অমাবস্যা তিথি শুরু হলেই মায়ের রাজবেশ সহকারে রাতে মায়ের পুজো করা হয়। 

পুরাণে কথিত আছে, অসুরের অত্যাচার থেকে উদ্ধারের জন্য স্বর্গের দেবতারা মহামায়ার তপস্যা শুরু করেন। আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে মহামায়া দেবী মানস সরোবরের জলে স্নান করে কালো রং ত্যাগ করে কৃষ্ণবর্ণা দেবী কৌশিকীর রূপ ধারণ করেন। সেই রূপেই দেবী শুম্ভ নিশুম্ভ নামের দুই অসুরকে বধ করে দেবতাদের রক্ষা করেন এই তিথিতেই। সেই থেকেই পাপের বিনাশ করার জন্য তারাপীঠ সহ নানান পীঠস্থানে কৌশিকী রূপে পুজো করা হয়, মা কে।

কৌশিকী অমাবস্যার অর্থ হল তারা নিশি। এই তিথি তন্ত্র সাধনার এক বিশেষ রাত। অমাবস্যার এই বিশেষ তিথিতে সাধক বামা ক্ষ্যাপা তারাপীঠের মহাশ্মশানের শিমূল গাছের তলায় মা তারার আরাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। মনে করা হয়, বিশেষ এই তিথিতে তারাপীঠে তারা মায়ের পুজো করলে সকল মনের ইচ্ছে পূরণ হয়। এই কারনেই কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে হাজার হাজার পূণ্যার্থী আসেন মায়ের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য। এদিন তারাপীঠের শ্মশান এক অন্য রূপ নেয়।

আরও পড়ুন- জেনে নিন ২০১৯-এর মহালয়া ও দুর্গাপুজোর নির্ঘন্ট

 

তন্ত্র শাস্ত্রের ব্যাখা অনুযায়ী, এই তিথিতে মা তারার পুজো দিয়ে দ্বারকা নদীতে স্নান করলে শত জন্মের পুন্যলাভ হয়। আর এই কারণেই তারাপীঠে এই তিথিতে আয়োজন করা হয় বিশেষ পুজোর।