ফোবিয়া বা অস্বাভাবিক ভীতিকে বর্ণনা করা হয় একটি কখনও স্থায়ী বা কখনও দীর্ঘস্থায়ী ভয় হিসেবে যা কোনও বস্তু অথবা স্থান হতে পারে। যার ফলে ভুক্তভোগী বহুক্ষণ ধরে বাস্তবে রূপ নেবে ধারণা করে এর থেকে দূরে থাকে বা মানসিক চাপে থাকে এবং কোনও কোনও সময় তা মারাত্মকও হয়। ভয় মনের অবচেতন স্তরের একটি বিশেষ মানসিক অবস্থা, যার নির্দিষ্টতা আছে কিন্তু ভয় যখন নির্দিষ্টতা অতিক্রম করে, একে ভয় বা ফোবিয়া বলে। আমাদের অতি পরিচিত ভয়গুলো হচ্ছে অন্ধকারে থাকার ভয়, নির্দিষ্ট প্রাণীর ভয়, অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক ব্যাপারে ভয়, কোনও পরিস্থিতিতে ভয়, নির্দিষ্ট স্থানের ভয় ইত্যাদি।

আবার জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, জাতক বা জাতিকার রাশি তাঁর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। একই ভাবে কোনও ব্যক্তির আচরণ এবং তাঁর চরিত্রের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে সেই ব্যক্তির জন্ম সময়, কাল বা জন্ম মাসের উপর। একজন মানুষ সম্পর্কে অনেক কিছুই বলে দেওয়া সম্ভব তার রাশির বিষয়ে জ্ঞান থাকলে। ঠিক এই ভাবেই কোনও রাশির মানুষ কীসে ভয় বা ভীতিভাব কাজ করে তা অনুমান করা সম্ভব। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক রাশি অনুযায়ী কোন বিষয়ে ভয় বা ভীতিভাব কাজ করে কোনও রাশির জেনে নেওয়া যাক।

আরও পড়ুন- এই ৫ রাশির সঙ্গী রাগ করে সবথেকে বেশি, দেখুন কারা আছেন সেই তালিকায়

মেষ- মার্চ ২১ থেকে এপ্রিল ১৯ অবধি যাদের জন্ম তাঁরা রয়েছে এই তালিকায়। রাশিচক্রের প্রথম রাশি মেষ। এই রাশির অধিকর্তা গ্রহ হল মঙ্গল। এই রাশির জাতক-জাতিকারা একটু চঞ্চল প্রকৃতির হয়ে থাকে। পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে এরা উগ্রও হয়ে যায়। এরা কায়িক পরিশ্রমের থেকে কূটনৈতিক বুদ্ধি সবথেকে বেশি। এরা খুব তোষামোদ প্রিয় মানুষ। এরা অত্যন্ত বন্ধুবৎসল। এরা যে কোনও বিষয়ে নেতৃত্ব করতে খুব পছন্দ করেন। তবে এদের নেতৃত্ব পছন্দ কেউ অস্বীকার করলে এরা তা মেনে নিতে পারে না। যে কোনও পরিস্থিতি এদের মনের মতো হবে এটাই এদের আশা থাকে। তাই কোনও সম্পর্ক এদের বেশি দিন টেকে না। এর জন্য এরা নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। সম্পর্ক ভাঙ্গনের এই বিষয়ে এই রাশি অত্যন্ত ভীত।

বৃষ- এপ্রিল ২০ থেকে মে ২০ অবধি যাদের জন্ম তাঁরা রয়েছে এই তালিকায়। রাশিচক্রের দ্বিতীয় রাশি বৃষ। এই রাশির অধিকর্তা গ্রহ শুক্র। আত্মীয় স্বজনের জন্য এরা প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করে থাকে। এরা বিপরীত লিঙ্গের সহজে মন জয় করতে পারে সহজেই। নিজ গুণে এরা সবার উপরে সহজেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এদের জীবনে উত্থান পতন খুব কম। তবে এরা জীবনে অনেক ভালো সুযোগ এরা নষ্ট করে দেয়। এদের স্মৃতিশক্তি খুব প্রখর, এরা সহজে কোনও কিছু ভোলে না। এদের ঈশ্বর ভক্তি প্রবল হয়ে থাকে। তাই ছক বাঁধা জীবনের বাইরে থেকে কোনও অসঙ্গতি দেখলেই এরা গুটিয়ে যায়।

আরও পড়ুন- মাঘ মাস কেমন প্রভাব ফেলবে মিথুন রাশির উপর, দেখে নিন

মিথুন- মে ২১ থেকে জুন ২০ অবধি যাদের জন্ম তাঁরা রয়েছে এই তালিকায়। রাশিচক্রের তৃতীয় রাশি মিথুন। এই রাশির অধিকর্তা গ্রহ বুধ। এরা সময় বিশেষ কৃপণ আবার কখনও উদার মানসিকতার। এরা কাজ করতে খুব পছন্দ করে। এরা চঞ্চল এবং অস্থির মানসিকতার। এরা অত্যন্ত তোষামোদ প্রিয়। এরা কোন কাজ করবে কোন কাজ করবে না তা এরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এরা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পার্টি করতে খুব ভালোবাসেন। তবে এরা নিজের দুর্বলতা সকলের সামনে প্রকাশ করতে চান না। এরা এই বিষয়েই সবথেকে বেশি ভীত থাকে। যাতে নিজের দুর্বলতা সকলের কাছে প্রকাশ পেয়ে না যায়।

কর্কট- ২১ জুন থেকে ২২ জুলাই অবধি যাদের জন্ম তাঁরা রয়েছে এই তালিকায়। রাশিচক্রের চতুর্থতম রাশি কর্কট। এই রাশির অধিকর্তা গ্রহ চন্দ্র। এই রাশির জাতক-জাতিকারা খুব আত্মকেন্দ্রীক তবে স্পর্শকাতর। এরা বাবা মায়ের অত্যন্ত প্রিয়। এরা অত্যন্ত খুঁতখুঁতে এবং ভীতু প্রকৃতির হয়। এরা অত্যন্ত সংবেদনশীল। অপরের দুঃখে এই রাশি ব্যথিত হয়। তবে এই রাশি প্রত্যাখ্যানকে সবথেকে বেশি ভয় পান। কারন এই রাশির কাছে প্রত্যাখ্যান অসম্মানের।

আরও পড়ুন- মঙ্গলবারের সারাদিন কেমন কাটবে, দেখে নিন এক নজরে

সিংহ- জুলাই ২৩ থেকে আগষ্ট ২২ অবধি যাদের জন্ম তাঁরা রয়েছে এই তালিকায়। রাশিচক্রের পঞ্চম রাশি সিংহ। এই রাশির অধিকর্তা গ্রহ রবি। এরা সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে। তবে এরা অত্যন্ত জেদী এবং রেগে গেলে হিতাহিত জ্ঞানশূণ্য হয়ে পড়ে। যে কোনও কাজে এরা ঘন ঘন মত বদলাতে উন্নতির পথে তা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এই রাশি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী।  অপরের কথায় এরা খুব সহজেই উদ্ভুদ্ধ হয়। যথাযথ সম্মান প্রদান না করলেই এই রাশি ক্ষুব্ধ হয়। এই আত্মসম্মান কোনও ভাবে ক্ষুন্ন না হওয়াই এদের প্রধান উদ্দেশ্য। আর এটাই এদের ভয়ের প্রধান জায়গা।

কন্যা- আগষ্ট ২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২২ অবধি যাদের জন্ম তাঁরা রয়েছে এই তালিকায়। রাশিচক্রের ষষ্ঠ রাশি কন্যা। এই রাশির অধিকর্তা গ্রহ বুধ। এই রাশির জাতক-জাতিকারা খুব কর্তব্যপরায়ণ হয়ে থাকে। এরা একা থাকতে পছন্দ করেন না। এদের প্রচুর বন্ধু হয়ে থাকে। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের স্বভাব চরিত্র বোঝা যায় না। এরা অত্যন্ত কর্তব্যপরায়ণ হয়ে থাকেন। এরা সকলের জন্য চিন্তা করেন। এরা চাকরির থেকে ব্যবসায় বেশি উন্নতি করে। এই রাশির ব্যক্তিত্বদের বন্ধুপ্রীতি অপরিসীম। তবে যদি কেউ এদের কথা না রাখেন এরা খুব ক্ষুদ্ধ হয়। এটাই এই রাশির ভয়ের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।

তুলা- সেপ্টেম্বর ২৩ থেকে অক্টোবর ২২ অবধি যাদের জন্ম তাঁরা রয়েছে এই তালিকায়। রাশিচক্রের সপ্তম রাশি তুলা।  এই রাশির অধিকর্তা গ্রহ হল শুক্র। এই রাশির জাতক-জাতিকারা একা থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। এরা নিজের মনের কথা সহজে কাউকে বলে উঠতে পারেন না। তবে এরা খেতে ও খাওয়াতে বেশি ভালোবাসেন। মানুষকে খুশি করতে পারলেই এরা খুশি। এই রাশি কখনোই চায় না এদের ব্যবহার অপর কেউ কষ্ট পাক। এই ভাবনাতেই এদের মনকষ্ট ও ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

বৃশ্চিক- অক্টোবর ২৩ থেকে নভেম্বর ২১ অবধি যাদের জন্ম তাঁরা রয়েছে এই তালিকায়। রাশিচক্রের অষ্টম রাশি বৃশ্চিক। এই রাশির অধিকর্তা গ্রহ হল মঙ্গল। এই রাশির জাতক-জাতিকারা কঠোর পরিশ্রমী। তাই জীবনের দেরিতে হলেও এরা উন্নতি লাভ করে। তবে এই রাশির স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো থাকে না। এদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়ে থাকেন। এরা নিজের মনের চলতে বেশি পছন্দ করেন। কারও অধীনে থাকা এরা একেবারেই পছন্দ করেন না। তবে নিজেকে নিয়ে এরা অনিশ্চয়তায় ভোগেন। এটাই এই রাশির প্রধান আড়ষ্ঠতা বা ভয়ের জায়গা।

ধনু- নভেম্বর ২২ থেকে ডিসেম্বর ২১ অবধি যাদের জন্ম তাঁরা রয়েছে এই তালিকায়। রাশিচক্রের নবম রাশি ধনু। এই রাশির অধিকর্তা গ্রহ হল বৃহস্পতি। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের বিষয় সম্পত্তিতে আসক্তি কম। এদের জীবনের প্রথম দিকে প্রচুর বাধা বিপত্তি আসলেও তা কেটে যায়। এই রাশির প্রায়ই অর্থাভাব দেখা যায়। এরা খুবই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। তাই অন্যের অধীনে কাজ করতে অসুবিধে ভোগ করতে হয়। এরা অপরের অধীনে থাকা একেবারেই পছন্দ করেন না। তাই নিজেদের স্বাধীনতা হারানোর ভয় এদের মধ্যে কাজ করে।

মকর- ডিসেম্বর ২২ থেকে জানুয়ারি ১৯ অবধি যাদের জন্ম তাঁরা রয়েছে এই তালিকায়। রাশিচক্রের দশমতম রাশি মকর। এই রাশির অধিকর্তা গ্রহ শনি। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের এদের বন্ধুরা সব সময় এড়িয়ে যায়। এরাই একা থাকতেই বেশি পছন্দ করে। এদের সন্দেহ প্রবণতার জন্য বিবাহিত জীবনে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। এদের অবসাদ এবং বিষাদ এদের মধ্যে অতি মাত্রায় দেখা যায়। তবে মাঝে মধ্যেই এরা নিজেদের প্রতি আস্থা হারান। এরা নিজেদের যোগ্য বলে মনে করেন না। এটাই এই রাশির প্রধান ভয়ের কারন।

কুম্ভ- জানুয়ারি ২০ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৮ অবধি যাদের জন্ম তাঁরা রয়েছে এই তালিকায়। রাশিচক্রের একাদশতম রাশি কুম্ভ। এই রাশির অধিকর্তা গ্রহ শনি। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে প্রচুর বাধা বিপত্তি থাকলেও এরা পরবর্তী সময়ে সুখ ভোগ করে। এরা অত্যন্ত ধর্ম পরায়ণ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও রকম আপোস এরা একেবারেই পছন্দ করেন না। তবে অনেক সময় গ্রহদোষের ফলে এদের বিপথে চালিত হতে দেখা যায়। অপরের বিপদে এরা না ভেবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রয়োজনে প্রিয়জনের পাশে থাকতে না পারার ভয় এদের তাড়িয়ে বেড়ায়।

মীন- ফেব্রুয়ারি ১৯ থেকে মার্চ ২০ অবধি যাদের জন্ম তাঁরা রয়েছে এই তালিকায়। রাশিচক্রের দ্বাদশতম রাশি মীন। এই রাশির অধিকর্তা গ্রহ বৃহস্পতি। এই রাশির জাতক-জাতিকারা উদার পরোপকারী ও সৎ প্রকৃতির। এদের মানসিক অস্থিরতা মাঝে মাঝেই এদের লক্ষ্যের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। প্রেমের জীবন সুখের না হলেও বৈবাহিক জীবন এদের অত্যন্ত সুখের। এরা অন্যায়ের সঙ্গে একেবারেই আপোস করতে পারে না। প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহুবার বিপদে পড়েছে। এদের জীবনের প্রধাণ লক্ষ্য প্রচুর অর্থ উপার্জন করা। এরা সাধারণত নম্র ও ধার্মিক প্রকৃতির হয়ে থাকে। এরা মনের দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল। জীবনের ব্যর্থতা এরা মেনে নিতে পারেন না। এটাই এদের ভয়ের অন্যতম কারন।