পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে , দীর্ঘদিন ধরে যখন অসুরদের বিশৃঙ্খলায় পৃথিবীতে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং অসুররা নিজেকে খুব শক্তিশালী হিসাবে ভাবতে শুরু করে। তখন তারা স্বর্গকে দখল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই অসুরদের রাজা ছিলেন মহিষাসুর। যিনি আসুরাদের সেনাবাহিনী নিয়ে স্বর্গে আক্রমণ করেছিলেন এবং বহু দেবতাকে হত্যা করেছিলেন। স্বর্গ প্রায় ধ্বংস হওয়ার অবস্থায় পৌঁছলে সমস্ত দেব দেবীরা ত্রিদেব অর্থাৎ ভগবান শিব, ভগবান বিষ্ণু এবং ভগবান ব্রহ্মার আশ্রয় নিয়েছিলেন। তখন দেবী দুর্গার শক্তি রূপে সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিটি দেবতা দুর্গার দেবীকে বিশেষ অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। এর পরে আদিশক্তি দুর্গা পৃথিবীতে এসে অসুরদের বধ করেছিলেন। মা দুর্গা মহিষাসুরের সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করেছিলেন। এই দিনটিকে দুর্গা অষ্টমী হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

আরও পড়ুন- কার্তিক মাস কেমন প্রভাব ফেলবে সিংহ রাশির উপর, দেখে নিন

দুর্গাষ্টমীর সময়-

মা দুর্গা কে শক্তির দেবী মনে করা হয়। হিন্দু বর্ষপঞ্জী অনুসারে, প্রতি মাসে শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিকে দুর্গাষ্টমী হিসাবে পালন করা হয়। এই দিনে উপোস রেখে ব্রত পালন করে দুর্গা মায়ের উপাসনা ও পুজো করা হয়। মহিলা এবং পুরুষ উভয়ই এই ব্রত পালন করতে পারেন। অষ্টমী তিথি শুরু বাংলার ৬ কার্তিক, ১৪২৭, শুক্রবার। ইংরেজির – ২৩ অক্টোবর সকাল ১১টা বেজে ৫৬ মিনিট ০৭ সেকেন্ড থেকে। অষ্টমী তিথির শেষ হবে বাংলার ৭ কার্তিক, ১৪২৭, শনিবার। ইংরেজির  ২৪ অক্টোবর সকাল ১১টা ২২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে।

 

 

দুর্গাষ্টমীর গুরুত্ব-

বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনটিতে দুর্গা মাতার উপাসনা ও উপবাস করলে জীবনের অনেক ঝামেলা দূর হয়। শাস্ত্র মতে, দুর্গাষ্টমীর উপাসনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যাদের জীবনে অর্থের সংকট রয়েছে, কোনওরকম রোগ বা শত্রুদের ভয় রয়েছে, তবে নিয়ম মেনে এই তিথিতে মায়ের আরাধনা করলে এই সমস্যাগুলি এড়ানো যেতে পারে। মায়ের আশীর্বাদ পেতে সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করা উচিত।

আরও পড়ুন- অষ্টমী তিথিতে কোন রাশির উপর কেমন প্রভাব পড়বে, দেখে নিন আপনার রাশিফল

দুর্গাষ্টমীর ব্রত পালন-

১) সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নানের পরে প্রথমে পুজো স্থানটি পরিষ্কার করুন। এর পরে শুরু করুন পুজোর জোগাড়। 
২) মা দুর্গা ফুল, মিষ্টি এবং ফল দিয়ে পুজো করুন। ধূপ এবং ঘি দিয়ে একটি প্রদীপ জ্বালান। এর পরে সূর্যদেবকে জল অর্পণ করুন। 
৩) মায়ের চরণে নতুন বস্ত্র, সাজসজ্জার দ্রব্য অর্পণ করুন সাধ্য মত
৪) মায়ের প্রণাম মন্ত্র উচ্চারণ করে মনের ইচ্ছার কথা জানান