গণেশ উৎসবের পরবর্তী পূর্ণিমা বা ভাদ্র মাসের শেষ দিনে এই পক্ষ সূচিত হয়।  উত্তর ভারত ও নেপালে ভাদ্রের পরিবর্তে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষকে পিতৃপক্ষ বলা হয়। এর পরেই শুরু হয় মহালয়া পক্ষের বা দেবী পক্ষের। এই পক্ষের পনেরোটি তিথির নাম হল প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, একাদশী, দ্বাদশী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী ও অমাবস্যা। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি তর্পণে ইচ্ছুক হন, তাকে তার পিতার মৃত্যুর তিথিতে তর্পণ করতে হয়।

আরও পড়ুন- মহালয়ার অমাবস্যা তিথিতে ৩৮ বছর পরে বিশেষ যোগ, জেনে নিন এর গুরুত্ব

জ্যোতিষশাস্ত্র মতে এই দিনে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে কাজ করা হয়। ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ অনুসারে দেবতাদের সন্তুষ্ট করার আগে একজন ব্যক্তির পিতৃপুরুষদের সন্তুষ্ট করা উচিত। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, যাদের পূর্বপুরুষরা খুশি তাদের জীবনে কোনও রকম বাধার সৃষ্টি হয় না। এটা বিশ্বাস করা হয় যে পূর্বপুরুষরা এই সময় পৃথিবীতে আছেন, তাই পিতৃপক্ষের শ্রাদ্ধ করে তারা তাদের আশীর্বাদ করে।এই তিথি অত্যন্ত পবিত্র। তাই এই দিনে ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ হয়। এই দিনে নির্দিষ্ট কিছু কাজ করা নিষিদ্ধও। মহালয়া অমাবস্যা তিথিতে এই নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ জীবনে ডেকে আনতে পারে চরম অর্থকষ্ট ও সমস্যা। জেনে নিন এদিনে কোনও কাজগুলি একেবারেই করা উচিত নয়।

আরও পড়ুন- শেষ হল পিতৃপক্ষ, মহালয়ার এই তিথি কোন রাশির উপর কেমন প্রভাব ফেলবে জেনে নিন

মহালয়া তিথি কখনই কাউকে অপমান করবেন না। এই দিনটিতে কোনও মহিলাকে অপমান করা উচিত নয়। এদের সম্পর্কে আপত্তিজনক কথা বলবেন না। মা দূর্গা মহিলাদের মধ্যেই বাস করেন এবং এই কাজে ক্রুদ্ধ হন। মহালয়া তিথিতে সম্ভব হলে নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন। এইদিনে পরিবারের কোনও সদস্য মদ্যপান করা এড়ানো উচিত। মহালয়া তিথিতে পরিবারের বাইরে কাউকে টাকা দেবেন না বা ধারও করবেন না। এটা বিশ্বাস করা হয় যে এই সময় প্রদত্ত টাকা ফেরত আসে না। উল্টে আপনার জীবনে দেখা দিতে পারে চরম সমস্যা।