অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমিতে ভূমি পুজোর মধ্য দিয়ে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে আজ। মহাপরাক্রম মন্দির তৈরির কাজ শুরু হবে, যার স্বপ্ন বহু দশক ধরে দেশ-বিদেশে লক্ষ লক্ষ রাম ভক্তরা দেখে এসেছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এদিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভগবান রাম, যাকে পুরুষোত্তম বলে অভিহিত করা হয়। রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছে সোমবার থেকেই। অযোধ্যায় ভূমি পুজোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। আজ বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ রামমন্দিরের ভূমিপুজোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

অযোধ্যায় বহু প্রতীক্ষিত এই ভূমিপুজোর জন্য সরযূ নদীর উপর ‘রাম কি পৈড়ী’ ঘাটটির সাজানো হয়েছে। এই ঘাটেই জ্বালানো হবে এক লক্ষ মাটির প্রদীপ। বারাণসীতে যেমন গঙ্গা আরতি হয়, ঠিক সে ভাবে সরযূর এই ঘাটেও হবে আরতি। ইতিমধ্যেই প্রধাণমন্ত্রী পৌঁছেগিয়েছেন অযোধ্যায়। সেখানে বেলা ১১ টা বেজে ৪০ মিনিটে হনুমানগড়িতে পুজো দেবেন তিনি। তারপর সেখান থেকে দুপুর বারোটায় রাম জন্মভূমিতে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখানে রামলালায় পুজো সেরে বৃক্ষরোপণ করবেন। বেলা সাড়ে বারোটায় শুরু হবে ভূমিপুজোর মূল অনুষ্ঠান।

আজ বেলা ১২টা বেজে ৪৪ মিনিট ৮ সেকেন্ডে মন্ত্রপূত ইট ভূমিপুজোর মূল স্থানে স্থাপনা করবেন নরেন্দ্র মোদী৷ শাস্ত্রমতে, মাত্র ৩২ সেকেন্ড সময়ই হল শুভ যোগ  'চক্র সুদর্শন মুহূর্ত'। তাই এই সময়ের মধ্যেই মন্দিরের ভিতের প্রথম ইট স্থাপন করে ফেলতে হবে। পঞ্জিকা মতে, এই সময়কালে গ্রহদের অবস্থান সম্পর্কে জানা গিয়েছে। রাহু তার উচ্চ রাশির নবম ঘরে থাকবে। উপাসনার সময় সেখানে নক্ষত্র হিসাবে বিবেচিত শটভিশা নক্ষত্র থাকবে। শতাব্দী নক্ষত্র সমস্ত ধরণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন বলে বিশ্বাসী। তাই এই শুভ যোগ বেছে নেওয়া হয়েছে।

মূল অনুষ্ঠানের সময় মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন মাত্র পাঁচ জন । এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত, উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ অঞ্চলের সভাপতি মহন্ত নৃত্য গোপাল দাস। রাম মন্দিরের ভূমি পুজোয় উপস্থিত প্রত্যেক অতিথির হাতে তুলে দেওয়া হবে রুপোর মুদ্রা।