সর্বোচ্চ স্তরে শিবকে সর্বোৎকর্ষ, অপরিবর্তনশীল পরম ব্রহ্ম মনে করা হয়। শিবের অনেকগুলি সদাশয় ও ভয়ঙ্কর মূর্তিও আছে। সদাশয় রূপে তিনি একজন সর্বজ্ঞ যোগী। শাস্ত্র মতে, সৃষ্টির পূর্বে একমাত্র শিবই বর্তমান ছিলেন। তিনিই লীলাচ্ছলে ব্রহ্মারূপে সৃষ্টি করেন, বিষ্ণুরূপ ধারণ করে পালন করেন আবার রুদ্ররূপ ধারন করে সংহার করেন। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-হর তারই সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের তিনটি রূপভেদ মাত্র। তাই এই তিন রূপের মধ্যে সত্বার কোন পার্থক্য নেই। তবু সনাতন রূপ পরম শিবরূপই মূলস্বরূপ। 

 শিবকে যোগ, ধ্যান ও শিল্পকলার দেবতাও মনে করা হয়। শাস্ত্র মতে শিবের পুজোর উপকরণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা সমৃদ্ধির সম্ভাবনা। আর সোমবারকে শিবের বার বলে মনে করা হয়। তাই সোমবারে বাড়িতে শিবের পুজো করে, আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে কীভাবে জীবনে ফিরিয়ে আনবেন সুখ ও সমৃদ্ধি জেনে নিন-

ওম নমোঃ শিবায় মন্ত্র উচ্চারন করে শিব লিঙ্গে জল ঢাললে আমাদের স্বভাব শান্ত ও স্নেহময় হয়। সেই সঙ্গে মনে করা হয় পরিবেশে সাম্যও আসে বলে ধারণা। বাড়িতে খুব বড় আকারের শিবলিঙ্গ রাখা একদম উচিত নয়। বাড়িতে যেখানে শিবলিঙ্গ রাখবেন, সেখানে প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন। শিবলিঙ্গকে ঘরে রাখতে চাইলে পবিত্রতার বিশেষ যত্ন নিন। শিবলিঙ্গ পুজো করার সময় ভক্ত যদি উত্তরের দিকে মুখ করে থাকেন তবে এটিকে সেরা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 

প্রতি সোমবার সকালে ও সন্ধ্যায় শিবলিঙ্গের পুজো করুন। শিবলিঙ্গের সামনে একটি প্রদীপ জ্বালান। সেই সঙ্গে ১০৮ বার 'ওম নমঃ শিবায় মন্ত্র' জপ করুন। মন্ত্র জপ করা উচিত রুদ্রাক্ষের জপমালা দিয়ে। সম্ভব হলে সোমবার নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন। নিঁখুত তিনটি বা পাঁচটি বেলপাতা অর্পণ করুন শিবলিঙ্গে। সাধ্যমত ফুল ফল অথবা বাতাসা বা নকুলদানা নৈবেদ্য দিয়ে স্মরণ করুন মহাদেবের। জীবনের সমস্ত বাধা বিপত্তি কাটিয়ে উঠতে পারবেন সহজেই।