বেদান্ত বৈদিক সনাতন ধর্মের ভিত্তি তথা বেদের শিরোভাগ; সম্পূর্ণ বেদান্তে শিব ছাড়া কারও সম্পর্কে এভাবে বলা হয়নি। শুধুমাত্র শিবের ক্ষেত্রেই বলা হয়েছে "শিব এব কেবলঃ"। শাস্ত্র মতে, সৃষ্টির পূর্বে একমাত্র শিবই বর্তমান ছিলেন। তিনিই লীলাচ্ছলে ব্রহ্মারূপে সৃষ্টি করেন, বিষ্ণুরূপ ধারণ করে পালন করেন আবার রুদ্ররূপ ধারন করে সংহার করেন। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-হর তারই সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের তিনটি রূপভেদ মাত্র। তাই এই তিন রূপের মধ্যে সত্বার কোন পার্থক্য নেই। তবু সনাতন রূপ পরম শিবরূপই মূলস্বরূপ। 

আরও পড়ুন- সংসার ভরিয়ে তুলুন সুখ ও সমৃদ্ধিতে, মকর সংক্রান্তিতে মেনে চলুন এই নিয়মগুলি

সর্বোচ্চ স্তরে শিবকে সর্বোৎকর্ষ, অপরিবর্তনশীল পরম ব্রহ্ম মনে করা হয়। শিবের অনেকগুলি সদাশয় ও ভয়ঙ্কর মূর্তিও আছে। সদাশয় রূপে তিনি একজন সর্বজ্ঞ যোগী। তিনি কৈলাস পর্বতে সন্ন্যাসীর জীবন যাপন করেন।আবার গৃহস্থ রূপে তিনি পার্বতীর স্বামী। তার দুই পুত্র বর্তমান। এঁরা হলেন গণেশ ও কার্তিক। ভয়ঙ্কর রূপে তাকে প্রায়শই দৈত্যবিনাশী বলে বর্ণনা করা হয়। শিবকে যোগ, ধ্যান ও শিল্পকলার দেবতাও মনে করা হয়। শাস্ত্র মতে শিবের পুজোর উপকরণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা সমৃদ্ধির সম্ভাবনা। তবে জেনে নেওয়া যাক মকর সংক্রান্তিতে শিবের পুজো করে, আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে কীভাবে জীবনে ফিরিয়ে আনবেন সুখ ও সমৃদ্ধি জেনে নিন-

আরও পড়ুন- জানুয়ারি মাস কেমন প্রভাব ফেলবে ধনু রাশির উপর, দেখে নিন

ওম নমোঃ শিবায় মন্ত্র উচ্চারন করে শিব লিঙ্গে জল ঢাললে আমাদের স্বভাব শান্ত ও স্নেহময় হয়। সেই সঙ্গে মনে করা হয় পরিবেশে সাম্যও আসে বলে ধারণা। ভাঙ অর্পণ করলে আমাদের চরিত্রের খামতি ও অসৎ ভাব কেটে যেতে পারে বলে মনে করা হয়। একইভাবে শিবলিঙ্গে কেশর অর্পণ করলে আমাদের সৌম্যতা বৃদ্ধি পায় বলে উল্লেখিত রয়েছে শাস্ত্রে। চিনি দিয়ে মহাদেবের পুজো করলে সুখ ও সমৃদ্ধি বাড়ে। পাশাপাশি দূর হয় দারিদ্র্যতাও। শিবলিঙ্গে আতর দিলে পবিত্র হয় মনের ভাব। এর ফলে ভুল কাজ করতে যাওয়া থেকেও রক্ষা পান শিব ভক্তরা। দুধ দিয়ে শিবের পুজো করলে শারীরিক মঙ্গল হয়। শরীর সুস্থ থাকে। রোগ দূর হয়। শিবলিঙ্গে চন্দন লাগালে আমাদের ব্যক্তিত্ব আকর্ষনীয় হতে পারে। মান-সম্মান ও যশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। ভগবান শঙ্করকে ঘি অর্পণ করলে আমাদের শক্তি বাড়তে পারে। পারিবারিক সমৃদ্ধি লাভও সম্ভব। দই দিয়ে পুজো করলে জীবনের সঙ্কট দূর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।