চাণক্য একজন দক্ষ শিক্ষকের পাশাপাশি দক্ষ অর্থনীতিবিদও ছিলেন। তিনি তার অর্থনীতির মাধ্যমে লোককে অর্থের গুরুত্ব বলেছিলেন এবং এর রচনা এবং ব্যয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছিলেন। চাণক্য বিশ্বাস করেছিলেন যে একজন ব্যক্তির সর্বদা অর্থের বিষয়ে গুরুতর হওয়া উচিত। কারণ জীবনে অর্থের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। চাণক্য নীতি অনুসারে ধনদেবতা দেবী লক্ষ্মী খুব চঞ্চল। সুতরাং অর্থের ক্ষেত্রে কারও গাফিলতি করা উচিত নয়। চাণক্য নীতি মতে, অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি এর সঠিক ব্যবহারও জানা উচিত। আপনি যদি সঠিকভাবে অর্থ ব্যবহার করতে না জানেন তবে অর্থের কোনও গুরুত্ব নেই।

চাণক্য নীতির এই পদটির মাধ্যমে, চানক্য বলতে চান যে, উপার্জিত অর্থ খরচ করা বা ব্যয় করা অর্থ সাশ্রয়ের মতো। একইভাবে, পুকুর বা পাত্রে ব্যবহৃত জল যদি ব্যবহার না করা হয় তবে এটি পচে যায়। চাণক্যের মতে অর্থের বুদ্ধি সহকারে ব্যবহার করা উচিত। অর্থ একজন ব্যক্তির চাহিদা পূরণের একটি মাধ্যম। নিজের এবং অন্যের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে অর্থ ব্যবহার করা উচিত। চাণক্যের মতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় অনুচিত। একজনের যতটুকু দরকার ততটাই অর্থ রাখা উচিত। বেশি অর্থ ঝামেলা সৃষ্টি করে। অর্থের ব্যবহার একটি শিল্প, এটি যদি না জানা থাকে তবে ধনী হওয়া অযথা। 

টাকা এলে অহংকার এড়িয়ে চলুন- চানক্যের মতে, টাকা আসলে মানুষের মনে কিছু ভুল মূল্যবোধও আসে। অর্থের ক্ষেত্রে অহংকার এড়ানো উচিত। অহংকারী ব্যক্তির বৃহত্তম শত্রু। যখন অর্থ আসে, একজন ব্যক্তির নম্র হওয়া উচিত এবং উপার্জিত অর্থটি মানব কল্যাণেও ব্যবহার করা উচিত। সুরক্ষার জন্য বিবেচনা করুন- চাণক্য নীতির এই বিষয়টির অর্থ হল, জ্ঞানী ব্যক্তি হলেন তিনিই যে কষ্ট ও খারাপ সময়ে অর্থ সঞ্চয় করে। চাণক্যের মতে অর্থ সুরক্ষিত করা উচিত, যারা অর্থের সুরক্ষা করেন, সময় এলে অর্থ তাদের রক্ষা করে। চাণক্যের মতে, সঙ্কটের সময়ে অর্থ সত্যিকারের বন্ধুর ভূমিকা পালন করে। সুতরাং অর্থ সাশ্রয় করা উচিত। উপভোগের জন্য অর্থ ব্যয় ভাল নয়। যে লোকেরা অর্থের গুরুত্ব বোঝে না, সময় এলে অর্থও এ জাতীয় মানুষকে গুরুত্ব দেয় না।