পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত কপিল মুনির আশ্রমে প্রতি বছর মক্রর সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত হয় এই ধর্মীয় উৎসব ও মেলা। গঙ্গা নদী ও বঙ্গোপসাগরের এই পবিত্র মিলনস্থলে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। এটি একদিকে তীর্থভূমি আবার অন্যদিকে মেলা প্রাঙ্গণ। এই দুইয়ের মেলবন্ধনে আবদ্ধ গঙ্গাসাগর-মেলা। শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপ। গঙ্গার মর্ত্যে প্রত্যাবর্তন ও সাগর রাজার পুত্রদের জীবন বিসর্জনের লোকগাঁথাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই বিখ্যাত তীর্থস্থান গঙ্গাসাগর।

আরও পড়ুন- বাড়িয়ে তুলুন আয়ের পরিমান, সামান্য এই বস্তুর সাহায্যে বদলান আপনার অর্থভাগ্য

কুম্ভমেলার পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম হিন্দু মেলা হল এই গঙ্গাসাগর মেলা । হিন্দুদের কাছে এটি অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান। প্রতিবছর মকর সংক্রান্তির দিন এখানে বহু পূণ্যার্থী তীর্থস্নান করতে আসেন।  বিহার-উত্তরপ্রদেশ থেকে আগত অবাঙালি পুণ্যার্থীদের ভিড়ই হয় সর্বাধিক। আগামী ১০ জানুয়ারি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এই মেলার। চলবে ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার অবধি। পূণ্যস্নানের সময় হল ১৫ জানুয়ারি বুধবার, সকাল ৮ টা বেজে ২৮ মিনিটে। এই সময় থেকেই শুরু হবে মকর সংক্রান্তির পূণ্য স্নানের যোগ। এই যোগ থাকবে ১৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল ৮ টা বেজে ২৮ মিনিট অবধি। 

আরও পড়ুন- বছরের প্রথম মাস কেমন কাটবে বৃষ রাশির, দেখে নিন

এখানে ছিল সাংখ্যদর্শনের আদি-প্রবক্তা কপিলমুনির আশ্রম। পুরাণ অনুযায়ী, একবার কপিলমুনির ক্রোধের আগুনে সাগর রাজার ষাট হাজার পুত্র ভস্মীভূত হন এবং তাদের আত্মা নরকে নিক্ষিপ্ত হয়। সাগরের পৌত্র ভগীরথ স্বর্গ থেকে গঙ্গাকে নিয়ে এসে সাগরপুত্রদের ভস্মাবশেষ ধুয়ে ফেলেন এবং তাঁদের আত্মাকে মুক্ত করে দেন। মহাভারতের বনপর্বে তীর্থযাত্রা অংশে গঙ্গাসাগর তীর্থের উল্লেখ রয়েছে। পালবংশের রাজা দেবপালের একটি লিপিতেও তাঁর গঙ্গাসাগর-সঙ্গমে ধর্মানুষ্ঠান করার কথা বলা হয়েছে। লোক-কাহিনী অনুযায়ী এখানে কপিল মুনির একটি আশ্রম ছিল। এক সময় সেটি সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে আশ্রমটিকে কেন্দ্র করে তার ভক্তদের সমাগম বাড়তে থাকে। প্রত্যেক বছর জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি মকরসংক্রান্তি বা পৌষ-সংক্রান্তির পূণ্যতীথিতে লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। এই সমাগমকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিরাট মেলা যার নাম গঙ্গাসাগর-মেলা।