বাড়ির মূল গেটে কোন দেবতার ছবি রাখা উচিত তা নিয়ে ৯০% মানুষ ভুল করেন। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, প্রধান দরজায় ভুলেও শিবের ছবি বা শিবলিঙ্গ রাখা উচিত নয়, এতে সংসারে বৈরাগ্য ও আর্থিক ক্ষতি হয়।
আমরা বাঙালিরা একটু ধার্মিক, বাড়ির মূল গেটের ওপর বা দেওয়ালে গণেশ, শিব, মা কালীর টাইলস বা ফটো লাগিয়ে রাখি। ভাবি, দেবতা বাড়ি পাহারা দেবেন, অশুভ শক্তি, নজর দোষ ঢুকবে না। ভাবনাটা ঠিক, কিন্তু প্রয়োগটা অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। আর বাস্তুশাস্ত্র বলছে, দেবতার ছবি ভুল জায়গায় রাখলে শুভর বদলে অশুভ ফল হয়, উল্টে সংসারে অশান্তি, রোগ, টাকা আটকে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে দেবাদিদেব মহাদেবকে নিয়ে এই ভুলটা সবচেয়ে বেশি হয়।
ভুলেও কেন মূল গেটে শিবের ছবি বা শিবলিঙ্গ রাখবেন না? - বাস্তুর কঠিন সত্য
পুরাণ ও বাস্তুশাস্ত্র মতে, মহাদেব হলেন বৈরাগ্য, ত্যাগ, ধ্যান ও সংহারের দেবতা। তিনি শ্মশানবাসী, তিনি সংসার থেকে দূরে, ধ্যানমগ্ন যোগী। তাঁর স্থান সবসময় নির্জন, অত্যন্ত পবিত্র, শান্ত কোণে। যেমন - বাড়ির ঠাকুরঘর বা উত্তর-পূর্ব কোণ (ঈশান কোণ), যা শিবের নিজের দিক।
অন্যদিকে বাড়ির প্রধান দরজা বা মূল গেট হল সবচেয়ে অশুদ্ধ ও কোলাহলপূর্ণ জায়গা। সেখানে দিনরাত মানুষের যাতায়াত, জুতো-চপ্পল রাখা, ধুলো-ময়লা, বাইরের নেগেটিভ এনার্জির প্রবেশ। এই জায়গায় শিবের ছবি বা শিবলিঙ্গ রাখলে তাঁর অপমান হয় বলে মনে করা হয়। এর ফলে কী হয়? বাস্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়িতে বৈরাগ্য ভাব চলে আসে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংসার থেকে মন উঠে যাওয়া, কাজে অনীহা, আর্থিক উন্নতিতে বাধা, এমনকি সন্তান ধারণে সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই ভুলেও মেইন গেটের বাইরে, ওপরে বা ভেতরে শিবলিঙ্গ, শিবের রুদ্র রূপ, তাণ্ডব রূপের ছবি, বা শ্মশানের ছবি রাখবেন না। শিবকে রাখুন মনের মন্দিরে, ঠাকুরঘরে।
তাহলে মূল গেটে কোন দেবতার ছবি রাখলে ভাগ্য খুলবে? ৩টি সেরা উপায়
বাস্তুশাস্ত্র মতে, প্রধান দরজার রক্ষক হিসাবে ৩ জন দেবতা সবচেয়ে শুভ ও শক্তিশালী:
১. সিদ্ধিদাতা গণেশ - সব বাস্তু দোষের মহৌষধ: বাস্তু মতে, প্রধান দরজার জন্য গণেশের চেয়ে শুভ আর কিছু নেই। গণেশ হলেন বিঘ্নহর্তা, প্রথম পূজ্য। তিনি বাড়ির সমস্ত বাধা, বিপত্তি, নজর দোষ নিজে শুষে নেন। কীভাবে রাখবেন? বাড়ির মূল গেটের ভেতরের দিকে, বাইরের দিকে মুখ করে গণেশের ছবি বা ছোট মূর্তি লাগান। সবচেয়ে ভালো নিয়ম হল - দরজার দু'দিকে দুটো গণেশ রাখা, যাতে একটার পিঠ আরেকটার দিকে থাকে। কখনও এমনভাবে রাখবেন না যাতে গণেশের পিঠ বাড়ির ভেতরের দিকে থাকে, এতে দারিদ্র্য আসে। বসে থাকা, আশীর্বাদী গণেশ সবচেয়ে শুভ।
২. সংকটমোচন হনুমানজি - অশুভ শক্তির যম: আপনার বাড়িতে কি অশান্তি লেগেই থাকে? মনে হয় কেউ ক্ষতি করছে? তাহলে মূল দরজার ওপর পঞ্চমুখী হনুমানের ছবি বা সিঁদুর পরা বজরংবলীর আশীর্বাদী ভঙ্গির ছবি লাগান। হনুমানজি থাকলে ভূত-প্রেত, কালো জাদু, শত্রুর কুনজর থেকে বাড়ি ১০০% রক্ষা পায়। বিশেষ করে আপনার দরজা যদি দক্ষিণ দিকে হয়, তাহলে হনুমানজির ছবি বাধ্যতামূলক, কারণ দক্ষিণ দিক যমের দিক, এখানে হনুমানজি রক্ষা করেন। তবে ভুলেও শোবার ঘরের দরজায় হনুমানজির ছবি রাখবেন না।
৩. মা লক্ষ্মী ও কুবের - ধন-সম্পদের জন্য: যদি আপনার প্রধান দরজা উত্তর দিকে হয়, যা কুবেরের দিক, তাহলে সেখানে মা লক্ষ্মীর পদ্মের ওপর বসে থাকা, দু'হাতে টাকা বর্ষণ করছেন এমন ছবি রাখলে ধন-সম্পদ উপচে পড়বে। দাঁড়িয়ে থাকা লক্ষ্মী রাখবেন না, বসে থাকা লক্ষ্মীই স্থায়ী। সঙ্গে কুবের দেবের ছবিও রাখতে পারেন।
ছবি লাগানোর আগে এই ৩টি বাস্তু নিয়ম না মানলে সব বৃথা: - দরজায় কখনও যুদ্ধের ছবি, কান্নার ছবি, মহাভারতের ছবি, রুদ্র রূপের দেবতার ছবি রাখবেন না। - ছবি সবসময় পরিষ্কার রাখুন, ধুলো পড়তে দেবেন না, রোজ একটু গঙ্গাজল ছিটিয়ে মুছে দিন। - ছবি এমন উচ্চতায় লাগান যাতে মাথা নিচু করে ঢুকতে না হয়, মাথার ওপরে থাকবে।
তাই আজই বাড়ি ফিরে দেখে নিন, আপনার মূল গেটে ভুল করে শিবের ছবি লাগিয়ে রাখেননি তো? থাকলে আজই সরিয়ে ঠাকুরঘরে রাখুন। আর দরজার রক্ষায় নিয়ে আসুন গণেশ ও হনুমানজিকে। দেখবেন, কয়েক মাসের মধ্যেই সংসারে সুখ, শান্তি, টাকা-পয়সার জোয়ার ফিরে আসবে।


