হিন্দুধর্মের আদিতম ধর্মগ্রন্থ চার বেদ – ঋক্, সাম, যজুঃ ও অথর্ব। এগুলির মধ্যে ঋগ্বেদ প্রাচীনতম। ১৫০০ থেকে ৮০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে এই গ্রন্থগুলি রচিত হয়। পল্লব ও গুপ্তযুগ পর্যন্ত এগুলি গুরুশিষ্য পরম্পরায় মৌখিক প্রথার মাধ্যমে প্রচলিত ছিল। এর পর থেকে মৌখিক প্রথার সঙ্গে সঙ্গে লিপিবদ্ধ করার প্রথাও চালু হয়। সেই গ্রন্থতেও উল্লেখ ছিল এই চিহ্নের। 

আরও পড়ুন- সনাতন হিন্দু ধর্মে সকল মন্ত্র কেন ওঁ দিয়ে শুরু হয়, জেনে নিন এই ধ্বনির গুরুত্ব

স্বস্তিক একটি সংস্কৃত শব্দ। সাধারণ অর্থে কল্যাণ বা মঙ্গল বোঝায়। এর নির্দিষ্ট কোন অর্থ নেই। যেহেতু সূর্য নিজেই সৌভাগ্য, সৃষ্টি এবং জীবনের প্রতীক, তাই সূর্যদেবতার সাথে স্বস্তিকার একধরনের সম্পর্ক টানতে চেয়েছেন অনেকেই। তবে সকল দিক এবং মত অনুসারেই স্বস্তিক শুভের চিহ্ন। হাজার বছর ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের অনুসারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছে প্রতীকটি। সংস্কৃত শব্দ স্বস্তিকা। সাধারণ অর্থে কল্যাণ বা মঙ্গল। হাজার বছর ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের অনুসারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছে প্রতীকটি।

আরও পড়ুন- ধনতেরাসে কিনুন এর মধ্যে যে কোনও একটি, ফল পান হাতনাতে

যে কোনও মঙ্গল অনুষ্ঠানে, মন্দিরে এমনকি হিটলারের পতাকাতেও এই চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছিল। গবেষকদের মতে এই চিহ্ন প্রাক আর্য যুগের। ১১ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো এই চিহ্ন। ভারতীয় সংস্কৃতির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক এই চিহ্ন। হিন্দু শাস্ত্র মতে, প্রাচীণ এই চিহ্ন দরজায় বা বাড়ির মূল প্রবেশ দ্বারে থাকা শুভ। 

সনাতন ধর্ম অনুযায়ী, পরিবারের  সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক এই চিহ্ন। তাই বাড়ির মূল দরজার এই চিহ্ন ব্যবহার করলে পরিবারে সুখ শান্তি বজায় থাকে।

পরিবারের সৌভাগ্য বজায় রাখতে দরজায় একইসঙ্গে ঠাকুরের স্থানেও এই চিহ্ন আঁকার পরামর্শ দেন বাস্তু বিশেষজ্ঞরা।

তবে যেই স্থানে চিহ্ন আঁকবেন, সেই স্থান যেন পরিষ্কার থাকে। যাতায়াতের পথে থেকে উঁচুতেই এই চিহ্ন রাখতে হবে।

জ্যোতিষীদের মতে, যাত্রা শুরু করার আগে বা কোনও শুভ কাজে যাওয়ার আগে এই চিহ্ন দেখে বেরনো খুব শুভ।