E100 হল প্রায় সম্পূর্ণ ইথানল দিয়ে তৈরি জ্বালানি। অন্যদিকে, E85-এ থাকে প্রায় ৮৫ শতাংশ ইথানল এবং ১৫ শতাংশ পেট্রোল। বর্তমানে ব্যবহৃত E20 পেট্রোলে থাকে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রোল। এই ধরনের উচ্চ ইথানলযুক্ত জ্বালানিতে চলার জন্য গাড়ির ইঞ্জিন ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিশেষভাবে তৈরি হতে হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে ভারতে ১০০ শতাংশের কাছাকাছি ইথানল জ্বালানিতে চলতে সক্ষম গাড়ির পথ আরও পরিষ্কার হল। E100 জ্বালানি ব্যবহার করতে পারে, এমন ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির জন্য মোটর ভেহিকেলস রুলসে সংশোধন এনেছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক। ২৬ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সংশোধনের ফলে এই ধরনের গাড়ির জ্বালানি, নির্গমন ও পরীক্ষার নিয়মে E100-কে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। E100 হল প্রায় সম্পূর্ণ ইথানল দিয়ে তৈরি জ্বালানি। অন্যদিকে, E85-এ থাকে প্রায় ৮৫ শতাংশ ইথানল এবং ১৫ শতাংশ পেট্রোল। বর্তমানে ব্যবহৃত E20 পেট্রোলে থাকে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রোল। এই ধরনের উচ্চ ইথানলযুক্ত জ্বালানিতে চলার জন্য গাড়ির ইঞ্জিন ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিশেষভাবে তৈরি হতে হয়। তাই সাধারণ পেট্রোল গাড়িতে E100 ব্যবহার করা যাবে না।
কী কী বদল আনল কেন্দ্র?
- E100-কে স্বীকৃতি: সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকেলস রুলস, ১৯৮৯-এ সংশোধন করে E85-এর পাশাপাশি E100-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- নির্দিষ্ট গাড়িতে ব্যবহার: E85 ও E100 ব্যবহার করতে পারবে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট জ্বালানির জন্য তৈরি ও অনুমোদিত ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি।
- গাড়ির ওজনের সীমা বৃদ্ধি: সংশোধিত বিধানের আওতায় নির্দিষ্ট হালকা পেট্রোল ও ডিজেল গাড়ির মোট ওজনের সীমা ৩,০০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৩,৫০০ কেজি করা হয়েছে।
আপনার পুরনো পেট্রোল গাড়িতে E100 ভরতে পারবেন?
না, সাধারণ পেট্রোল বা E20-তে চলা গাড়িতে সরাসরি E100 ব্যবহার করা যাবে না। গাড়িটি E100 ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি এবং প্রয়োজনীয় শংসাপত্রপ্রাপ্ত না হলে এই জ্বালানি ব্যবহার করা উচিত নয়। নিয়মের এই পরিবর্তন সব পেট্রোল গাড়িকে E100 ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না।
কোন কোন সংস্থা তৈরি করছে ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি?
মারুতি সুজুকি, টাটা মোটরস, টয়োটা এবং হুন্ডাইয়ের মতো সংস্থাগুলি ভারতে ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। মারুতি সুজুকির Wagon R Flex Fuel মডেলটি E20 থেকে E100 পর্যন্ত ইথানল-পেট্রোল মিশ্রণে চলার উপযোগী বলে জানানো হয়েছে।
কেন ইথানল জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র?
ভারতের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ইথানলের ব্যবহার বাড়াতে পারলে আমদানি করা জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বাস্তবে কতটা সাশ্রয় হবে, তা নির্ভর করবে জ্বালানির দাম, গাড়ির মাইলেজ, পরিকাঠামো এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচের উপর।
