AI Hallucination News: AI হ্যালুসিনেশন কী এবং কেন ChatGPT, Gemini-এর মত AI চ্যাটবট ভুল তথ্য দেয়? জানুন এর কারিগরি কারণ, বিপদ এবং কীভাবে এই সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়। 

AI Hallucination News: একটি প্রশ্ন করুন—উত্তর আসবে ঝরঝরে ভাষায়, আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। মনে হবে, যেন বহু বছরের অভিজ্ঞ কোনও বিশেষজ্ঞ কথা বলছেন। এটাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের সবচেয়ে বড় শক্তি। আবার এই আত্মবিশ্বাসই কখনও কখনও হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় বিপদ। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই এই আত্মবিশ্বাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ভুল, অসম্পূর্ণ বা সম্পূর্ণ কাল্পনিক তথ্য। প্রযুক্তি দুনিয়ায় এই সমস্যার নাম—এআই হ্যালুসিনেশন। 

এআই হ্যালুসিনেশন আদতে কী?

এআই হ্যালুসিনেশন বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন কোনও এআই সিস্টেম বাস্তব তথ্য যাচাই না করেই এমন কিছু উপস্থাপন করে, যা আদৌ সত্য নয়। বিষয়টি আরও জটিল হয় এই কারণে যে, ভুল তথ্যটিও শোনায় একেবারে বিশ্বাসযোগ্য। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে—কোনটা সত্য, আর কোনটা কেবল ভাষার খেলা। এই সমস্যার মূল শিকড়ে রয়েছে এআই-এর কাজ করার পদ্ধতি। এআই কোনও মানুষের মতো চিন্তা করে না, যুক্তি বিশ্লেষণ করে না বা সত্য-মিথ্যা আলাদা করে বোঝে না।

 এটি মূলত বিপুল পরিমাণ লেখা বিশ্লেষণ করে শেখে—কোন শব্দের পর কোন শব্দ বসলে বাক্যটি স্বাভাবিক শোনায়। ফলে কোনও প্রশ্নের নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য উত্তর যদি তার ‘জানা’ না থাকে, তখন সে সম্ভাব্য একটি উত্তর তৈরি করে ফেলে। এই সম্ভাবনাই অনেক সময় বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আরও একটি বড় সমস্যা হল তথ্যের সময়কাল। বহু এআই মডেল সর্বশেষ ঘটনা বা আপডেটেড ডেটার সঙ্গে সংযুক্ত নয়। ফলে সাম্প্রতিক কোনও ঘটনা, নতুন আইন, চিকিৎসা নির্দেশিকা বা আর্থিক নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভুল তথ্য আসার ঝুঁকি থেকেই যায়। এর সঙ্গে যোগ হয় প্রশিক্ষণ ডেটার সীমাবদ্ধতা—যেখানে ভুল, পক্ষপাত বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে তার প্রতিফলনও এআই-এর উত্তরে দেখা যায়।

 এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন—চিকিৎসা, আইন, বিনিয়োগ বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এআই-এর ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা বিপজ্জনক হতে পারে। একটি ভুল পরামর্শ বাস্তবে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে সমস্যার সমাধান নিয়েও কাজ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় হচ্ছে রিট্রিভাল-অগমেন্টেড জেনারেশন (RAG) প্রযুক্তি, যেখানে এআই উত্তর দেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। পাশাপাশি ‘গ্রাউন্ডিং’-এর মাধ্যমে এআই-কে শেখানো হচ্ছে—যদি নিশ্চিত না হও, তাহলে “জানি না” বলতে শিখো। 

ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া বা হিউম্যান ফিডব্যাকও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এক নীরব সহচর হয়ে উঠেছে—যে কাজ সহজ করে, সময় বাঁচায় এবং তথ্যের দরজা খুলে দেয়। কিন্তু এই প্রযুক্তিরও নিজস্ব সীমাবদ্ধতা আছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। এআই আমাদের হয়ে ভাবতে পারে না, বিচার করতে পারে না, কিংবা দায়িত্ব নিতে পারে না। সে কেবল আমাদের দেওয়া প্রশ্নের ভাষাগত সম্ভাব্য উত্তর সাজিয়ে দেয়। এই কারণেই এআই-এর দেওয়া তথ্যকে চূড়ান্ত সত্য ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। 

বিশেষ করে যেখানে মানুষের জীবন, অর্থ বা ভবিষ্যতের প্রশ্ন জড়িত—সেখানে এআই হতে পারে সহায়ক, কিন্তু সিদ্ধান্তকারী নয়। একটি ক্লিকেই পাওয়া উত্তর যতই নির্ভুল শোনাক না কেন, বাস্তব যাচাইয়ের বিকল্প এখনও মানুষের যুক্তিবোধই। প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, এআই হ্যালুসিনেশনের সমস্যাও ধীরে ধীরে কমবে—এমন আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। নতুন প্রযুক্তি, উন্নত তথ্যভান্ডার এবং মানবিক তত্ত্বাবধান এই পথকে আরও মসৃণ করবে। 

কিন্তু ততদিন পর্যন্ত আমাদেরই সচেতন থাকতে হবে। কারণ ভুল তথ্য শুধু প্রযুক্তির ব্যর্থতা নয়, অন্ধ বিশ্বাসের ফলও হতে পারে। শেষ পর্যন্ত এআই কোনও অলৌকিক জাদু নয়—এটি একটি শক্তিশালী যন্ত্র মাত্র। সেই যন্ত্র কতটা সঠিকভাবে কাজে লাগবে, তা নির্ভর করছে ব্যবহারকারীর বিবেচনা, সচেতনতা এবং দায়িত্ববোধের ওপরই।