সাড়ে ন-মাস বাদে পাকিস্তানের জেলে বন্দি থাকার পর আজকের দিনেই স্বাধীন সার্বভৌম দেশে ফিরে আসেন মুজিবর রহমান। আজ থেকে ৪৮ বছর আগে। তাই শুক্রবার সেখানে এই দিনটিকে পালন করা হচ্ছে, সরকারি ও বেসরকারিভাবে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, মেডিকেল কলেজেও দিনটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে পালন করা হচ্ছে। এই উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে আসার পর, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী বিমান অবতরণের ঐতিহাসিক মূহূর্তটি দেখতে পাবেন দর্শকরা।

১৯৭১ সালে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে পূ্র্ব পাকিস্তান। বাঙালি অধ্যুষিত পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ বঞ্চনার বিরুদ্ধে ক্ষেপে ওঠেন সেখানকার বাঙালিরা। এর আগে মাতৃভাষার অধিকারের জন্য শহীদ হন পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাভাষী মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানের সামরিকবাহিনী বাঙালি নিধনের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারপরই জনযুদ্ধের আদলে শুরু হয়ে যায় স্বাধীনতার লড়াই। এরপর জনপ্রিয় বাঙালি নেতা আওয়ামি লিগের মুজিবর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। ২৫  মার্চের রাতে চলে গণহত্যা। ঢাকায় অসংখ্য বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও ছাত্রকে হত্যাকে করা হয়।

এদিকে পাকিস্তানের জেলে বন্দি অবস্থায় মুজিবের ওপর চলে অকথ্য অত্যাচার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ে এগিয়ে আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি। শেষ অবধি জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। সাড়ে ন-মাস জেলে বন্দি থাকার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলেদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমান। ওইদিন বিকেলেই রেসকোর্স ময়দানে বক্তৃতা দেন মুজিব। তার পর থেকেই এই দিনটিকে মুজিবের প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

ওই সময়ে বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষ বাংলাদেশের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে আসেন বহু উদ্বাস্তু মানুষ। বিশ্বের প্রথম সারির ফোটোগ্রাফাররা বাংলাদেশে গিয়ে ছবি তোলেন। হাতে বন্দুত কাঁখে বাচ্চা নিয়ে পেনি টুইডির একটি ছবি ভাইরাল হয়। উদ্বাস্তু শিবিরে তোলা রঘু রাইয়ের ছবিও আলোড়ন তোলে।

এই বছর মুজিবের জন্ম শতবর্ষ পালন হতে চলেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বছরটিকে মুজিববর্ষ বলে ঘোষণা করা হচ্ছে।