১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই প্রয়াত হন উত্তম কুমার। মহীরুহের পতনে তখন দিশেহারা বাংলা সিনেমা জগত। ঠিক তখনি একরাশ স্বপ্ন নিয়ে টলিউডে আগমন ঘটেছিল সদ্য কৈশোর পেরোনো এক যুবকের। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তাপস পালের। কলেজে পড়াকালীন নজরে পড়ে যান স্বনামধন্য পরিচালক তরুণ মজুমদারের। মাত্র ২২ বছর বয়সে মুক্তি পায় তাপসের প্রথম ছবি 'দাদার কীর্তি'। প্রথম ছবিতেই তার অভিনয় ভূয়সী প্রশংসা পায়। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাপস পালকে। একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। 

সাহেব, দুরুদক্ষিণা, বলিদান, কড়ি দিয়ে কিনলাম, অনরাগের ছোঁয়া, পারাবত প্রিয়া, ভালোবাসা ভালোবাসা-র মতো একের পর এক সুপারহিট ছবি ছিল তাঁর ঝুলিতে। সাহেব ছবিতে তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের জন্য পাল ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারও। দুরুদক্ষিণ ছবিতে কালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দি মনে গেঁথে গিয়েছিল বাঙালি দর্শকদের।  সেই সময় বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে  চিরঞ্জিং ও প্রসেনজিতের সঙ্গে তাঁর কড়া টক্কর চলত। 

তবে কেবল বাংলা ছবিতেই আটকে ছিলেন না তাপস পাল। একটা সময় বলিউডেও গিয়েছিলেন নিজের ভাগ্যপরীক্ষায়।  ১৯৮৪ সালে বলিউডে অভিষেক হয়  তাপস পালের। ১৯৮৬ সালে রাজশ্রী প্রোডাকশনের ছবি 'অবোধ'-এ নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সেই ছবিতে তাপসের সঙ্গে ছুটি বেঁধেছিলেন খোদ মাধুরী দীক্ষিত। ছবিটি বক্স অফিসে তেমন না চললেও, তাপস ও মাধুরীর জুটি কিন্তু প্রশংসা কুড়িয়েছিল দর্শকদের। 

নিজের সুদীর্ঘ কেরিয়ারে তরুণ মজুমদার, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, প্রভাত রায়ের মতো একাধিক খ্যাতনামা পরিচালকদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তাপস পাল। দেবশ্রী রায়, শতাব্দী রায়, ইন্দ্রাণী হালদারের সঙ্গে জুটি বেঁধে উপহার দিয়েছেন একের পর এক হিট ছবি। তবে এই শক্তিশালী অভিনেতাকে শেষবার পর্দায় দেখা গিয়েছিল ২০১৩ সালে খিলাড়ি ছবিতে অভিনয় করতে। ২০১৮ সালে জামিন পাওয়ার পর রুপোলি পর্দায় ফের ফেরার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন তাপস পাল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে আর তাঁর সেই ইচ্ছে পূরণ হলো না।