হিন্দি সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি ছিল না। কিন্তু তারপরেও  রাজ্যের গণ্ডী পার করে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন গোটা দেশের অলিতে গলিতে। সোনার কেল্লার ফেলুদার স্মৃতি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে জায়সালমীর। তেমনই জয়বাবা ফেলুনাথের স্মৃতি রয়েছে কাশীর অলিগলিতে। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, তপন সিনহার ছবিতে সৌমিত্র চট্টপাধ্যায়ের উজ্বল উপস্থিতি ছিল। সেভাবে তাঁকে দেখা যায়নি ঋত্বিক ঘটকের সিনেমায়। ১৯৬৯-এ অপুর সংসার দিয়ে রুপলী পর্দায় যাত্রা শুরু হয়েছিল। তারপরের দশকগুলি ইতিহাস। উত্তম কুমারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেন তিনি। শুভেন্দু, নির্মাল কুমার, বসন্ত চৌধুরীর মত অভিনেতাদের মাঝখানে নিজের একটা পাকা জায়গা করেছিলেন তিনি।


সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ফিল্মোগ্রাফিতে মাত্র দুটি হিন্দি সিনেমা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেনা পাওনা ছোট গল্প অবলম্বনে নিরুপমা, আর যোগেন চট্টোপাধ্যায়ের হিন্দুস্থানী সিপাহি। তবে একটি হিন্দু টেলিফ্লিমের পরিচালক ছিলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে তিনি তৈরি করেছিলেন স্ত্রী কা পত্র।  আরব সাগরের হাওয়া তাঁর কেরিয়ারে না লাগলেও  তুখড় অভিনয়ের দাপটে তাঁর ঝুলিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরষ্কার জমা রয়েছে। বাঙালির সবথেকে লম্বা সুপারস্টার বললে খুব একটা ভুল হবে না। তাঁর উচ্চতা ছিল ৬ ফুট ১১ ইঞ্চি। বাংলাভাষা তাঁর প্রাণ ছিল বললেও একাধিকবার জানিয়েছেন। ভাষা নিয়ে চর্চার পাশাপাশি জীবনের শেষপ্রান্তে এসেই কণ্ঠ সাধনার বিষয় ছিলেন অত্যান্ত সচেতন। 

মঞ্চ, সিনেমার পাশাপাশি টেলিভিশনেও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের একটা পাকা জায়গা ছিল। কোনওটাই বিজ্ঞাপণের জগতের তাঁর বিচরণ ছিল অবাধ। কোনও মাধ্যমকেই ছোট বলে মনে করতেনা তিনি। নতুন যেকোনও কিছুতেই তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। বাংলার কোনও অভিনেতাই তাঁরমত অভিনয় জীবন নিয়ে হয়তো এত পরীক্ষা নিরীক্ষা করেননি। হাজারও পরীক্ষার পরেও তিনি ছিলেন সফল। তা এক কথায় স্বীকার করে নেবে আট থেকে আশি। ওয়েব সিরিজের জমানাতেও বড়দের পাশাপাশি ছোটদের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয়। এখনও ফেলুদা বললে ছোটরা এককথায় সৌমত্র চট্টোপাধ্য়ায়কেই দেখিয়ে দেবে।