শিল্পীর মৃত্যু হয় না। পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে তার পরেও তাঁরা হাজার হাজার বছর বেঁচে থাকেন। মানুষের স্মৃতিতে, মনে, ভালো লাগায়, খারাপ লাগায় চিরসঙ্গী হয়ে রয়ে যান শিল্পীরা। এমনই এক জন চিরস্মরণীয় শিল্পীর আজ জন্মদিন। কিশোর কুমার। খুব আনন্দে কিংবা প্রেমে মন ভাঙলে আজও তাঁর গান শুনে নিজেদের অনুভূতিগুলিকে যেন মোলায়েম পরতের মধ্যে ধরে রাখা যায়। তাঁর গান শুনেই যেন আলোর গতিতে পৌঁছে যাওয়া যায় পুরনো দিনে। মরচে পড়া স্মৃতিকে যেন জলজ্যান্ত করে তোলে তাঁর গান। আজ সেই আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায় তথা কিশোর কুমারের জন্মদিন।

১৯২৯ সালের ৪ অগাস্ট মধ্যপ্রদেশের এক বাঙাললি পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন কিশোর কুমার। আজ তাঁর ৯০ তম জন্মবার্ষিকী। কিশোর আসলে তাঁর ডাক নাম ছিল। ভাল নাম আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায়। বম্বে টকিজ ছবিতে দাদা অশোক কুমেরের সঙ্গে গান গেয়েছিলেন। সেই সময়ে নিজের কিশোর নামটাই ব্যবহার করেছিলেন তিনি। পরে সেই নামটাই থেকে যায়। 

সঙ্গীতে প্রথাগত প্রশিক্ষণ না নিয়েও গানের জগতে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কিশোর কুমার কে এল সায়গলকে নিজের সবচেয়ে বড় আদর্শ মানতেন। ১৯৪৮ সালে জিদ্দি ছবিতে প্রথম একটি গানে প্লেব্যাক করেন তিনি। তবে শুধু গান নয়। অভিনেতা হিসেবেও যে  তিনি পারদর্শী, তা প্রমাণ করেছেন কিশোর। এমনও হয়েছে, শরারত ও রাগিনী ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। আর তাঁর লিপে গান হেয়েছেন মহম্মদ রফি। তাঁর অভিনীত বেশ কিছু ছবি হিট ছিল বক্স অফিসে। তাঁর বিপরীতে বৈজন্তিমালা, মধুবালা ও সায়রা বানুর মতো অভিনেত্রী কাজ করেছেন। 

বাংলা, হিন্দি, ভোজপুরি, অসমিয়া-সহ মোট ২০০০-এরও বেশি গান গেয়েছেন কিশোর কুমার। ৮ বার পেয়েছেন ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। তাঁর গানে লিপ দিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, উত্তম কুমার, রাজেশ খান্না, সঞ্জীব কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্য়ায়-সহ আরও অনেকে। শচীন দেববর্মন, রাহুল দেববর্মন, গুলজার, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, পুলক বন্দ্যোপাধ্য়ায়-সহ আরও বহু সঙ্গীত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। 

কিশোর কুমারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনা কিছু কম হয়নি। তাঁর মহিলা অনুরাগীর সংখ্যা কিছু কম ছিল না। তিনি মোট ৪ বার বিয়ে করেছেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী হলেন রুমা গুহঠাকুরতা। এর পরে ১৯৬০ সালে মধুবালাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন তিনি। ১৯৬৯ সালে মধুবালার মৃত্যু হয়। ১৯৭৬ সালে অভিনেত্রী যোগিতা বালির সঙ্গে বিয়ে হয়। সেই বিয়ে দু বছর টেকে। এর পরে লীনা চন্দভারকারকে বিয়ে করেন তিনি। লীনা কিশোরের মৃত্যুর সময় পর্যন্ত সঙ্গে ছিলেন। ১৯৮৭ সালে ১৩ অক্টোবর সঙ্গীত দুনিয়ার অপূরণীয় ক্ষতি হয়। সেদিন মৃত্যু হয় কিংবদন্তি গায়কের। কিন্তু আজও গানের মাধ্যমে সঙ্গীতপ্রেমীদের জীবনে একই ভাবে বিরাজমান কিশোর কুমার।