সত্যজিৎ রায়কে যেমন সারা বিশ্ব 'পথের পাঁচালী' র জন্য এক নামে চেনে। তার অমর সৃষ্টি যেন আজও সকলের হৃদয়ে অক্ষত হয়ে রয়েছে। ঠিক তেমনই  'ভুবন সোম', 'পদাতিক' 'নীল আকাশের নীচে' 'বাইশে শ্রাবণ'-সহ আর বেশ কিছু ছবি মৃণালকে সারাজীবন মনে রেখে দেবে। সালটা ১৯৫৫। 'রাতভোর' ছবি দিয়ে সিনেমায় হাতেখড়ি মৃণালের। যদিও সেই ছবি খুব একটা সাফল্য পায়নি। তবে সেখান থেকে যাত্রা শুরু মৃণালের। ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের 'ভুবন সোম' তিনি। আজ তার শুভ জন্মদিন। ৯৭-এ পা দিলেন কিংবদন্তী পরিচালক মৃণাল সেন।  

আরও পড়ুন-গৌরাঙ্গ থেকে মিঠুন , মৃণালের 'মৃগয়া' খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছিল ডিস্কো ডান্সারকে...

বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মৃণাল সেন। বিশ্ব দরবারে বাংলা চলচ্চিত্রকে এই জায়গায় নিয়ে আসার পিছনে তার অবদান অনস্বীকার্য। সত্যজিৎ রায়, ঋত্বির ঘটকের পর মৃণাল সেনই এমনই একজন পরিচালক  যার হাত ধরে চলচ্চিত্র জগতে এক নতুন প্রবর্তন ঘটেছিল। সেই বিখ্যাত ব্যক্তিত্বকে জন্মদিনে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানালেন টলিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। দেখে নিন তার পোস্টটি।

 

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

প্রচলিত ধারার বাইরে বেরিয়ে এসে, তথাকথিত নিয়ম ভেঙে ছবি বানানোয় বিশ্বাস করতেন। কখনো রূঢ় বাস্তব বা কখনো মানুষের জীবন যুদ্ধের কঠোর কাহিনী, তাঁর চলচ্চিত্রে বার বার ফুটে উঠেছে প্রতিবাদের বার্তা। তাঁর চিত্রনাট্য বদলে দিয়েছিলো বাংলা ছবির ধারা। তাই মৃণাল সেন আজও পদাতিক। আজ তাঁকে স্মরণ করে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম।

A post shared by Prosenjit Chatterjee (@prosenstar) on May 13, 2020 at 11:34pm PDT

 

প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, 'প্রচলিত ধারার বাইরে বেরিয়ে এসে, তথাকথিত নিয়ম ভেঙে ছবি বানানোয় বিশ্বাস করতেন। কখনো রূঢ় বাস্তব বা কখনো মানুষের জীবন যুদ্ধের কঠোর কাহিনী, তাঁর চলচ্চিত্রে বার বার ফুটে উঠেছে প্রতিবাদের বার্তা। তাঁর চিত্রনাট্য বদলে দিয়েছিলো বাংলা ছবির ধারা। তাই মৃণাল সেন আজও পদাতিক। আজ তাঁকে স্মরণ করে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম।' মুহূর্তের মধ্যে প্রসেনজিতের পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

মৃণাল সেন এমনই একজন পরিচালক ছিলেন, যিনি বিশ্বাস করতেন বিনোদনের জন্য সিনেমা নয়, ছবির মাধ্যমেও মানুষকেও শিক্ষিত করা যায়। সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে মাথায় রেখেই তিনি এগিয়ে চলেছেন। বাড়ির উঠোন থেক ময়দান, গলি থেকে রাজপথ, বস্তি থেকে অট্টালিকা তার সিনেমায় ট্র্যাজিক তৈরি করেছে। তার সিনেমাতে বাম দর্শন বিশেষ ভাবে ফুটে উঠেছিল।  'আকালের দর্শন' হোক বা 'কলকাতা ট্রিলজি'। ছাত্রকালে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু কখনওই কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হননি। চল্লিশের দশকে ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং এর মাধ্যমেই সমমনাভাবাপন্ন মানুষদের কাছাকাছি আসেন।  তার ঝুলিতে রয়েছে 'ভুবন সোম', 'পদাতিক' 'নীল আকাশের নীচে' 'বাইশে শ্রাবণ', 'মৃগয়া', ' আকালের সন্ধানে', 'পুনঃশ্চ', 'পরশুরাম', 'একদিন প্রতিদিন'-এর মতো অসামান্য ছবি। তার শেষ ছবি 'আমার ভুবন' যেটি ২০০২ সালে মুক্তি পেয়েছিল। সব মিলিয়ে মোট ২৭ টি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি ও ১৪ টি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি ও ৪ টি তথ্যচিত্র পরিচালনা করেছেন মৃণাল সেন। বাংলা ছাড়াও হিন্দি, ওড়িয়া, তেলেগু ভাষাতেও চলচ্চিত্র নির্মান করেছিলেন মৃণাল সেন। সালটা ১৯৭৬। 'মৃগয়া' ছবিতেই ডিস্কো ডান্সার মিঠুন চক্রবর্তীর অভিষেক ঘটেছিল।  জাতীয় আন্তর্জান্তিক স্তরে বহু পুরস্কারও রয়েছে মৃণাল সেনের ঝুলিতে।