সাতাশ বছর আগে লন্ডনের হেন্ডারসন ল্যাবরেটরিতে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে নষ্ট হয়েছিল ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপরাজিত’ ও  ‘অপুর সংসার’-এর মূল নেগেটিভ। ভাবা হয়েছিল সর্বনাশ যা হওয়ার তা হল। কিন্তু দু’বছর আগে কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে রবীন্দ্রসদনে তিনটি ছবির প্রদর্শনিই দর্শকদের চমকে দিয়েছিল। একেবারে নতুন করে ফিরে পাওয়া গিয়েছিল পুড়ে যাওয়া সেই অবিস্মরণীয় অপু-ট্রিলজি।

পুড়ে যাওয়া, ঝলসে যাওয়া, কোনও কোনও জায়গায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া নেগেটিভ থেকে অপু, দুর্গা, সর্বজয়া, ইন্দির ঠাকরুন অবিকল ফিরে এসেছেন। সেই রেলগাড়ি, অপু-দুর্গা দৌড়াচ্ছে কাশবনের বুক চিরে। ইন্দির ঠাকরুনের ‘দিন তো গেল সন্ধ্যা হল’ গান, অবিস্মরণীয় মৃত্যুদৃশ্য সবই যথাযথ রয়েছে।  ক্রাইটেরিয়ন এবং অ্যাকাডেমি অফ মোশন পিকচার্সের বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন,  ইতালির বোলোনিয়াতে একটি সংস্থা পুড়ে যাওয়া ফিল্মকে ফিরিয়ে আনার জাদু জানে।

এবার আর কোনও দুর্ঘটনা নয়। আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র উৎসাহীদের বেশ কিছুদিন ধরেই প্রশ্ন জাগছিল, রঙিন হলে কেমন দেখাবে ‘পথের পাঁচালি’। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেতে খুঁজতে তাঁরা প্রকাশ করেছে ফোর-কে রেজুলেশনের রঙিন ‘পথের পাঁচালী’-র একটি ভিডিও।

আমেরিকার মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই ঘটনাটি সম্প্রতি ঘটিয়েই ছেড়েছেন। সেই দলের মধ্যে আছেন বাংলাদেশি ভিডিও সম্পাদক রাকিব রানাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, এই কর্মকাণ্ডটি আসলে কোয়ারেন্টাইনে পরীক্ষামূলক কাজ হিসেবে করা হয়েছে।

রঙিন ‘পথের পাঁচালি’-র প্রকাশিত পৌনে ৩ মিনিটের ভিডিও-র একটি নমুনা পাওয়া যাচ্ছে। যেখানে অপু, দুর্গা, সর্বজয়া ও হরিহর উপস্থিত হয়েছে অতি চেনা সাদা-কালোর ফর্ম ভেঙে। বিখ্যাত কাশবন ও ট্রেনের দৃশ্যের তুলনামূলক ফুটেজও জায়গা পেয়েছে সেখানে। জানা গিয়েছে, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই টেকনোলজির সাহায্যে এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবেই এই টেকনোলজির ব্যবহার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। অনেকেই এই নতুন গবেষণাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। আবার অনেকের মতে, ‘পথের পাঁচালি’ সাদা কালোতেই ভাল। এই ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় খুশি নন তারা।

হিসেব মতো ৬৫ বছর পেরিয়ে আসা কালজয়ী ছবি ‘পথের পাচালি’-র মানুষজন, পথঘাট, বনপ্রান্তরের প্রাণস্পন্দন এতকাল ধরে সাদা-কালো আলো-ছায়াতেই ফুটে উঠেছে। আজ যদি সত্যি সত্যি সে ছবির গায়ে রঙ লাগে, কেমন হবে তা সেটা ভাবতে একটু ভয়ও হয় আবার কৌতূহলও জাগে। অনেকে ভিডিওটির কাশবন, আকাশের রং সবচেয়ে সুন্দর হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।