বাঙালির ফেলুদা বললেই সবার আগে সৌমিত্রর নাম মাথায় আসে।  স্ক্রিনে হোক কিংবা বইয়ের পাতায় সত্যজিতের ফেলুদা গল্পে প্রথম থেকেই একজন আইকনিক হলেন  সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ফেলুদা ভক্তরা সকলেই একথা জানেন। কারণ সত্যজিৎ পুত্র সন্দীপ রায়ও নিজেই জানিয়েছেন, কীভাবে তার বাবা সৌমিত্রকে বসিয়ে স্কেচ করতেন।

সত্যজিৎ রায়ের এই গোয়ান্দাকে গিয়ে বাঙালির যথেষ্ঠ আবেগ রয়েছে। কারণ একটাই সত্যজিতের ছবিতে তিনিই প্রথম ফেলুদা। সিনেমা বাইরে বইয়ের পাতাতেও তার চেহারা স্কেচ করতেন সৌমিত্র। চুরুটের টান থেকে চাঁদরের আইকনিক স্টাইল বাঙালির যুবকের কাছে আইডল ফেলুদা। আজও ফেলুদা বলতেন একজনের কথা সবার আগে মনে পরে তিনি হলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

 

 

ফেলুদার কথা উঠলেই একের পর এক প্রসঙ্গ উঠে আসে।  গোয়েন্দাকাহিনির হিরো প্রদোষচন্দ্র মিত্র ওরফে ফেলুদার চরিত্রে যে তাকে নেওয়া হতে পারে তা কখনওই ভাবেননি সৌমিত্র। সত্যজিৎ রায় পরিচালিক ফেলুদার প্রথম উপন্যাস সোনার কেল্লার চলচ্চিত্রায়ণের সময়  অভিনেতাকে ডেকে পাঠান পরিচালক। নাম ভূমিকায় অভিনয় করার কথা জেনেই রীতিমতো উত্তেজিত হন সৌমিত্র। পরবর্তীকালেও বিভিন্ন পত্রিকায় ও বই-এ প্রকাশিত ফেলুদার গল্পে প্রধান চরিত্রে তার অবয়ব ফুটিয়ে  তোলেন সত্যজিৎ। আর এভাবেই জয় বাবা ফেলুনাথ ছবি তৈরির আগেই গোয়েন্দা ফেলুদা দর্শকদের মনে নিজের জায়গা তৈরী করে নেন।

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে  নক্ষত্রপতন। একটানা দীর্ঘ ৪০ দিনের লড়াই শেষ। ফেলুদা আর নেই। যত সময় এগোচ্ছিল ততই যেন পরিস্থিতি আরও সঙ্কটজনক হচ্ছিল ফেলুদার। টানা ৪০ দিন ধরে চলছিল জীবন-মৃত্যুর লড়াই। অদম্য ফাইটিং স্পিরিট নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন বাঙালির ফেলুদা। অবশেষে আর পারলেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি এগোচ্ছিল খারাপের দিকে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, তাদের সব রকম চেষ্টা সত্বেও কোনও কিছুই কাজ হচ্ছে না। কিন্তু  লড়াকু মানুষটির থেকে আরও একবার কামব্যাকের আশা করেছিলেন সকলে। কিন্তু শেষরক্ষা আর হল না।