যত সময় এগোচ্ছে ততই যেন পরিস্থিতি আরও সঙ্কটজনক হচ্ছে ফেলুদার। করোনা কাবু করেছে বর্ষীয়ান অভিনেতাকে। দীর্ঘ কয়েকদিন ধরেই করোনার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। গত সোমবারই অভিনেতার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে।পরের দিন সকালেই বেলেভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অভিনেতাকে।

তারপর থেকেই চলছে লাগাতার চিকিৎসা। বর্তমানে কোভিড এনসেফেলোপ্যাথিতে ভুগছেন ৮৫ বছর বয়সী অভিনেতা। ইতিমধ্যেই দ্বিতীয়বার ফের প্লাজমা থেরাপি দিতে হয়েছে সৌমিত্রকে।  এর আগেও একবার প্লাজমা থেরাপি করা হয়েছিল অভিনেতাকে। সম্প্রতি হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় প্লাজমা থেরাপি করার পর আগের থেকে অনেকটা ভাল আছেন অভিনেতা। রবিবারের চেয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি দেখা দিয়েছে।  যার ফলে আশার আলো দেখেছিলেন চিকিৎসকেরা। ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে সৌমিত্রর। শ্বাসের সমস্যার কারণেই গতকাল রাতেই বাইপ্যাপ সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে সৌমিত্রকে।

গত প্রায় ৪৮ ঘন্টায় সৌমিত্রর স্নায়বিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। স্নায়ুঘটিত সমস্যার পাশাপাশি যে জ্বর এসেছিল তা কিছুতেই কমছে না। আর তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় চিকিৎসকের। গতকাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, স্নায়ুঘটিত সমস্যার উন্নতি না হলে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে ভেন্টিলেশনেও দিতে হতে পারে অভিনেতাকে। মানসিক বিভ্রমও ছিল। বর্তমানে সেই সমস্যাও কাটিয়ে উঠতে পারছেন না অভিনেতা। গতকাল এমআরআই হলেও তাতে কোনও গঠনগত সমস্যা মেলেনি। নতুন জ্বর আসা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

বয়স ৮৫। তবুও করোনাকে বুড়ো আঙুলকে দেখিয়ে দাপটের সঙ্গে শুটিং ফ্লোরে হাজির হয়েছিলেন টলিপাড়ার বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। মুখে মাস্ক, সামাজিক দূরত্ব সমস্তটা বজায় রেখেই শুটিং চালিয়ে গিয়েছিলেন  তিনি। তবে শেষমেষ আর শেষরক্ষা হল না। শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছ অভিনেতার। তবে অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও এখন পুরোপুরি সঙ্কটমুক্ত হননি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। গত শুক্রবার থেকে অভিনেতার শারীরিক পরিস্থিতি আচমকা খারাপ হতে শুরু করে। এরপরই  সৌমিত্রকে ভেন্টিলেশনে স্থানান্তরিত করা হয়। 

শনিবার প্রথম দফায় প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয় অভিনেতাকে, তারপরও রবিবার পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়। এবং রবিবারও দ্বিতীয় দফায় তাঁর প্লাজমা থেরাপি চলে। সৌমিত্রর চিকিৎসায় ১৬ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রয়েছেন দুইজন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকও। প্রতি মুহূর্তেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক পরিস্থিতি মনিটার করছেন চিকিৎসকেরা। সৌমিত্রর প্রস্রাবেও ই-কোলাই পাওয়া গিয়েছে। দেহে সোডিয়ামের মাত্রাও বেড়েছে। তার সুস্থ হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সেই কো-মর্বিডিটি এবং বয়স।