একের পরে এক ট্রলিং-এর শিকার হচ্ছেন বলিউডের খিলাড়ি অক্ষয় কুমার। এবার তাঁর একটি পুরনো ভিডিও সোশ্য়াল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আর সেই ভিডিও নিয়েই আবার ফ্যাঁসাদে পড়েছেন অক্ষয়। 

ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে অক্ষয় কানাডা-র টোরন্টোর একটি ইভেন্টে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলছেন, টোরন্টোই আমার বাড়ি। চলচ্চিত্র জগৎ থেকে অবসর নেওয়ার পরে টোরন্টোতেই আমি পাকাপাকি ভাবে সেটল করব। 

এই ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা অক্ষয়ের দেশভক্তি নিয়ে প্রশ্ন করছেন। সোশ্য়াল মিডিয়া জুড়ে তাঁকে নিয়ে চলছে একের পরে এক ব্য়ঙ্গ-রসিকতা।  অক্ষয়ের অধিকাংশ ছবি, যেমন এয়ারলিফট, টয়লেট এক প্রেম কথা, প্য়াডম্য়ান, কেসরি ইত্য়াদিতে দেশপ্রেমের বার্তা দেয়। অফস্ক্রিনও তিনি দেশপ্রেমিক ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন। আর সেখানেই এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় বেজায় সমস্য়ায় পড়েছেন খিলাড়ি। 

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অরাজনৈতিক সাক্ষাৎকার নিয়েও ট্রলের শিকার হয়েছেন অক্ষয়। এর পরে ভোট না দেওয়া নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় আক্কিকে। মুম্বইয়ের একটি চলচ্চিত্র উত্সবে অক্ষয় কুমারকে এক সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেন, কেন তিনি ভোট দেননি। এই প্রশ্ন শুনেই চটে যান অক্ষয়। রেগে গিয়ে ওই সাংবাদিককে বলেন, ''চলিয়ে বেটা। (কেটে পড়ুন)''

এমনকি, মোদীর হয়ে এক সময়ে তিনি ভোট দেওয়ার গুরুত্ব নিয়েও মতামত দিয়েছিলেন। অক্ষয় বলেছিলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েই গণতন্ত্রের দিকে এগোনো যায়। দেশ ও ভোটারদের মধ্যে সম্পর্ক এমন হওয়া উচিত যেন ভোটিং পদ্ধতিটা প্রেমকথার মতো হয়। 

আর এত কিছুর পরেও লোকসভা নির্বাচনে ভোট না দিয়ে নেটিজেনের ব্য়ঙ্গের শিকার হয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে অক্ষয়ও একটি টুইট করে বলেন, আমি কখনও অস্বীককার করিনি যে আমি কানাডার পাসপোর্টের অধিকারী। আবার এটাও সত্য়ি যে গত সাত বছর আমি কানাডায় যাইনি। আমি ভারতে কাজ করি আর সমস্ত কর দিই। ভারতের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ভালবাসা এতদিন আমায় প্রমাণ করতে হয়নি। কিন্তু আমার নাগরিকত্বের বিষয়টি যেভাবে দেখানো হচ্ছে, তাতে আমি সত্য়িই হতাশ। 

প্রসঙ্গত, অক্ষয়ের জন্ম হয় অমৃতসরে এবং বর্তমানে তিনি মুম্বই নিবাসী। কিন্তু অক্ষয়ের পাসপোর্ট কানাডার। এক সময়ে সেই দেশ থেকে তাঁকে নাগরিকত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়। অক্ষয় সেই প্রস্তাব গ্রহণও করেন। আর তাই ভারতের নাগরিকত্ব হারিয়ে ভোটাধিকারও হারান তিনি।