দিন কয়েক আগেই ফোন করেছিলেন বাবাকে। বলেছিলেন তাঁকে পাটনার আশপাশে কোনও পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে নিয়ে যাবেন। কিন্তু বাড়ি এলেন না সুশান্ত সিং রাজপুত। বদলে এদিন সকালে একটা ফোন এল। দিল ছেলের মৃত্যুসংবাদ। আর তারপর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়লেন সুশান্ত সিং-এর বাবাও। তবে তিনি আত্মঘাতি হয়েছেন এই কথা তাঁর নিকটজনদের কেউ মানছেন না।

মুম্বইয়ে নিজের বাসভবনে বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে  পড়তেই এদিন সকাল থেকে তাঁর পাটনার বাড়িতে প্রচুর মানুষ ভিড় জমান। প্রত্য়েকেই এসেছিলেন সুশান্তের বাবা ও তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে। কিন্তু, তাঁর বাবার সঙ্গে কারোরই দেখা হয়নি। ছেলের এই আকস্মিক মৃত্যুসংবাদে তিনি এতটাই বিপর্যস্ত এবং তাঁর শরীর এতটাই খারাপ, যে কারোর সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থায় তিনি নেই। চিকিৎসকরা তাঁর স্বাস্থ্যের তত্ত্বাবধান করছেন।

সুশান্ত সিংরা আদতে বিহারের পূর্ণিয়া জেলার বাধ্রা কোঠির মালদিহার বাসিন্দা। তবে দীর্ঘদিনই পাটনার রাজীব কলোনীতে থাকে তাঁর পরিবার। সেখানেই সুশান্তের শৈশব কেটেছে। বন্ধুদের নিয়ে রাজীব কলোনীর রাস্তায় রাস্তায় ক্রিকেট খেলতেন তিনি। পাটনার সেই বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক লক্ষ্মী দেবী জানিয়েছেন, এদিন সকালে টেলিফোনে তাঁদের সুশান্তের মৃত্যু সংবাদ জানানো হয়। সুশান্ত সিং-এর দিদি থাকেন চণ্ডীগড়ে। তাঁকেও খবর দেওয়া হয়েছে। তিনি পাটনার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

মাত্র কয়েক মাস আগে, বিহারে এসেছিলেন তিনি। খাগদিয়া জেলায় তাঁর মামমাবাড়ি। সেখানে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেই মামাবাড়ির এলাকার লোকজন, মালদিহার বাসিন্দারা বা সুশান্তের ছেলেবেলার পাড়া রাজীব কলোনীর বাসিন্দারা কেউই মেনে নিতে পারছেন না সুশান্ত সিং আত্মঘাতি হয়েছেন। ৩৪ বছরের এই অভিনেতার মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন তাঁরা। বস্তুত বান্দ্রার বাড়ি থেকে পুলিশ কোনও সুইসাইড নোট পায়নি। তাই তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও রহস্য রয়েছে।

"এমএস ধোনি, দ্য আনটোল্ড স্টোরি", "চিচোর" এর মতো অনেক ছবিতে অভিনয় করেছেন সুশান্ত সিং-এর প্রাথমিক পড়াশোনা পাটনার সেন্ট কেয়ার্নস হাই স্কুলে। তিনি দিল্লি কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন। তাঁর চার বোনও রয়েছে।