সঞ্জয় লীলা বনসালির 'লাভ অ্যান্ড ওয়ার' ছবির শ্যুটিং নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি দিন ধরে চলছে, যার ফলে ছবির বাজেটও ৩৫০ কোটি থেকে বেড়ে ৪২৫ কোটিতে পৌঁছেছে। রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট এবং ভিকি কৌশল অভিনীত এই ছবির শ্যুটিং এখনও শেষ হয়নি।
সঞ্জয় লীলা বনসালি যখন আলিয়া ভাট, রণবীর কাপুর আর ভিকি কৌশলকে এক ফ্রেমে এনে 'লাভ অ্যান্ড ওয়ার' ঘোষণা করেছিলেন, তখন থেকেই দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু দু'বছর কেটে গেলেও ছবির শ্যুটিং এখনও শেষ হয়নি। তাহলে বনসালির এই বহু প্রতীক্ষিত ছবির কাজ ঠিক কোথায় আটকে আছে? 'লাভ অ্যান্ড ওয়ার' একটি রোম্যান্টিক পিরিয়ড ড্রামা, যা বনসালির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় এবং ব্যয়বহুল ছবি হতে চলেছে। শ্যুটিংয়ের সময়সীমা বেড়ে যাওয়া, বাজেট লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়া এবং মুক্তির তারিখ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, দেরিটা ঠিক কেন হচ্ছে।
বনসালির 'লাভ অ্যান্ড ওয়ার' ছবিতে কেন এত দেরি?
ভ্যারাইটি ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সঞ্জয় লীলা বনসালির 'লাভ অ্যান্ড ওয়ার' শেষ হতে এখনও অনেক দেরি। রণবীর কাপুর, ভিকি কৌশল এবং আলিয়া ভাট অভিনীত এই ছবির শ্যুটিংয়ে অনেক নতুন জিনিস যুক্ত হয়েছে। প্রথমে ঠিক ছিল ১২০ দিনে শ্যুটিং শেষ হবে, কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রায় ১৭৫ দিন শ্যুটিং হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও, এখনও তিনটি গান এবং একটি বড় ড্রামাটিক দৃশ্যের শ্যুটিং বাকি। এর জন্য আরও অন্তত ৫০ দিন সময় লাগতে পারে। রিপোর্ট বলছে, ছবির যুদ্ধের দৃশ্যগুলো ফুটিয়ে তুলতে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় লেগেছে। বনসালি নিজেও প্রতিটি ফ্রেম নিখুঁত করতে চাইছেন এবং ছবির জাঁকজমকের সঙ্গে কোনও আপস করতে রাজি নন।
বেড়েই চলেছে ছবির বাজেট
ভ্যারাইটি ইন্ডিয়ার ওই একই রিপোর্ট অনুযায়ী, ছবির প্রাথমিক বাজেট ছিল ৩৫০ কোটি টাকা। কিন্তু এখন তা বেড়ে প্রায় ৪২৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে ছবির প্রধান তারকাদের পারিশ্রমিক ধরা নেই। শোনা যাচ্ছে, রণবীর কাপুর, ভিকি কৌশল এবং আলিয়া ভাট পারিশ্রমিকের বদলে ছবির লাভের অংশীদারিত্বের বিকল্প বেছে নিয়েছেন।
বনসালি এই প্রজেক্টের বেশিরভাগ টাকাই নিজে বিনিয়োগ করেছেন, সঙ্গে সারেগামা ইন্ডিয়ারও একটি বড় অংশ রয়েছে। খরচ বাড়লেও, ছবি মুক্তির আগেই প্রযোজকরা বেশ ভালো অঙ্কের টাকা তুলে নিয়েছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, নেটফ্লিক্স প্রায় ১৩০ কোটি টাকায় ছবির পোস্ট-থিয়েট্রিক্যাল স্ট্রিমিং স্বত্ব কিনেছে। অন্যদিকে, মিউজিক এবং স্যাটেলাইট স্বত্ব থেকে প্রায় ৭০-৮০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। অর্থাৎ, ছবি মুক্তির আগেই বিভিন্ন স্বত্ব বিক্রি করে ২০০ কোটি টাকার বেশি আয় হয়ে গেছে।


