বলিউডে ফের ইন্দ্রপতন। চলে গেলেন বর্ষীয়ান বাঙালি চিত্রপরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায়। ১৯৬৯ সালে ‘সারা আকাশ’ ছবি দিয়ে শুরু করেছিলেন সিনেমা পরিচালনা। এই ছবিটির জন্য ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার পান তিনি। তারপর একে একে তাঁর ঝুলি ভরেছে ‘পিয়া কে ঘর’, ‘খাট্টা মিঠা’, ‘চক্রব্যুহ’, ‘রজনীগন্ধা’, ‘বাতো বাতো মে’, ‘এক রুকা হুয়া ফাসলা’, ‘চিতচোর’-এর মতো কালজয়ী ছবিতে। হিন্দি ছবির পাশাপাশি বাংলা ছবি ‘হঠাৎ বৃষ্টি’, ‘চুপ চুপি’, ‘টক ঝাল মিষ্টি’ র মতো ছবিও তিনি নির্মাণ করেছিলেন।

দূরদর্শনে প্রচারিত জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ এবং ‘রজনি’ তৈরি হয় তাঁরই পরিচালনায়। তবে বাসু চট্টোপাধ্যায় জীবন শুরুকরেছিলেন মুম্বই থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ট্যাবলয়েড ব্লিৎজ-এর অঙ্কনশিল্পী এবং কার্টুনিস্ট হিসাবে। স্বাধীনভাবে চলচ্চিত্র পরিচালনা শুরুর আগে রাজ কাপুর ও ওয়াহিদা রহমান অভিনীত ‘তিসরি কসম’ ছবিতে তিনি বাসু ভট্টাচার্য-এর সহকারী হিসাবে কাজ করেন। 

ঋষিকেশ মুখার্জি, বাসু ভট্টাচার্যের সঙ্গে বাসু ও বলিউডে অন্য ধারার ছবির পথিকৃৎ হিসেবে ধরা হয়। মুম্বই শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প উঠে আসত তাঁর ছবিতে। যে ছবিগুলো বাংলা-সহ সর্বভারতীয় স্তরে সমাদৃত হয় এবং তাঁর ছবির গান আজও আইকনিক। সলিল চৌধুরী থেকে রাজেশ রোশনরা তাঁর ছবিতে সুরারোপ করেছেন। সাহিত্য থেকে মৌলিক গল্প– সব ধরনের বাঙালি ঘরানার ছবি বানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ বাসু চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ মোদির, ট্যুইট করলেন অমিতাভ বচ্চন, অরিন্দম শীলও.

পরিচালক তথা ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যান্ড টিভি ডিরেক্টরস অ্যাশিয়েশনের সভাপতি অশোক পন্ডিত টুইট করে জানানন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি কিংবদন্তি পরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায় আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ওঁনার শেষকৃত্য আজ সম্পন্ন হবে সান্তাক্রুজ শ্মশানে দুপুর ২টো নাগাদ। এটা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা আপনাকে খুব মিস করব স্যার’।

কিংবদন্তী এই পরিচালকের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ ট্যুইট করে মুখ্যমন্ত্রী  লিখলেন, ‘কিংবদন্তী পরিচালক  ও চিত্রনাট্যকার বাসু চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকাহত ৷  ছোটি সি বাত, চিতচোর এবং টেলিভিশনে রজনী, ব্যোমকেশ বক্সী-র মতো অনবদ্য সৃষ্টি তাঁর ৷ পরিচালকের পরিবারের প্রতি রইল সমবেদনা ৷’ 

আরও পড়ুনঃ প্রেমে ভেঙেছিল মন, কী কারণে অক্কিকে ছেড়েছিলেন প্রেমিকা, খোলসা করলেন নিজেই

পরিচালক মধুর ভণ্ডারকর এ দিন টুইটারে লেখেন, “প্রবাদপ্রতিম পরিচালকের মৃত্যুতে গভীত ভাবে শোকাহত। তাঁর সুক্ষ্ম রসবোধ এবং সহজ করে ছবির গল্প বলার ক্ষমতা সারা জীবন মনে থেকে যাবে।”