আজ ১০০ তম জন্মশতবার্ষিকী খ্যাতনামা পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের। এক বাঙালি কিংবদন্তি যিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ  চলচ্চিত্রকার ।  অস্কারজয়ী পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গ প্রয়াত কিংবদন্তি বলি অভিনেতা ঋষি কাপুরের যোগসূত্র ছিল তার বাবা রাজকাপুর। ঋষির জীবনের প্রথম ছবি 'ববি' বলি ইতিহাসের মাইলস্টোন। সালটা ১৯৭৩। 'ববি' সিনেমার প্রিমিয়ার শো হয়েছিল কলকাতার মেট্রো সিনেমায়। সেই শো-তে হাজির ছিলেন অস্কারজয়ী পরিচালক সত্যজিৎ রায়। বাবা রাজ কাপুরই প্রথম সত্যজিতের সামনে নিয়ে গিয়েছিলেন ঋষিকে। সত্যজিতকে সামনে থেকে দেখে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলেন অভিনেতা ঋষি।

আরও পড়ুন-মধ্যরাতে আইসিইউ-তে ডেকে রণবীরকে কী বলেছিলেন ঋষি, ভাইরাল হল ছবি...

একটি সাক্ষাৎকারে ঋষি জানিয়েছিলেন, 'সত্যজিৎকে দেখার পরই রাজ কাপুর ঋষিকে বলেছিলেন প্রণাম করো, ইনি আমাদের সকলের গুরু।' বাবার কথামতো প্রণামও করেছিলেন পরিচালক সত্যজিতকে। সত্যজিৎ প্রাণভরে আশীর্বাদও করেছিল চকোলেট বয় ছোট্ট ঋষিকে। ঋষি আরও জানিয়েছিলেন, সত্যজিতের ' নায়ক' ছবিটি তার এতটাই ভাল লেগেছিল যে তিনি তিনবার ছবিটি দেখেছিলেন। 'ববি'  প্রিমিয়ারের সেই দুলর্ভ ছবি নিজেই শেয়ার করেছিলেন ঋষি। এবং ছবির ক্যাপশনেও সত্যজিৎকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন।

 

 

আরও পড়ুন-সত্যজিতকে আকড়েই দিনযাপন প্রসেনজিতের, সযত্নে লালিত করছেন তার স্মৃতিকে...

বরাবরই কলকাতাকে ভালবাসতেন ঋষি। কলকাতার সঙ্গে তার যেন সম্পর্কটাও খুব গভীর ছিল। ঋষির প্রথম ছবি ' মেরা নাম জোকার' -এর প্রিমিয়ার হয়েছিল কলকাতার লোটাস সিনেমায়। সেখানেই প্রথম বাবা রাজ কাপুরের হাত ধরে তার কলকাতায় আসা। এই ছবির জন্য সেরা শিশুশিল্পীর জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন ঋষি। কিন্তু সেই পুরস্কার পাওয়ার আগেই কলকাত থেকেই বিএফজে-র বিশেশ পুরস্কার পেয়েছিল ঋষি। এমনকী একটি সাক্ষাৎকারে  তিনি জানিয়েছিলেন, তার প্রিয় জায়গা দার্জিলিং।  বাঙালি অভিনেত্রী সুপ্রিয়া চৌধুরীকে তিনি হলি অভিনেত্রীদের জায়গায় বসিয়েছিলেন।  উত্তম কুমারের সঙ্গেও তার দারুণ সম্পর্ক ছিল। এমনকী মহানায়কের ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতেও একাধিকবার এসেছেন ঋষি। বলিউডের এভারগ্রীণ অভিনেতা আজ আর নেই। সকলকে আলবিদা করে গত ৩০ এপ্রিল চিরনিদ্রায় চলে গেছেন ঋষি কাপুর। তার  মৃত্যুতে  ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ শোকস্তব্ধ।