ব্যোমকেশ, বাঙালির বড় আদরের চরিত্রউত্তমকুমার থেকে আবির, যীশু, অনেকেই ব্যোমকেশ করেছেনতবে বাঙালির চোখে এখনও লেগে আছে রাজিত কাপুরের অভিনয়সুশান্ত সিং রাজপুতের একেবারে অন্যরকমের ব্যোমকেশ কেমনাভাবে নিয়েছিল বাঙালি 

ব্যোমকেশ, বাঙালির বড় আদরের। ধুতি-পাঞ্জাবি পরা, চোখে কালো চৌকো ফ্রেমের চশমা, একান্ত আপন বুদ্ধিদীপ্ত বাঙালি সত্যান্বেষী। বাংলায় উত্তমকুমার থেকে শুরু করে আজকের দিনের আবির চট্টোপাধ্যায়, যীশু সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় অনির্বান চক্রবর্তীরা সকলেই ব্যোমকেশ হলেও, বাঙালির চোখে এখনও লেগে আছে রাজিত কাপুরের অভিনয়। আর কে না জানে, কোনও ব্যক্তি বা দল বা সংস্থার উপর থেকে বাঙালির ভরসা সরিয়ে নতুন কারোর জায়গা করে নেওয়াটা কতটা কঠিন। এই কঠিন মাঠেই সুশান্ত সিং রাজপুতকে ব্যাট করতে নামিয়েছিলেন দিবাকর বন্দোপাধ্যায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ডিটেক্টিভ ব্যোমকেশ বক্সি চলচ্চিত্রে সুশান্ত সিং রাজপুত হয়েছিলেন ব্যোমকেশ। কম্পিউচার গ্রাফিক্স-এর দুর্দান্ত ব্যবহারে বিশ শতকের শুরুর কলকাতায় ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন দিবাকর। আর সুশান্ত সিং-এর ব্যোমকেশের ধুতি পাঞ্জাবীটুকুই ছিল। ছিল না চোখে চারকোনা ফ্রেমের চশমা, বদলে চাড়া দেওয়া সরু গোঁফ। ছিল না বুদ্ধিদীপ্ত বাঙালির চলন-বলন। আর তাতেই দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছিল বাঙালী সমাজ। একদল একেবারেই নাকচ করে দিয়েছিল সুশান্তের ব্যোমকেশকে। আরেকদলের আবার দারুণ মনে ধরেছিল।

প্রথম দল বলেছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত বা দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায় কেউই ব্যোমকেশের মেজাজটা ধরতে পারেননি। সুশান্ত সিং-এর মধ্য়ে বাঙালি সূলভ ভাবভাব একেবারেই ছিল না। পুরো ফিল্মটিই অত্যন্ত রঙ চড়ানো। ব্যোমকেশ বলে একেবারেই মনে হচ্ছে না।

আর পরের দল বলেছিল, শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায় ব্যোমকেশের গল্পে কলকাতা শহরের যে গা ছমছমে পরিবেশটা দেখিয়েছেন, দিবাকর-সুশান্ত জুটি সেটাই তুলে ধরেছেন। বেশ কয়েকটি গল্পের মিশ্রনে যে পরিপাক করা হয়েছে, তা শরদিন্দু বাবুর নিজের খুব পছন্দ হতো বলে দাবি করেছিলেন তাঁরা। বাস্তব জীবনে কতজনকে সাইকেলের ঘন্টি বাজিয়ে হত্যা করা হয় প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁরা। আর ব্যোমকেশের বুদ্ধির ছাপ বারবার ফুটে উঠেছিল সুশান্তের জ্বলজ্বলে চোখে। চোখের অভিনয় যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত অভিনেতা।

ভালো লাগুক, মন্দ লাগুক, সুশান্তের ব্যোমকেশ, ব্যোমকেশের চিরাচরিত ধরণে একটা ধাক্কা দিয়েছিল, তা মানতেই হবে। ভবিষ্যতে ব্যোমকেশ নিয়ে কাজ হলে সুশান্ত সিং রাজপুত অভিনিত ব্যোমকেশকে নিয়ে আলোচনা করতেই হবে। এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।