রীতিমতো ৩ হাজার কোটি ব্রিটিশ পাউন্ড খরচ করে তবেই হয়েছে ইইউ প্রত্যাহার চুক্তি। তার ফলে ২৮ সদস্যের অর্থনৈতিক জোট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে গিয়েছে ব্রিটেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই বেশ কিছু পরিবর্তন আসবে দেশটিতে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে বাধ্য ব্রিটিশদের জীবনযাত্রায়। 

ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার ফলে প্রথমত নাইজেল ফারাজ, অ্যান উইড্ডেকমবের মতো আরও অনেকেই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যপদ হারাবেন। কারণ ব্রিটেন একই সঙ্গে ইইউ'র রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও এজেন্সিগুলো ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। 

ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিল সামিটে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অংশ নিতে চাইলে তাঁর বিশেষ আমন্ত্রণ প্রয়োজন হবে। ব্রিটিশ মন্ত্রীরাও এখন থেকে আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মিত বৈঠকগুলোতে অংশ নিতে পারবেন না।

এখন থেকে ব্রিটেন তাদের পণ্য বিক্রি করতে ও কিনতে পৃথিবীর যে কোনও দেশের সঙ্গে আলোচনা করতে পারবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য থাকাকালীন ব্রিটেন আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে সেটা করতে পারত না। যে কারণে ব্রেক্সিট সমর্থকরা মনে করছেন এতে ব্রিটেনের অর্থনীতিকে শক্তিশালী হবে।

ত্রিশ বছর পর ব্রিটেনে আবার ফিরে আসবে নীল রংয়ের পাসপোর্ট। ২০১৭ সালে এই পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করে তৎকালীন অভিবাসনমন্ত্রী ব্রান্ডন লুইস সে দেশের ঐতিহ্যবাহী নীল ও সোনালী ডিজাইনের পাসপোর্ট আবার ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন। ওই পাসপোর্ট প্রথম ব্যবহার শুরু হয়েছিল ১৯২১ সালে। তবে এখনকার পাসপোর্টও  বৈধ থাকবে।

৩১শে জানুয়ারি থেকে প্রায় ত্রিশ লাখ বিশেষ কয়েন চালু হবে ব্রিটেনে যেখানে লেখা থাকবে ‘পিস, প্রসপারিটি অ্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ উইথ অল নেশনস’।

ইতিমধ্যে ওই কয়েনকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে ব্রিটেনে। এক পক্ষ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছে তারা এই কয়েন ব্যবহার করবেন না। তবে অনেকে আবার নতুন কয়েন ব্যবহারে আগ্রহী। যে কারণে ব্রিটিশ সরকার একই ধরণের আরেকটি কয়েন আনার পরিকল্পনা করছে যেখানে উল্লেখ থাকবে ৩১শে অক্টোবর, যে তারিখে প্রকৃতপক্ষে ব্রেক্সিট কার্যকরের কথা ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের যে দফতরটি এতকাল ধরে আলোচনা চালিয়ে এসেছিল সেই দফতরটি খুব শীগ্রই বন্ধ হয়ে যাবে। ২০১৬ সালে প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে'র সময়ে ওই দফতরটি চালু করা হয়েছিলো। সামনের দিনগুলোতে ব্রিটেনের নেগোসিয়েশন টিম হবে ডাউনিং স্ট্রিট অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর অফিস ভিত্তিক।

কেউ ব্রিটেন থেকে পালিয়ে গিয়ে সন্দেহভাজন কোনও অপরাধী যদি জার্মানিতে আশ্রয় নেয় তাহলে তাকে আর ব্রিটেন ফেরত পাবে না। কারণ সংবিধান অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ছাড়া অন্য কোনও দেশের নাগরিককে প্রত্যর্পণের সুযোগ নেই। ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র দফতর জানিয়ে দিয়েছে, ইউরোপিয়ান অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট বা গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রয়োগ অন্তর্বর্তী সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।