অক্টোবর মাসের মধ্য়েই করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির অঙ্গীকার করেছিলেন ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের সদস্যরা। সেই লক্ষ্যে তারা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন। তাদের তৈরি একটি পরীক্ষামূলক টিকা ছয় বানরের উপর পরীক্ষা করা হয়েছিল। গবেষকদের দাবি কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সেই টিকা ওই বানরদের দেহে দারুণ প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন বানরদের উপর পরীক্ষা সফল হওয়ার পরই চ্যাডক্স১ এনকোভ-১৯ (ChAdOx1 nCoV-19) নামে এই টিকাটি এবার মানুষের দেহেও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর জন্য এক হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান, তাদের তৈরি টিকাটি ছয়টি রিসাস ম্যাকাক বানর উপর পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাঁরা জানিয়েছেন মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে রিসাস ম্যাকাক বানর প্রজাতির বানকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দারুণ মিল রয়েছে। তাই কোনও ওষুধ মানুষের দেহে কীভাবে কাজ করতে পারে তা জানার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় এই রিসাস ম্য়াকাক বানরদের উপর তা প্রয়োগ করা।

গবেষকরা ওই ছয়টি বানরের দেহে অল্প পরিমাণে তাদের তৈরি টিকাটি দিয়েছিলেন। তারপর ওই ছয়টি বানরের সঙ্গে আরও কয়েকটি একই রিসাস ম্যাকাক প্রজাতির বানরের দেহে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঘটানো হয়। দেখা গিয়েছে যাদের টিকা দেওয়া হয়নি সেই বানরগুলির তুলনায়, টিকা পাওয়া ছয়টি বানরের ফুসফুস এবং শ্বাসনালীতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে করোনাভাইরাস কম ছিল। অর্থাৎ চ্যাডক্স১ এনকোভ-১৯ টিকাটি রিসাস ম্যাকাক বানরদের দেহে সার্স-কোভ-২ ভাইরাস বা নতুন করোনাভাইরাসটির কারণে উদ্ভূত নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। এই ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও একই আসবে তার কোন নিশ্চয়তা না থাকলেও এটা অবশ্যই বড় অগ্রগতি।

আপাতত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কোভিড-১৯ আক্রান্ত মানব স্বেচ্ছাসেবীদের একটি ছোট গোষ্ঠীর উপর তাদের সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের পরীক্ষা শুরু করেছেন। তাদের প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক আসলে শীঘ্রই তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষা আরও সম্প্রসারিত করা হবে। বর্তমানে গোটা বিশ্বে ১০০টিরও বেশি পরীক্ষামূলক কোভিড-১৯ টিকা তৈরির চেষ্টা চলছে।