পলাতক হীরক ব্যবসায়ী নীরব মোদীকে দেশে ফেরানোর রাস্তা পরিষ্কার হল। এদিন যুক্তরাজ্যের এক আদালত এই বিষয়ে রায় দিয়েছে, নীরব মোদীকে শুধু ভারতীয় আদালতে জবাব দিতে হবে তা নয়, ভারতে তিনি সুষ্ঠু বিচার পাবেন না এমন কোনও প্রমাণও নেই। পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি)-এর আনুমানিক ২-বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি করার মামলায় অভিযুক্ত নীরব মোদী।

ভারতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের কোর্টে মামলা করেছিলেন নীরব মোদী। তাঁর অভিযোগ ছিল ভারতে তিনি সুষ্ঠু বিচার পাবেন না। কিন্তু, এদিনের রায়ে সমস্ত আইনী লড়াইয়েই তার হার হল। বিচারক জানিয়েছেন, নীরব মোদী ভারতে গেলে তাঁর কোনও মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হবে না। এই বিষয়ে ভারতের সরকারের বেশ কয়েকটি সূত্র থেকে তাঁরা আশ্বাস পেয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের বিচারক আরও জানিয়েছেন, নীরব দীপক মোদী, পিএনবি জালিয়াতি করার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত বলে যথেষ্ট প্রমাণও রয়েছে। কিংফিশার এয়ারলাইন্সের প্রাক্তন ডিরেক্টর বিজয় মাল্যর প্রত্যর্পণের মামলাকে নজির হিসাবে উল্লেখ করে, বিচারক বলেন সিবিআই এবং ইডি অর্থ পাচার মামলায় সাক্ষীদের ভয় দেখায়, প্রমাণাদি অন্তর্ধান করে - এই অভিযোগগুলির কোনও ভিত্তি নেই। তবে, লন্ডনের কারাগারে দীর্ঘদিন থাকার ফলে নীরব মোদীর মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হয়েছে, বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের বিচারক। তবে, তাঁর মানসিক অসুস্থতা এতটাও নয় যে তাঁর আত্মহত্যার ঝুঁকি রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের বন্দি প্রত্যর্পন আইন ২০০৩-এর অধীনে বিচারক এখন তাঁর রায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলের কাছে পাঠাবেন। ভারত-যুক্তরাজ্য বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে নীরব মোদীর প্রত্যর্পণের আদেশ দেওয়ার জন্য তার হাতে সিদ্ধান্ত নিতে দুই মাসের মতো সময় রয়েছে। তবে, সাধারণত আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যান না স্বরাষ্ট্রসচিব।