২০২১-২২ সালের সাধারণ বাজেটে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে। একটি হল গত বছর ভারত যে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছিল চলতি বছর সেই খরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে দেশ। বলা যেতে পারে সমস্ত আর্থিক ঝঞ্ঝা কাটিয়ে উঠেছে দেশ। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হল ভয়ঙ্কর এই কোভিড মহানারির সঙ্গে দেশে ও দেশের নাগরিকরা পাল্লা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। যা রীতিমত প্রশংসনীয়। সংক্রমণ রুখতে গত ১০ মাস ধরেই ভারত মেনে চলছে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব। প্রথম থেকেই যার নেতত্ব দিয়ে আসছেন প্রধানমমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংসদে বাজেট পেশ হওয়ার পর এই বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সংসদ ও জাতীয় মুখপাত্র রাজীব চন্দ্রশেখর। 

মহামারির এই সংকটকালীন সময় ভারত একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। সেই সঙ্গে সংকট কাটিয়ে উঠতে একাধিক পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে।  সারাদেশে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে গোটা দেশেই স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরীক্ষার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পিপিই কিট সরবরাহ করা হয়েছিল, ঘরে ফেরাতে পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তারই মধ্যে ভারতে মোকাবিলা করেছে সীমান্তে চিনা আগ্রাসন। বিশ্ব জুড়ে লকডাউনের কারণে ব্যাহত হয়েছে সাপ্লাই চেন, যার প্রভার পড়েছে অর্থব্যবস্থায়। সঙ্গে রয়েছে ঘরোয়া রাজনীতির অসহযোগিতা, ভ্যাকসিন তৈরি ও সরবরাহ। 


সবকিছু উপেক্ষা করে ভারত নাগরিকদের জীবন বাঁচানোর কাজকেই বেশি গুরুত্বল দিয়েছে। আর সেই সময় উপক্ষা করা হয়েছে অর্থিক সংকটককেও। তারপরই আর্থিক উন্নয়েন ও পরিকাঠামো গঠনে  দেওয়া হয়েছে।  চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তারপরেো বিষ্মকরভাবে ২১৭টি প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দ করা হয়েছে ও শেষ করা হয়েছে। সমস্ত প্রকল্পগুলিও জাতীয় পরিকাঠামোর পালিলাইন হিসেবে চিহ্নিত হয়। সেগুসি ১.২০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়ম ২০১৯ সালে প্রকল্পগুলি গ্রহণ করা হয়েছিল। 

ঐক্যবদ্দ প্রয়াস চালিয়ে ও আত্মবিশ্বাসের দ্বারা আমরা সবরকম প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠেতে সক্ষম হয়েছি যাতে আমরা অনেক কিছু পেয়েছি,যার মধ্যে রয়েছে দ্রতুতম আর্থিক বৃদ্ধির একটি রাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে। সেই আর্থিক বৃদ্ধির নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তার সরকার। করোনা মহামারি-কালেই তাঁর আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্প চালু হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যেই হল দেশকে সব দিক থেকে স্বাবলম্বী করে তুলতে। একই সঙ্গে মহামারি পরবর্তী বিশ্বে ভারতের হাতেও যাতে একাধিক ক্ষমতা থাকে তা নিশ্চিত করতে। 

২০২১-২২ সালের সাধারণ বাজেট হল আত্মনির্ভর ভারতের বাজেট- যা করোনা-মহামারি পরবর্তী বিশ্বকে পথ দেখাবে। বাজেটের মূল লক্ষ্যই হল বর্তমান আর ভবিষ্যতের ভারত আর ভারতীয়দের স্বাস্থ্য আর সুস্থতা সুনিশ্চিত করা। 

সুস্থতার মূল উপাদনই হল স্বাস্থ্যের সঙ্গে পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, জল। সেই কারণে সরবরাহ ৯৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে  ২.৪৫ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে। এর সঙ্গেই যুক্ত করা হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা।  যা আত্মনির্ভর ভারত গঠনের মূল উপদান হিসেবেই চিহ্নিত হবে। মহামারিটি চোখে হাত দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে জীবন জীবিকা আর অর্থনৈতি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু জীবনকে জীবিকার উপরে রাখা কঠিন। মানুষের জীবন বাঁচানের জন্য মূল্য অনেক বেশি দিতে হয়েছে। 


আর সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাজেটে মূল লক্ষ্যই ছিল স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিকাঠামো উন্নয়ন বৃদ্ধি করা। আর সেই কারণে প্রতিটি রাজ্যে ক্রটিক্যাল কেয়ার ফেসিলিটি ৬০২টি ব্লক, পরীক্ষাগার তৈরিতে জোর দেওয়া হয়েছে। দেশের চারটি রিজিওয়নে ন্যাশানাল ভাইরোলজি কেন্দ্র স্থাপনের ও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার দিতে জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামী দিনে ভারত মহামারির মত পরিস্থিতি পড়লে যেন চরম মূল্য না চোকাতে হয়। সেই সময় যেন ভারতে জীবন আর জীবিকার মধ্যে কোনও একটিকে বেছে না নিতে হয়। 

আগামী বেশ কয়েকটি বছর সরকারকে আর্থনৈতিক উন্নয়নে জোর দিতে হবে। সরকার তার প্রত্যাশা অবলম্বন করেই এগিয়ে যাবে। 

এই বাজেটের মূল লক্ষ্যই হল উন্নয়ন। আর সেই লক্ষ্যে সরকারি মূলধন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণে তা ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫.৫ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে। আর সেইকারণে ৭০০ টিরও বেশি  জাতীয় অবকাঠামো অর্থায়ন ও পরিচালনা করার জন্য একটি নতুন স্থাপত্য স্থাপন করা হচ্ছে।  
 

এই নতুন স্থাপত্য গুলি অতিরিক্ত সংস্থান, জোগাড়করণ, ব্রাউনফিল্ড সম্পত্তি পুরণব্যবহার সরকারি ও বেসরকারি খাতে নতুন অবতাঠামো অর্থায়নের প্রতিষ্ঠান তৈরি , কর্পোরেট বন্দনের বাজার আর গভীর করা ও রাজ্যসরকারগুলিকে তাদের নিজস্ব সম্পদ পুনর্ব্যবহারের প্রচেষ্টা শুরু করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হবে।  যা মূলধনকে মুক্তি দেবে। আর ফলস্বরূপ নতুন অবকাঠামো তৈরি করবে সেই সম্পদ।