এ রাজ্যে প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের জন্য আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সমস্যার সুরাহা আর হল কই! আবেদন করেও সরকারি প্রকল্পে সাহায্য মিলল না। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিডিও-র কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন এক তরুণী। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের ঘটনা।

পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের কালাড়া গ্রামে থাকেন দিলীপ মালিক। চাষাবাদ করে কোনওমতে সংসার চলে। পরিবারটি বিপিএল তালিকাভুক্ত। মেয়ের দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য কোথায়! জানা গিয়েছে, নিজের বিয়ের জন্য রাজ্য সরকারের রূপশ্রী প্রকল্পে আর্থিক অনুদানের জন্য আবেদন করেছিলেন দিলীপের মেয়ে শিউলি। আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের স্থানীয় শাখায় তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা জমাও পড়েছিল। কিন্তু সেই টাকা ওই তরুণী তুলতে পারেননি বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত দেড় লক্ষ টাকা দেনা করে মেয়ে বিয়ে দিতে হয় দিলীপকেই। 

আরও পড়ুন: হঠাৎই অ্যাকাউন্টে ঢুকছে হাজার হাজার টাকা, দেখে হতবাক গ্রাহক

কিন্তু এমনটা কেন হল? সদ্য বিবাহিতা শিউলি সাহার দাবি, যে ব্যাঙ্কে রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা জমা পড়েছিল, সেই ব্যাঙ্ক থেকে ২০১৩ সালে কৃষিঋণ নিয়েছিলেন দিলীপ। কিন্তু ঋণ নেওয়ার পরই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিন ধরে চলে চিকিৎসা, কিন্তু স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। মেয়ের বক্তব্য, অসুস্থতার মধ্যেও একশো দিনের প্রকল্পে কাজ করে হাজার ছয়েক টাকা পান দিলীপ। ঋণ বাবদ সেই টাকা জমা করেছেন ব্যাঙ্কে। কিন্তু ঋণের বাকি টাকা আর শোধ করতে পারেননি। আর যেহেতু বাবার ঋণ শোধ হয়নি, তাই মেয়েকে রূপশ্রী প্রকল্পের টাকাও তুলতে দেননি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ! অভিযোগ তেমনই। সুবিচার পেতে বিডিও-র দ্বারস্থ হয়েছেন শিউলি। 

রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা আটকে রাখার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তাদের সাফাই, মেয়ের অ্যাকাউন্টে যে টাকা ঢুকেছে, সেই টাকায় বাবার ঋণ শোধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া বা টাকা আটকে রাখা হয়নি। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিডিও।