পত্রলেখা বসু চন্দ্র, বর্ধমান-  রহস্যময়ভাবে মৃত্যু হল এক রেল গার্ডের। দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় নামে ওই রেল গার্ডের দেহ অজয় নদের পাড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি বর্ধমানের ভেদিয়া রেল স্টেশনের কাছে। কীভাবে ট্রেন থেকে পড়ে গেলেন দেবাশিস তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

আরও পড়ুন- পরিবারিক অশান্তির জের, শাশুড়ির উপর 'অ্য়াসিড হামলা' বউমার 

দেখুন ভিডিও- 

 

জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর পাঁচটার সময় রামপুরহাট স্টেশন থেকে রওনা দেয় স্পেশাল ট্রেন। তিন কামরার এই স্পেশাল ট্রেনেরই গার্ড ছিলেন দেবীপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়। বর্ধমানের কিছু আগে ভেদিয়া স্টেশনের কাছে চালক লক্ষ্য করেন গার্ডের কাছ থেকে তিনি কোনও সিগন্যাল পাচ্ছেন না। এরপর ওয়াকিটকিতে যোগাযোগের চেষ্টা করেন গার্ডের সঙ্গে। কিন্তু তাতেও কোনও উত্তর পাননি ট্রেনের চালক। ইঞ্জিনের কামরা থেকেও উঁকি মেরে ট্রেনের একদম পিছনে থাকা গার্ডের কামরায় চোখ রাখার চেষ্টা করেন চালক। কিন্তু, তাতেও গার্ড দেবীপ্রসাদের দেখা পাননি। এমনকী, গার্ডের কামরাা থেকে কোনও ফ্ল্যাগও তিনি দেখতে পাননি। 

আরও পড়ুন- প্রেমের ফাঁদে ফেলে ছাত্রীদের 'যৌন হেনস্থা', অধ্যাপকের কীর্তিতে শোরগোল বর্ধমানে

দেখুন ভিডিও-

উপায় না পেয়ে তিনি ট্রেনটিকে ধীরে ধীরে পেছনোর সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, চালক মনে করেছিলেন ট্রেন থেকে হয়তো লাইনে পড়ে গিয়ে থাকতে পারেন গার্ড। রেল ট্র্যাক পরিস্কারই ছিল। তাই ধীরে ধীরে ট্রেন পিছোতে পিছোতে তিনি রেল ট্র্যাকে চোখ বোলাতে থাকেন। ট্রেনটি পিছিয়ে যখন অজয় নদের ব্রিজের উপরে ওঠে, তখনই নদীর পাড়ে দেবীপ্রসাদকে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখেন চালক।  

আরও পড়ুন- করোনা পরীক্ষাই হয়নি,অথচ বর্ধমানের কাটোয়ায় রিপোর্ট এলো পজিটিভ

এরপরই ওয়াকিটকিতে রেল অফিসারদের এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন চালক। খবর যায় ভেদিয়া রেল স্টেশনের মাস্টারের কাছে। সেখান থেকে খবর যায় বর্ধমান স্টেশনের মাস্টারের কাছেও। 

তড়িঘড়ি সকলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দেখা যায় রেল ট্র্যাকের নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া অজয় নদের পাড়ে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা দেবীপ্রসাদের দেহ। খবর দেওয়া হয় আরপিএফ-কে। তারাই এসে দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান চলন্ত ট্রেন থেকেই নদীতে গিয়ে পড়েন দেবীপ্রসাদ। তবে, তিনি নিজে পড়ে গিয়েছেন না কেউ ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেবীপ্রসাদের দেহ যেভাবে অজনর নদের পাড়ে মিলেছে তাতেও কিছুটা রহস্য তৈরি হয়েছে। কারণ, চলন্ত ট্রেন থেকে নদীতে পড়লে দেবীপ্রসাদের দেহ অর্ধেক জলে এবং অর্ধেক নদীপাড়ে কেন? এমনকী, মুখটাও পাড়ের মধ্যে লেগে ছিল। জলে পড়ে গিয়েও কোনওভাবে হয়তো পাড়ে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন দেবীপ্রসাদ, শরীরের ধকল সামলাতে না পেরে উপুড় হয়েই হয়তো শরীরটাকে অর্ধেক জলে রেখে পাড়ে এলিয়ে পড়েছিলেন। তদন্তে তাই সমস্ত সম্ভাবনাকেই খতিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে।