লরির ধাক্কায় দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়া ছাত্রীর মৃত্যু। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই চরম উত্তেজনা ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের বীরপুর এলাকায়। ঘাতক লরিতে আগুন ধরিয়ে পথ অবরোধ করে ক্ষুব্ধ জনতা। বর্ধমান থানার পুলিশ কর্মীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উল্টে তাঁদেরকেই একটি ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখে ক্ষুব্ধ জনতা। 

এ দিন সকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বর্ধমানের বীরপুরের সরাইটিকর এলাকায় মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়া মুসকান নামে ওই স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওভারটেক করতে গিয়ে দ্রুত গতিতে আসা একটি ট্রাক প্রথমে ওই স্কুল পড়ুয়াকে ধাক্কা মারে। সে পড়ে গেলে তাকে পিষে দেয় ট্রাকটি। তাড়া করে ট্রাকটিকে আটকায় ক্ষুব্ধ জনতা। পালিয়ে যায় ট্রাকের চালক ও খালাসি। ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ট্রাকটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ছাত্রীর মৃতদেহ রাস্তার উপরে রেখেই শুরু হয় পথ অবরোধ। 

খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যায় বর্ধমান থানার পুলিশ। কিন্তু পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উল্টে তাঁদের ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ। পুলিশকর্মীদের একটি ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অসহায় পুলিশকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ সেখানেই আটকে থাকেন। 

ক্ষুব্ধ জনতার অভিযোগ, পণ্যবাহী যানবাহনের থেকে নিয়মিত টাকা তোলেন পুলিশকর্মীরা। তাঁদের হাত থেকে বাঁচতেই দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ট্রাক, লরি। আর তা করতে গিয়েই ঘটে গিয়েছে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এর পাশাপাশি রাস্তায় স্পিড ব্রেকার বসানোর দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। শেখ আজিজুল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, 'এলাকায় প্রচুর কুয়োর কারখানা রয়েছে। মাল নিয়ে যে লরিগুলি যাতায়াত করে তাদের থেকে নিয়মিত টাকা তোলে বর্ধমান সদর থানা আর দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ। পুলিশের অত্যাচারের ভয়ে পালাতে গিয়েই বার বার এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে।'

এর পর বিশাল সংখ্যায় পুলিশ বাহিনী গিয়ে আটক পুলিশকর্মীদের উদ্ধার করে। জনতাকে শান্ত করে নিহত ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে ঘাতক লরিটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।