Adani Power Deal: ভুটানের ড্রুক গ্রিন পাওয়ার কর্পোরেশনের (DGPC) সঙ্গে হাত মিলিয়ে যৌথভাবে ৭৭০ মেগাওয়াটের চমখারচু-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করতে চলেছে আদানি পাওয়ার। ৪৯:৫১ ইক্যুইটি পার্টনারশিপে এই প্রজেক্টটি তৈরি হবে। এর ফলে ভুটানের পাশাপাশি ভারতেরও বিদ্যুৎ ঘাটতি মিটবে।
Adani Power Deal: আদানি পাওয়ার ভুটানের সরকারি সংস্থা ড্রুক গ্রিন পাওয়ার কর্পোরেশন (DGPC)-এর সঙ্গে একটি বড় চুক্তি সই করেছে। দুই সংস্থা মিলে ৭৭০ মেগাওয়াটের চমখারচু-১ (Chamkharchhu-I) জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করবে। ২০২৭ সালের প্রথম দিকেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা (Adani Power Deal)। আর কাজ শুরুর ৬ বছরের মধ্যেই এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের খুঁটিনাটি ও পার্টনারশিপ
আদানি পাওয়ার এবং ডিজিপিসি-র মধ্যে ৪৯:৫১ ইক্যুইটি পার্টনারশিপে এই প্রজেক্টটি তৈরি হবে। এটি 'বিল্ড, ওন, অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার' (BOOT) মডেলে চলবে। বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পর থেকে ৩০ বছরের কনসেশন থাকবে এই চুক্তিতে। ভুটানের জেমগাং (Zhemgang) জেলার চমখারচু নদীর ওপর এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তৈরি হচ্ছে। তার ফলে, ভুটানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অনেকটাই বাড়বে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শক্তির আদানপ্রদানও সহজ হবে। আদানি পাওয়ারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অনিল সারদানা জানিয়েছেন, শীতকালে ভুটানে বিদ্যুতের যে চাহিদা থাকে, তা মেটাতে এই প্রকল্প দারুণ কাজে আসবে। আবার গরমকালে যে বাড়তি বিদ্যুৎ তৈরি হবে, তা ভারতে রফতানি করা যাবে। তিনি বলেন, "দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির রূপান্তরে জলবিদ্যুৎ একটা বড় ভূমিকা নেবে। এই প্রজেক্টের ফলে শক্তির নিরাপত্তা বাড়বে, কার্বন নির্গমন কমবে এবং পরিবেশ বাঁচানোর লক্ষ্য পূরণ হবে।"
একই কথা বলেছেন ডিজিপিসি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর দাশো চেওয়াং রিনজিন। তিনি জানান, বিশেষ করে শীতের মাসগুলোতে ভুটানের শক্তির নিরাপত্তা মজবুত করবে এই প্রকল্প। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ভারতে রফতানি করার সুযোগও তৈরি হবে।
জলবিদ্যুৎ নিয়ে বড়সড় জোট
আদানি পাওয়ার এবং ডিজিপিসি-র মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় জলবিদ্যুৎ চুক্তি। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, ৫৭০ মেগাওয়াটের ওয়াংচু (Wangchhu) জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে তাদের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল। আসলে ২০২৫ সালের মে মাসে আদানি গ্রুপ এবং ভুটান সরকারের মধ্যে ৫,০০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উন্নয়নের একটি বড় চুক্তি সই হয়। চমখারচু-১ প্রজেক্টটি সেই বড় চুক্তিরই একটা অংশ। দুই সংস্থাই জানিয়েছে, ৫,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরির যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, তা পূরণের জন্য তারা আরও নতুন নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের খোঁজ চালাচ্ছে। অর্থাৎ, ভুটানের জলবিদ্যুৎ ক্ষেত্রে আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চলেছে এই দুই সংস্থা।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


