লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দিয়েই অ্যাকাউন্টে পাবেন ৩৫ লাখ! কীভাবে? দেখে নিন সহজ হিসেব
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৫০০ টাকা সঠিকভাবে পোস্ট অফিস গ্রাম সুরক্ষা যোজনায় বিনিয়োগ করে আপনিও পেতে পারেন ৩৫ লক্ষ টাকা। এই প্রতিবেদনে দেখুন বিস্তারিত হিসেব, আবেদনের যোগ্যতা এবং সঞ্চয়ের সেরা উপায়।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বর্তমানে বাংলার কোটি কোটি মহিলার আর্থিক সহায়তার অন্যতম প্রধান উৎস। সম্প্রতি রাজ্য বাজেটে এই প্রকল্পের ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৭০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাচ্ছেন।
এই টাকা কেবল প্রতিদিনের খরচ মেটানোর জন্য নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনা করলে এটি মহিলাদের এক বিশাল আমানত বা ভবিষ্যৎ তহবিল তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।
কীভাবে ৩৫ লক্ষ টাকা পাওয়া সম্ভব? ভারতীয় ডাক বিভাগের (India Post) একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রকল্প হলো ‘গ্রাম সুরক্ষা যোজনা’ (Post Office Gram Suraksha Yojana)। এই স্কিমটি মূলত গ্রামীণ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে, যা বিনিয়োগ এবং জীবন বিমা—উভয় সুবিধাই প্রদান করে।
যদি কোনো মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে প্রাপ্ত ১,৫০০ টাকা বা তার কিছু অংশ এই প্রকল্পে নিয়মিত জমা করেন, তবে মেয়াদপূর্তিতে তিনি ৩৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রিটার্ন পেতে পারেন।
হিসেবের খুঁটিনাটি: হিসেব অনুযায়ী, যদি ১৯ বছর বয়সী কোনো ব্যক্তি এই স্কিমে বিনিয়োগ শুরু করেন এবং মাসে ১,৫১৫ টাকা প্রিমিয়াম হিসেবে জমা দেন, তবে মেয়াদ শেষে তিনি প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আমানত সংগ্রহ করতে পারেন। এক্ষেত্রে বয়স ও মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে প্রিমিয়ামের পরিমাণ কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
যেমন, ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত জমা করলে মাসে ১,৪৬৩ টাকা এবং ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত জমা করলে ১,৪১১ টাকা প্রিমিয়াম দিতে হয়। এই প্রকল্পের সর্বনিম্ন বিমা কভার ১০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা।
অন্যান্য সুবিধা: ১. এই পলিসি কেনার ৪ বছর পর থেকে বিনিয়োগকারীরা ঋণের (Loan) সুবিধাও পেতে পারেন। ২. চাইলে ৩ বছর পর পলিসিটি সমর্পণ (Surrender) করা সম্ভব, তবে ৫ বছরের আগে বোনাস সুবিধা পাওয়া যায় না। ৩. মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক বা বার্ষিক—যেকোনো পদ্ধতিতে প্রিমিয়াম পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
বিকল্প বিনিয়োগ পদ্ধতি (SIP): বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পুরো টাকা খরচ না করে তার একটি অংশ মিউচুয়াল ফান্ড বা এসআইপি-র (SIP) মাধ্যমেও বিনিয়োগ করা যেতে পারে। মাসে ১,০০০ টাকা করে নিয়মিত এসআইপি করলে দীর্ঘমেয়াদে চক্রবৃদ্ধি হারের (Compounding) সুবিধায় বড় অঙ্কের টাকা জমানো সম্ভব। বিভিন্ন গ্রোথ ওরিয়েন্টেড ফান্ড যেমন লার্জ ক্যাপ, মিড ক্যাপ বা ফ্লেক্সি ক্যাপ ফান্ডে ১০ থেকে ১৫ বছর টাকা জমালে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়।
রাজ্য সরকারের এই নিয়মিত ভাতা বাংলার মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা দিচ্ছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের এই সঞ্চিত অর্থ কেবল মহিলাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাবে না, বরং পরিবারে তাঁদের গুরুত্ব বৃদ্ধি করবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই অলসভাবে অ্যাকাউন্টে টাকা ফেলে না রেখে পোস্ট অফিস বা এসআইপির মতো সুরক্ষিত প্রকল্পে বিনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে

