২০২৫ সালে রিলায়েন্সের অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে মুকেশ আম্বানির সম্পদ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা গৌতম আদানির সঙ্গে তার সম্পদের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়। যদিও আদানি তার সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছেন।

২০২৫ সাল ভারতের সবচেয়ে ধনী শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ বছর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি কেবল ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে তার শীর্ষস্থান ধরে রাখেননি, বরং এই বছর সম্পদের সর্বোচ্চ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিলিয়নেয়ারও হয়েছেন। অন্যদিকে, গৌতম আদানি তার সম্পদের পুনরুদ্ধারও দেখেছেন, কিন্তু তিনি আম্বানির গতির সাথে তাল মেলাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলস্বরূপ, দুই শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতির মধ্যে সম্পদের ব্যবধান আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রিলায়েন্সের ক্ষমতার উপর আম্বানির সম্পদ বৃদ্ধি

২০২৫ সালে মুকেশ আম্বানির সম্পদের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (RIL) এর শেয়ারের অসাধারণ বৃদ্ধি। বছরে RIL এর শেয়ার প্রায় ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে আম্বানির মোট সম্পদ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১০৫ থেকে ১০৮ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হওয়ার অনুমান করা হয়েছিল। রিলায়েন্সের টেলিকম ব্যবসা, জিও এবং খুচরা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সবুজ শক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর একটি বড় বাজি

২০২৫ সালে মুকেশ আম্বানি ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির উপরও জোর দিয়েছিলেন। সবুজ শক্তি খাতে বড় বিনিয়োগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে একটি প্রযুক্তি সংস্থা রিলায়েন্স ইন্টেলিজেন্সের সূচনা বাজারে ইতিবাচক সংকেত পাঠিয়েছিল। তদুপরি, ২০২৬ সালে সম্ভাব্য রিলায়েন্স জিও আইপিও সম্পর্কে জল্পনাও বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ বাড়িয়েছিল, যা সরাসরি আম্বানির সম্পদকে উপকৃত করেছিল।

গৌতম আদানির প্রত্যাবর্তন, কিন্তু ধীর

২০২৫ ছিল গৌতম আদানির জন্য পুনরুদ্ধারের বছর। পূর্ববর্তী চ্যালেঞ্জগুলির পরে বেশ কয়েকটি আদানির স্টক শক্তিতে ফিরে এসেছিল। আদানির পাওয়ার, আদানির শক্তি সলিউশন এবং আদানির পোর্টসের মতো স্টকগুলিতে শক্তিশালী লাভ তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৪.২ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি করেছে। তা সত্ত্বেও, বছরের শেষে গৌতম আদানির মোট সম্পদ প্রায় ৯২ বিলিয়ন ডলারে রয়ে গেছে, যা মুকেশ আম্বানির চেয়ে অনেক পিছনে।

১৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনা

আদানির গ্রুপ আগামী ছয় বছরে অবকাঠামো এবং নবায়ন শক্তি খাতে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের একটি বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই পরিকল্পনা ভারতের জ্বালানি এবং অবকাঠামো খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন যে এই কৌশল সফল হলে, আগামী বছরগুলিতে গৌতম আদানি দ্রুত তার সম্পদ বৃদ্ধি করতে পারবেন।

২০২৫ সালে সম্পদের ব্যবধান কত বেড়েছে?

২০২৫ সালে, মুকেশ আম্বানি ভারতের প্রথম ধনী ব্যক্তি এবং গৌতম আদানি দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। বিশ্বব্যাপী, তাদের র‌্যাঙ্কিং কাছাকাছি ছিল, তবে আম্বানির নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল। যদিও আম্বানি এই বছর ভারতের বৃহত্তম সম্পদ অর্জনকারী হয়ে ওঠেন, আদানির আয় কিছুটা কম ছিল।

এটি কার বছর ছিল?

গৌতম আদানির আক্রমণাত্মক বৃদ্ধির কৌশল এবং বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা ভবিষ্যতের সম্ভাবনা প্রদান করে, ২০২৫ সাল সম্পূর্ণরূপে মুকেশ আম্বানির বছর প্রমাণিত হয়েছিল। রিলায়েন্সের শক্তিশালী পারফরম্যান্স, নতুন ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং বাজারের আস্থা তাকে ভারতের বিলিয়নেয়ারদের তালিকায় স্পষ্টভাবে নেতা করে তুলেছে।