সাধারণ বাজেট ২০২৬-২৭ এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মধ্যে তৈরি হচ্ছে, কারণ এবার অর্থ মন্ত্রকে কোনও অর্থ সচিব নেই। ঐতিহ্য ভেঙে, বিভিন্ন বিভাগ যৌথভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। 

দেশের সাধারণ বাজেট ২০২৬-২৭ বিভিন্ন দিক থেকে ভিন্ন হতে চলেছে। ঐতিহ্য ভেঙে, এই বাজেট ১ ফেব্রুয়ারী, রবিবার পেশ করা হতে পারে। তবে তারিখের চেয়েও বেশি আলোচনা এই বিষয়টি নিয়ে যে, প্রথমবারের মতো অর্থ মন্ত্রকে কোনও অর্থ সচিব উপস্থিত নেই, তবুও বাজেট প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। অর্থ সচিব সাধারণত মন্ত্রকের সবচেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মন্ত্রকের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন, বাজেট-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তত্ত্বাবধান এবং সমগ্র প্রক্রিয়া পরিচালনা করা তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব। সহজ কথায়, অর্থ সচিবকে বাজেট ব্যবস্থার চালক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অবসর গ্রহণের পর শূন্য পদ

এই পদে থাকা সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন অজয় ​​শেঠ, যিনি ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে অবসর গ্রহণ করেন। পরে তিনি বীমা খাত নিয়ন্ত্রক, IRDAI-এর চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তার আগে তুহিন কান্ত পান্ডে অর্থ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে, এই পদটি এখন শূন্য, এবং সরকার এখনও কোনও প্রতিস্থাপনের ঘোষণা দেয়নি।

বাজেটের কাজ কীভাবে চলেছে?

বিজনেস টুডের এক প্রতিবেদন অনুসারে, অর্থ সচিবের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, কাজ স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে চলেছে। বিভিন্ন বিভাগ যৌথভাবে বাজেট প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। চূড়ান্ত বাজেট রূপরেখা তৈরির জন্য অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগ, ব্যয় বিভাগ এবং রাজস্ব বিভাগ তাদের নিজ নিজ স্তরে তথ্য, পরিকল্পনা এবং প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ করছে।

এবার, বাজেটের দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে একটি নতুন দলের কাঁধে। মন্ত্রক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে কাজ করার জন্য বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে, প্রত্যক্ষ কর বোর্ড এবং পরোক্ষ কর বোর্ড উভয়েরই কর্মকর্তারা বাজেট প্রস্তুতি এবং নতুন আইন বাস্তবায়নের জন্য দায়ী। যদিও অর্থ সচিবের পদ শূন্য, সরকার দাবি করে যে এটি বাজেটের মান বা সময়োপযোগীতার উপর প্রভাব ফেলবে না। তবে, অর্থ সচিব ছাড়া প্রস্তুত করা এই বাজেট জনসাধারণ এবং অর্থনীতিতে কী নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসে সেটাই দেখার।