২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সিগারেট এবং তামাকজাত পণ্যের দাম আরও বাড়বে। কেন্দ্রীয় সরকার একটি নতুন আবগারি শুল্ক কাঠামো (Excise Duty Structure) চালু করেছে, যা ধূমপায়ীদের পকেটে আরও বেশি চাপ ফেলবে।
২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সিগারেট এবং তামাকজাত পণ্যের দাম আরও বাড়বে। কেন্দ্রীয় সরকার একটি নতুন আবগারি শুল্ক কাঠামো (Excise Duty Structure) চালু করেছে, যা ধূমপায়ীদের পকেটে আরও বেশি চাপ ফেলবে। এই পরিবর্তনটি গত প্রায় সাত বছরের মধ্যে সিগারেটের উপর সবচেয়ে বড় কর বৃদ্ধি। সরকারের এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হল ভারতের তামাকজাত পণ্যের উপরে কর ব্যবস্থাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মানের কাছাকাছি নিয়ে আসা, যেখানে সিগারেটের উপর মোট করের বোঝা খুচরো মূল্যের কমপক্ষে ৭৫% হওয়া উচিত।
১ ফেব্রুয়ারি থেকে কী পরিবর্তন হচ্ছে?
আগে সিগারেট এবং তামাকজাত পণ্যের উপর ২৮% জিএসটি ও ক্ষতিপূরণ সেস (Compensation Cess) প্রযোজ্য ছিল। এটি এখন সংশোধন করে সর্বোচ্চ ৪০% জিএসটি, অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক (সিগারেটের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে প্রতি স্টিকে)ও প্রাসঙ্গিক সেস চাপানো হয়েছে। ক্ষতিপূরণ সেস বাদ দিয়ে একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
সিগারেটের দাম কত বাড়ল?
- ফিল্টার ছাড়া ৬৫ মিমি পর্যন্ত ছোট সিগারেট: প্রতি স্টিকে প্রায় ২.০৫ টাকা
- ৬৫ মিমি পর্যন্ত ফিল্টারযুক্ত সিগারেট: প্রতি স্টিকে প্রায় ২.১০ টাকা
- ৬৫ থেকে ৭০ মিমি দৈর্ঘ্যের সিগারেট: প্রতি স্টিকে ৩.৬০ থেকে ৪ টাকা
- ৭০ থেকে ৭৫ মিমি দৈর্ঘ্যের লম্বা/প্রিমিয়াম সিগারেট: প্রতি স্টিকে প্রায় ৫.৪০ টাকা
- বিশেষভাবে ডিজাইন করা সিগারেট: সর্বোচ্চ ৮.৫০ টাকা প্রতি স্টিকে (সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো এই বিভাগে পড়ে না)
পান মশলা এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের উপর নতুন নিয়ম
চর্বণযোগ্য তামাক, খৈনি, জর্দা, গুটখা ইত্যাদির জন্য এখন এমআরপি-ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এখন উৎপাদন ব্যয়ের পরিবর্তে পণ্যের মুদ্রিত খুচরা মূল্যের (MRP) উপর জিএসটি ধার্য করা হবে। উৎপাদন ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে পান মশলার উপর স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা সেস ধার্য করা হবে, যা মোট করের বোঝা (জিএসটি সহ) ৮৮% পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। চর্বণযোগ্য তামাক এবং জর্দাযুক্ত সুগন্ধি তামাকের উপর ৮২% আবগারি শুল্ক এবং গুটখার উপর ৯১% আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
পান মশলা প্রস্তুতকারকদের জন্য কঠোর নিয়ম
নতুন স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা সেস আইন অনুযায়ী নতুন করে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। সমস্ত প্যাকিং মেশিনে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে এবং সেই ফুটেজ কমপক্ষে ২৪ মাস সংরক্ষণ করতে হবে। মেশিনগুলোর সংখ্যা ও ধারণক্ষমতা সম্পর্কে আবগারি কর্মকর্তাদের তথ্য দিতে হবে। যদি কোনও মেশিন ১৫ দিন বা তার বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকে, তবে শুল্কে ছাড়ের জন্য আবেদন করা যাবে। ক্রিসিল রেটিংসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই কর বৃদ্ধির ফলে আগামী অর্থবছরে সিগারেট শিল্পের বিক্রির পরিমাণ ৬ থেকে ৮ শতাংশ কমে যেতে পারে। এর ফলে চোরাচালান বৃদ্ধিরও আশঙ্কা রয়েছে, তবে সরকারের মনোযোগ স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাজস্ব বৃদ্ধির দিকে।
