আভা ও মহেন্দ্রর খিচুড়ি এক্সপ্রেস প্রথম চালু হয় হায়দরাবাদে। বর্তমানে মুম্বাইতেও রয়েছে। প্রায় ৩০০টি শাখা রয়েছে। 

্বপ্ন ছিল জীবনে কিছু করার। আর সেই স্বপ্নেই সফল হলে আভা সিঙ্গাল। শুধুমাত্র খিচুড়ি বিক্রি করেই কোটি কোটি টাকা উপার্যন করেছেন এই মহিলা। একটি সময় নামিদামি সংস্থার মডেল হিসেবে দাপিয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু গ্ল্যামার জগতের ঝাঁ চকচকে জীবনের কাছেই তাঁর নিজে কিছু করার স্বপ্ন ফিকে হয়ে গিয়েছিলে। তাই সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে নেমে পড়েন ব্যবসায়। প্রথম দিকটা খুব কষ্টে কেটেছিল। কিন্ত বর্তমানে তিনি ভারতের এক কোটিপতি মহিলা বললে খুব একটা ভুল হবে না। আভা সিঙ্গালের খিচুড়ি এক্সপ্রেস প্রায় ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করছে বর্তমানে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মার্কেটিং-এ এমবিএ করেছিলেন আভা। ২২ হাজার টাকার একটি চাকরিও জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় তিনি বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে। তারপর মাসিক ৫ হাজার টাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে মুম্বইয়ে এক বান্ধবীর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু ছিল প্রবল কষ্টের দিন। মাসের শেষে হাতে প্রায় কিছুই থাকত না। তারপরই আভা মডেল হিসেবে কাজ পান। সেই সময় এক দিনের কাজের বিনিয়ম তিনি ৪০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। তারপরই চাকরিকে টাটা করে চলে আসেন। তারপর একাধিক সংস্থার মডেল হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু সেখানেও মন টেকেনি। তারপরই আভা ব্যবসা করার পরিকল্পনা নেন।

আভার সঙ্গে সেই সময়ই আলাপ হয়েছিল মহেন্দ্রর। সেও আলাদা কিছু করার কথা ভাবছিল। তারপরই দুজনের খিচুড়ির প্রতি প্রেম মিলে যায়। সেখান থেকেই খিচুড়িকেই ব্যবসার হাতিয়ার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন দুজনে। মাত্র তিন লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর ব্যবসার টার্নওভার ৫০ কোটি।

আভা ও মহেন্দ্রর খিচুড়ি এক্সপ্রেস প্রথম চালু হয় হায়দরাবাদে। বর্তমানে মুম্বাইতেও রয়েছে। প্রায় ৩০০টি শাখা রয়েছে। উত্তরভারতের স্বাদের খিচুড়ি যেমন তৈরি হয়। তেমনই দক্ষিণ ভারতীয় স্বাদের খিচুড়ি তৈরি হয়। নানা ধরনের খিচুড়ি বিক্রি করেন তাঁরা। তবে আভার প্রেমেই রয়াসন কিন্তু খিচুড়ি। মহেন্দ্র তাঁর হাতের তৈরি খিচুড়ি খেয়ে মজেছিলেন। সেই সময়ই তিনি খিচুড়ির ব্যবসা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। খিচড়ি এক্সপ্রেস ৩০ টিরও বেশি ধরণের খাবার বিক্রি করে। ২০১৯ সালে হায়দরাবাদে ক্লাউড কিচেন হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন। একজন মাত্র কর্মী ছিল। লকডাউনেও তাঁরা খিচুড়ি সরবরাহ করেছিলেন। অনেক সময়ে খিচুড়ি বিলি করেছেন। খিচুড়ি এক্সপ্রেসে একপ্লেট খিচুড়ির দাম ২০৯ টাকা থেকে শুরু করে ৩৪৯ টাকা। সঙ্গে অবশ্যই দেওয়া হয় একটি পাঁপড়।