ভারতীয় ফিউচার মার্কেটে রুপার দাম প্রতি কেজিতে ৩ লক্ষ টাকা ছাড়িয়েছে, যা গত ৯ মাসে বিনিয়োগকারীদের ২০০ শতাংশের বেশি রিটার্ন দিয়েছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ যা বিনিয়োগকারীদের মুদ্রা ও শেয়ার বাজার থেকে মূল্যবান ধাতুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Silver Price Hike: ভারতীয় ফিউচার মার্কেটে (MCX) প্রতি কেজি রুপার দাম ৩ লক্ষ টাকা ছাড়িয়েছে। এপ্রিল মাসে প্রতি কেজি রুপার দাম ছিল ৯৫,০০০-৯৬,০০০ টাকা, যা এখন আকাশছোঁয়া হয়ে ৩,০০,৫৩২ টাকায় পৌঁছেছে। বাজারে এই আকস্মিক উত্থান কেবল স্বাভাবিক চাহিদার ফল নয়, বরং দুই বিশ্ব পরাশক্তি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মধ্যে একটি নতুন অর্থনৈতিক "যুদ্ধ"।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

৯ মাসে অর্থ তিনগুণ বৃদ্ধি

গত ৯ মাসে যদি আপনি স্টক বা জমির পরিবর্তে রূপাতে বিনিয়োগ করতেন, তাহলে আপনার লাভ সকলকে অবাক করে দিত। এপ্রিল থেকে, রূপা তার বিনিয়োগকারীদের ২০০ শতাংশেরও বেশি রিটার্ন দিয়েছে। শেয়ার বাজারের ভাষায়, এটি একটি "মাল্টিব্যাগার" স্টকের পারফরম্যান্স। আশ্চর্যজনকভাবে, শুধুমাত্র জানুয়ারিতেই দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে, বিনিয়োগের দিক থেকে রূপা সেরা পারফর্মিং সম্পদে পরিণত হয়েছে, যা অন্যান্য সমস্ত সম্পদ শ্রেণীকে (যেমন সম্পত্তি বা শেয়ার) ছাড়িয়ে গেছে।

বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি

এই বাজার অস্থিরতার মূল কারণ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তার পরিকল্পনার বিরোধিতাকারী ইউরোপীয় দেশগুলি এখন ট্রাম্পের নজরে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি ফ্রান্স, জার্মানি এবং ব্রিটেন-সহ আটটি ইউরোপীয় দেশের উপর ভারী শুল্ক আরোপ করবেন।

জানা গেছে যে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই দেশগুলি থেকে আসা পণ্যের উপর ১০% শুল্ক আরোপ করা হবে, যা জুনের মধ্যে ২৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের ভীত করে তুলেছে। যখনই দুটি প্রধান দেশের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়, তখনই মানুষ মুদ্রা বা শেয়ার বাজার থেকে অর্থ তুলে সোনা ও রূপায় বিনিয়োগ করা নিরাপদ বলে মনে করে এবং এখন ঠিক এটাই ঘটছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে

বিষয়টি কেবল মার্কিন পদক্ষেপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)ও চুপ করে বসে থাকার মেজাজে নেই। প্রতিবেদন অনুসারে, ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউরোপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, "জবরদস্তি বিরোধী যন্ত্র" (ACI) ব্যবহার করতে পারে। এর আওতায়, আমেরিকান পণ্যের উপর প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো (১০৮ বিলিয়ন ডলার) প্রতিশোধমূলক কর আরোপের কথা বলা হচ্ছে।

এই উত্তেজনা বিশ্ব বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। সিঙ্গাপুরে স্পট সোনার দাম ১.৬% বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৬৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং রূপার দাম ৯৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্ল্যাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের মতো ধাতুগুলিও তাদের চকচকে ফিরে পেয়েছে।

ডলারের উপর আস্থা হারিয়েছেন?

বাজার বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সোনা ও রূপার জন্য "আদর্শ"। Capital.com বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেছেন যে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি এবং ফেডারেল রিজার্ভ (মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক) এর উপর ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমাগত আক্রমণ ডলারের উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে।

এটিকে বাজারে "অবক্ষয় বাণিজ্য" বলা হচ্ছে, যেখানে ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং সরকারি নীতি সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা সরকারি বন্ড এবং মুদ্রা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। ভেনেজুয়েলার নেতার গ্রেপ্তার এবং গ্রিনল্যান্ড বিরোধ আগুনে ঘি ঢালছে।যদি এই উত্তেজনা না কমে, তাহলে আগামী দিনে মূল্যবান ধাতুর দাম আরও নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।