২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট (Budget 2026) সোভেরেইন গোল্ড বন্ডে বা এসজিবি-র (Sovereign Gold Bond) কর কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। যদিও অনেক বিনিয়োগকারী উদ্বিগ্ন যে এসজিবি-তে লাভের উপরে আর কর ছাড় পাওয়া যাবে না।

২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট (Budget 2026) সোভেরেইন গোল্ড বন্ডে বা এসজিবি-র (Sovereign Gold Bond) কর কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। যদিও অনেক বিনিয়োগকারী উদ্বিগ্ন যে এসজিবি-তে লাভের উপরে আর কর ছাড় পাওয়া যাবে না। তবে এটি পুরোপুরি সত্যি নয়। কর ছাড়ের সুবিধাটি এখনও রয়েছে, তবে এটি এখন শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পাওয়া যাবে। আগে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের সোভেরেইন গোল্ড বন্ড মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত ধরে রাখলে কোনও মূলধনী লাভ কর (Capital Gains Tax) দিতে হত না। এটা হল লাভের উপরে প্রযোজ্য কর। বাস্তবে, এই সুবিধাটি সেইসব বিনিয়োগকারীরাও ভোগ করছিলেন যারা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ইস্যু করা গোল্ড বন্ড না কিনে শেয়ার বাজার থেকে কিনেছিলেন। যতক্ষণ পর্যন্ত বন্ডটি মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত ধরে রাখা হত, মূলধনী লাভকে করমুক্ত হিসাবে গণ্য করা হত।

বাজেটে কী ঘোষণা করা হয়েছে?

২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট এখন এই কর সুবিধাটিকে স্পষ্টভাবে সীমিত করেছে। সোভেরেইন গোল্ড বন্ডের ক্ষেত্রে মূলধনী লাভ কর থেকে অব্যাহতি শুধুমাত্র তখনই পাওয়া যাবে যখন কোনও ব্যক্তি ইস্যুর সময় এই বন্ডগুলিতে সাবস্ক্রাইব করবেন এবং মেয়াদপূর্তিতে রিডেম্পশন পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে এটি ধরে রাখবেন। আরও প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই ছাড় একমাত্র রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ইস্যু করা সমস্ত সোভেরেইন গোল্ড বন্ডের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

২০২৬ সালের বাজেটের পর কী পরিবর্তন হয়েছে

এই পরিবর্তনের পর, মূলধনী লাভ কর অব্যাহতি শুধুমাত্র দুটি শর্ত পূরণ হলেই পাওয়া যাবে। প্রথমত, বিনিয়োগকারীকে অবশ্যই আরবিআই কর্তৃক মূল ইস্যুর সময় এসজিবি-তে সাবস্ক্রাইব করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগকারীকে অবশ্যই ইস্যুর তারিখ থেকে মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে বন্ডটি ধরে রাখতে হবে। এর অর্থ হল শেয়ার বাজারের মতো সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে কেনা এসজিবিগুলো মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত ধরে রাখলেও আর করছাড়ের যোগ্য হবে না।

কী পরিবর্তন হয়নি

যেসব বিনিয়োগকারী ইস্যুর সময় এসজিবি-তে সাবস্ক্রাইব করেছেন এবং মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত সেগুলো ধরে রেখেছেন, তাদেঁর জন্য কোনও কিছুই পরিবর্তন হয়নি। তাঁদের মূলধনী লাভ করমুক্তই থাকবে। এসজিবি-র উপর অর্জিত ২.৫% বার্ষিক সুদ আগের মতোই আয় হিসাবে করযোগ্য থাকবে।

এসজিবি-র কর ব্যবস্থা বোঝার জন্য একটি সহজ উদাহরণ

ধরা যাক, সোনার দাম বেড়েছে এবং একজন বিনিয়োগকারী একটি এসজিবি থেকে ১০ লক্ষ টাকার মূলধনী লাভ করেছেন। বিনিয়োগকারী 'এ' এসজিবি-টি তাঁর প্রাথমিক ইস্যুর সময় কিনেছিলেন এবং মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত ধরে রেখেছেন। এই বিনিয়োগকারী আগের মতোই কোনও মূলধনী লাভ কর দেবেন না।

বিনিয়োগকারী 'বি' কয়েক বছর পরে শেয়ার বাজার থেকে একই এসজিবি কেনেন এবং মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত ধরে রাখেন। আগে এই বিনিয়োগকারীকেও কার্যত কোনও মূলধনী লাভ কর দিতে হত না। ২০২৬ সালের বাজেটের পর, এই ১০ লক্ষ টাকার লাভের উপর কর ধার্য করা হবে। যদি এটি দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভ হিসাবে বিবেচিত হয়, তবে ১২.৫% হারে কর প্রযোজ্য হবে, যার অর্থ ১.২৫ লক্ষ টাকা কর।

যদি বিনিয়োগকারী 'বি' এসজিবি-টি আগে বিক্রি করে দেন এবং উচ্চতর আয়কর স্ল্যাবের আওতায় পড়েন, তবে করের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। এটি ব্যক্তির আয়ের স্তরের উপর নির্ভর করে এবং বাজেটে ঘোষিত কোনও নতুন কর হারের কারণে নয়।