Credit Score: ক্রেডিট স্কোর কম? সিবিলে ম্যাজিক দেখাবে এই ৬টি সহজ ট্রিকস
Credit Score: ক্রেডিট স্কোর কম থাকলে ব্যাঙ্ক থেকে লোন পাওয়া বেশ মুশকিল। তবে রোজকার কয়েকটা সহজ অভ্যাসে আপনি নিজের ক্রেডিট প্রোফাইল আবার ঠিক করে নিতে পারেন। সিবিল স্কোর বাড়ানোর সেই দারুণ উপায়গুলোই আজ আমরা জেনে নেব।

ক্রেডিট স্কোর কম নিয়ে চিন্তায়?
ক্রেডিট স্কোর কম থাকলে ব্যাঙ্ক থেকে লোন বা ক্রেডিট কার্ড পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়। লোন অ্যাপ্লাই করলেও প্রসেস হতে অনেকটা সময় লাগে, আবার রিজেক্ট হওয়ার ভয়ও থাকে। অনেক সময় ব্যাঙ্কগুলো চড়া সুদে বা কড়া শর্তে লোন দেয়।
আগে ঠিকমতো ইএমআই না দিলে বা ক্রেডিট কার্ডের যথেচ্ছ ব্যবহার করলে সিবিল স্কোর কমে যায়। এই অবস্থায় চট করে নতুন লোন নেওয়াটা কোনও সমাধান নয়। বরং স্কোর কেন কমল, সেটা বুঝে নিজের অভ্যাস বদলানোই আসল কাজ।

সময়মতো বিল মেটানো জরুরি
আপনার ক্রেডিট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই ক্রেডিট স্কোর তৈরি হয়। এর মধ্যে লোন শোধের হিস্ট্রি, ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন আর নতুন লোনের খোঁজখবর করাটা খুব জরুরি। স্কোর বাড়ানোর সবচেয়ে সোজা নিয়ম হল, প্রত্যেকটা ইএমআই আর ক্রেডিট কার্ডের বিল একদম ঠিক সময়ে মিটিয়ে দেওয়া।
বিল দিতে দেরি হলে সেই খবর ক্রেডিট ব্যুরোর কাছে চলে যায়, আর স্কোর ধাক্কা খায়। বিল দেওয়ার কথা যাতে ভুলে না যান, তার জন্য রিমাইন্ডার সেট করতে পারেন বা অটো-ডেবিট অপশন চালু করে রাখতে পারেন।
ক্রেডিট কার্ডের লিমিট বুঝে খরচ
ক্রেডিট কার্ডের শুধু মিনিমাম অ্যামাউন্ট দিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়াটা একদমই ঠিক নয়। এতে লেট ফি থেকে বাঁচা গেলেও, বাকি টাকার ওপর ব্যাঙ্ক মোটা সুদ চাপায়। তাই ডিউ ডেটের আগেই পুরো বিল ক্লিয়ার করার চেষ্টা করুন।
আপনি কার্ডের লিমিট কতটা ব্যবহার করছেন, সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন আপনার কার্ডের লিমিট ১ লাখ টাকা, আর আপনি ৭০ হাজার টাকা খরচ করলেন। তার মানে আপনার ইউটিলাইজেশন ৭০ শতাংশ। পুরো লিমিট খরচ করে ফেললে ব্যাঙ্ক ভাববে আপনি ধারের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তাই খরচ সবসময় লিমিটের মধ্যে রাখুন।
পুরনো ধার মিটিয়ে রিপোর্ট চেক
আপনার যদি কোনও পুরনো ধার বাকি থাকে, তবে সবার আগে সেটা মিটিয়ে দিন। পুরনো ধার মেটালেই যে সঙ্গে সঙ্গে ক্রেডিট রিপোর্ট বদলে যাবে তা নয়, কিন্তু ফেলে রাখলে সুদ আর পেনাল্টি বেড়ে সমস্যা আরও বড় হবে। ধার মেটানোর আগে ব্যাঙ্কের থেকে আসল টাকার পরিমাণটা জেনে নিন।
পেমেন্ট হয়ে গেলে রসিদটা যত্ন করে রেখে দিন। কিছুদিন পর ক্রেডিট রিপোর্টে সেই তথ্য আপডেট হল কি না, তা মিলিয়ে দেখুন। এছাড়া বছরে চারটে ক্রেডিট ব্যুরো থেকে একটা করে ফ্রি ক্রেডিট রিপোর্ট পাওয়া যায়। সেখানে কোনও ভুল আছে কি না, সেটাও দেখে নেওয়া ভালো।
পুরনো কার্ড আর নতুন লোনে সাবধান
এক জায়গায় লোন রিজেক্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে অন্য ব্যাঙ্কে অ্যাপ্লাই করবেন না। অল্প সময়ে বেশি জায়গায় লোনের আবেদন করলে ব্যাঙ্কগুলো আপনার ক্রেডিট রিপোর্টে 'হার্ড এনকোয়ারি' করে। এতে আপনার ক্রেডিট প্রোফাইলে খারাপ প্রভাব পড়ে। তাই লোন চাওয়ার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া ভালো।
আর একটা কথা, পুরনো ক্রেডিট কার্ড হুট করে বন্ধ করবেন না। পুরনো কার্ড আপনার ভালো পেমেন্ট হিস্ট্রি প্রমাণ করে। তবে যদি বার্ষিক ফি খুব বেশি হয় বা অকারণে খরচ বাড়ে, তবেই সেটা বন্ধ করার কথা ভাবতে পারেন।

