কুরিয়ার সার্ভিস সংস্থা ইকার্টের (Ekart) বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনলেন একটি ব্যবসায়ী সংস্থার কর্ণধার। পারভেজ দোসানি নামের ওই ব্যবসাসী একধাপ এগিয়ে ফ্লিপকার্টের সিইও (CEO) কল্যাণ কৃষ্ণমূর্তিকে পৃথিবীর সবচেয়ে অযোগ্য সিইও বলে অভিহিত করেছেন। linkedin- এ একটি পোস্ট করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

কুরিয়ার সার্ভিস সংস্থা ইকার্টের (Ekart) বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনলেন একটি ব্যবসায়ী সংস্থার কর্ণধার। পারভেজ দোসানি নামের ওই ব্যবসাসী একধাপ এগিয়ে ফ্লিপকার্টের সিইও (CEO) কল্যাণ কৃষ্ণমূর্তিকে পৃথিবীর সবচেয়ে অযোগ্য সিইও বলে অভিহিত করেছেন। linkedin- এ একটি পোস্ট করেছেন ওই ব্যবসায়ী। তাঁর অভিযোগ, ইকার্ট তাঁদের পণ্য চুরি করছে। পার্সলের মধ্য থেকে পণ্য গায়েব করে দিচ্ছে। ডেলিভারির ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম করা হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ঠিক কী অভিযোগ

পারভেজ দোসানি জানিয়েছেন, তাঁরা একটি D2C (সরাসরি গ্রাহক-মুখী) ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং লজিস্টিক পার্টনার হিসেবে Ekart-কে যুক্ত করেছিলেন। অভিযোগ, ইকার্ট জিনিস চুরি করেছে। গ্রাহকদের কাছে যেসব ব্যাগ বা প্যাকেজ পৌঁছেছে, সেগুলোর ভেতর থেকে হয় পণ্য গায়েব ছিল, অথবা ব্যাগগুলো ছিল সম্পূর্ণ খালি। যেসব অর্ডার সফলভাবে ডেলিভারি দেওয়া হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোকে প্রতারণামূলকভাবে 'NDR' (ডেলিভারি অসাধ্য) বা 'RTO' (ফেরত পাঠানো হয়েছে) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দোসানি দাবি করেছেন যে তাঁদের প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকার পণ্য গায়েব হয়ে গেছে। এর কোনও সুরাহা হয়নি। কেউ কোনও দায়ভার নেয়নি। দোসানির কথায়, এটি নিছক কোনও লজিস্টিক বা পরিবহনজনিত ব্যর্থতা নয়। এটি হলো মাঠপর্যায়ে সংগঠিত চুরির এক ঘটনা, যা প্রকাশ্যেই চলছে। আমি বলছি না যে এমনটা কেবল আমাদের সঙ্গেই ঘটেছে। বরং আমি যাদের সঙ্গেই কথা বলেছি—সবাই Ekart-কে এমন একটি প্রতারক কুরিয়ার সার্ভিস হিসেবেই আখ্যায়িত করেছেন, যারা আপনার পণ্যগুলো সামলানোর জন্য সমাজের সবচেয়ে নীচু স্তরের বা জঘন্য প্রকৃতির মানুষদের নিয়োগ করে।"

পারভেজ দোসানি আরও জানিয়েছেন যে Ekart ফ্লিপকার্ট গ্রুপের কোনও পার্শ্ব-ব্যবসা নয়। ফ্লিপকার্ট গ্রুপের সামগ্রিক পণ্য সরবরাহের প্রায় অর্ধেক কাজই Ekart-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি তাদের ব্যবসার মূল অবকাঠামো বা মেরুদণ্ড। অথচ এই পরিকাঠামোকেই ব্যবহার করা হচ্ছে সেই সব বিক্রেতাদের পদ্ধতিগতভাবে প্রতারিত করার জন্য, যাদের বিনিয়োগ বা অর্থায়নের উপর ভিত্তি করেই এই মার্কেটপ্লেসটি টিকে আছে।

কল্যাণ কৃষ্ণমূর্তিকেকে নিশানা

ফ্লিপকার্টের সিইও (CEO) কল্যাণ কৃষ্ণমূর্তিকেকে নিশানা করে দোসানি আরও লিখেছেন, "মিস্টার কৃষ্ণমূর্তি, আপনি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম একটি বাণিজ্যিক গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যখন আপনার প্রতিষ্ঠানের মূল লজিস্টিক শাখার ভেতরেই এত বড় মাপের জালিয়াতি বা প্রতারণা চলতে থাকে, তখন আলোচনার বিষয় আর কেবল পরিচালনাগত ত্রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং তখন মূল প্রশ্নটি হয়ে দাঁড়ায়—আপনাদের নেতৃত্ব বা ম্যানেজমেন্ট আদৌ পরিস্থিতির দিকে নজর দিচ্ছে কি না। আমরা ফ্লিপকার্টের নামের উপর ভরসা করেছিলাম। সেটাই ছিল আমাদের ভুল। অন্যান্য সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের (Founders) প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা সেই একই ভুল করবেন না। এই ব্র্যান্ড নামটি কেবলই একটি মুখোশ। এর আড়ালে যা লুকিয়ে আছে, তার জন্য আপনাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। আর আপনারা যারা Ekart-এ কর্মরত আছেন, আপনাদের অস্তিত্বের জন্যই আপনাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। মানুষ হিসেবে জন্ম নেওয়ার জন্যও আপনাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। কারণ, মানবজাতির কল্যাণে আপনারা বিন্দুমাত্র কোনও মূল্যই যোগ করছেন না।"