খরচ কমানোর যন্ত্র হিসেবে নয়, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে AI। KPMG-র একটি রিপোর্ট বলছে, আর্থিক সংস্থাগুলিতে AI-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে ৭৫% সংস্থা পরিকল্পনা, রিপোর্টিং এবং বিশ্লেষণের জন্য AI ব্যবহার করবে, যার ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আরও উন্নত হচ্ছে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI এখন আর শুধু খরচ কমানোর যন্ত্র নয়, বরং বিভিন্ন সংস্থার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজেই প্রধানত ব্যবহার হচ্ছে। KPMG-র একটি নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী, পূর্বাভাস তৈরি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার মতো ক্ষেত্রে সংস্থাগুলি সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে।

দ্রুত ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব

২০টি দেশের ১৩টি সেক্টরের ১,০১৩ জন সিনিয়র ফিনান্স লিডারের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এই রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। রিপোর্ট বলছে, গত দু'বছরে আর্থিক ক্ষেত্রে AI-এর সক্রিয় ব্যবহার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে ৩০ শতাংশ সংস্থা AI ব্যবহার করত, ২০২৬ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৭৫ শতাংশে পৌঁছবে। তিন-চতুর্থাংশের বেশি সংস্থা ইতিমধ্যেই ফিনান্সিয়াল প্ল্যানিং, রিপোর্টিং এবং কমার্শিয়াল অ্যানালিসিসের জন্য AI ব্যবহার করছে। ৭১ শতাংশ সংস্থা জানিয়েছে, AI থেকে তাদের প্রত্যাশিত রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI) পূরণ হচ্ছে বা তার চেয়েও বেশি লাভ হচ্ছে।

রিপোর্টে দেখা গেছে, AI-এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে সেই সব কাজে যেখানে বিচার-বিবেচনার প্রয়োজন হয়। প্রায় ৭০ শতাংশ সংস্থা জানিয়েছে যে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মান উন্নত হয়েছে। ৭১ শতাংশের মতে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি বেড়েছে এবং ৬৪ শতাংশ সংস্থা জানিয়েছে যে তাদের পূর্বাভাস আরও সঠিক হচ্ছে।

এজেন্টিক AI-এর পারফরম্যান্স আরও ভালো

যেসব সংস্থা এজেন্টিক AI ব্যবহার করছে, তাদের পারফরম্যান্স অন্যদের তুলনায় বেশ ভালো। দেখা গেছে, যারা এই প্রযুক্তি ব্যবহারে এগিয়ে, তারা প্রাথমিক স্তরে থাকা সংস্থাগুলির থেকে গড়ে ৩২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। পূর্বাভাস এবং ROI-এর ক্ষেত্রে এই ব্যবধান প্রায় ৪০ পয়েন্ট।

গভর্নেন্স এবং ডেটার গুণমানই এখন মূল চ্যালেঞ্জ

তবে KPMG জানাচ্ছে, শুধু AI ব্যবহার করলেই লাভ হবে না। গভর্নেন্স, কন্ট্রোল এবং অডিটের জন্য প্রস্তুতিই সংস্থাগুলির মধ্যে মূল পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। যে সংস্থাগুলি AI-সম্পর্কিত অডিট প্রমাণ দক্ষতার সঙ্গে তৈরি করতে পারছে, তারা অন্যদের তুলনায় তিন থেকে ছয় গুণ বেশি উন্নতি করছে। কিন্তু সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ৪২ শতাংশ সংস্থা AI-চালিত ফিনান্স প্রক্রিয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

ডেটার গুণমানও একটি বড় বাধা। ৩৬ শতাংশ সংস্থা মনে করে, ডেটার গুণমান, ইন্টিগ্রেশন এবং সিস্টেমের আন্তঃকার্যকারিতা উন্নত করতে পারলে AI থেকে আরও বেশি সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

ভবিষ্যতের পথ: কর্মী, বিনিয়োগ এবং গভর্নেন্স

কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে, ৩৮ শতাংশ সংস্থা তাদের বর্তমান ফিনান্স টিমকেই নতুন দক্ষতা শেখাচ্ছে (আপস্কিলিং), যেখানে মাত্র ২৮ শতাংশ সংস্থা নতুন দক্ষতার জন্য কর্মী নিয়োগ করছে।

KPMG-র মতে, ফিনান্স লিডারদের উচিত AI বিনিয়োগকে প্ল্যানিং, ফোরকাস্টিং, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং কমার্শিয়াল অ্যানালিসিসের দিকে চালিত করা। একই সঙ্গে গভর্নেন্স, পরিমাপ এবং মানবিক তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে।

রিপোর্টের শেষে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় তারাই এগিয়ে থাকবে, যারা AI ব্যবহার করছে কি না তার চেয়েও বড় কথা হল, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পারফরম্যান্স উন্নত করতে কতটা দক্ষতার সঙ্গে তারা AI-কে কাজে লাগাতে পারছে।