- Home
- Business News
- Gold vs Silver Investment: ১, ৩ ও ৫ বছরের মেয়াদে কোন ধাতু থেকে ভালো রিটার্ন মিলেছে? জানলে বিনিয়োগের ধারা বদলে যেতে পারে
Gold vs Silver Investment: ১, ৩ ও ৫ বছরের মেয়াদে কোন ধাতু থেকে ভালো রিটার্ন মিলেছে? জানলে বিনিয়োগের ধারা বদলে যেতে পারে
Gold vs Silver Investment: দীর্ঘমেয়াদে সোনা শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রুপা বিনিয়োগকারীদের বেশি মুনাফা দিয়েছে। শিল্পক্ষেত্রে চাহিদা ও অর্থনৈতিক কারণে রুপার দামের ওঠানামা বেশি হয়, অন্যদিকে সোনা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত।

সোনা ও রুপা কোনটা বর্তমানে বিনিয়োগের সেরা মাধ্যম
Gold vs Silver Investment: ভারতীয় পরিবারগুলোতে সোনা ও রুপা দীর্ঘকাল ধরেই বিনিয়োগের মাধ্যম এবং সম্পদ সংরক্ষণের উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে মুনাফার ক্ষেত্রে এই দুটি মূল্যবান ধাতু ভিন্ন ভিন্ন পথ অনুসরণ করেছে। দীর্ঘমেয়াদে সোনা শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রুপা কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।

বিনিয়োগের ফলাফল
যেসব বিনিয়োগকারী এই ধাতুগুলোর যে কোনও একটিতে ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত ফলাফলের পার্থক্য বেশ উল্লেখযোগ্য। তিন বছর আগে রুপায় ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে আজ তার মূল্য হতো প্রায় ২.৪৯ লাখ টাকা, যেখানে সোনার ক্ষেত্রে এই পরিমাণ হতো প্রায় ২.২৫ লাখ টাকা।
গত এক বছরেও রুপা সোনার চেয়ে ভালো পারফর্ম করেছে
গত এক বছরেও রুপা সোনার চেয়ে ভালো পারফর্ম করেছে, যদিও এই পার্থক্যের পরিমাণ কিছুটা কম। তবে পাঁচ বছরের তুলনামূলক চিত্রে সোনা এগিয়ে রয়েছে। ৯৯৯ বিশুদ্ধতার সোনা ও রুপার জন্য আইবিজেএ (IBJA)-এর ঐতিহাসিক বেঞ্চমার্ক রেট অনুযায়ী, আমরা বিশ্লেষণ করেছি যে ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে তার মূল্য কত হতো এবং এক, তিন ও পাঁচ বছরের মেয়াদে এদের মুনাফার হার কেমন ছিল।
সোনা ও রুপায় ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বর্তমানে তার মূল্য কত হতো?
আইবিজেএ (IBJA)-এর রেট অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত ১ লাখ টাকার একটি কাল্পনিক বিনিয়োগ কীভাবে বৃদ্ধি পেত, তা নিচে দেওয়া হলো:
বিনিয়োগের সময়কাল / সোনার মুনাফা / সোনার বিনিয়োগের বর্তমান মূল্য / রুপার মুনাফা / রুপার বিনিয়োগের বর্তমান মূল্য
১ বছর / ১৩.৯১% / ১.১৪ লাখ টাকা / ১৮.১৭% / ১.১৮ লাখ টাকা
৩ বছর / ১২৫.২৬% / ২.২৫ লাখ টাকা / ১৪৯.২৯% / ২.৪৯ লাখ টাকা
৫ বছর / ১৮৮.০৯% / ২.৮৮ লাখ টাকা / ১৭৯.২৬% / ২.৭৯ লাখ টাকা
স্বল্প মেয়াদে রুপা এগিয়ে, পাঁচ বছরের মেয়াদে সোনা কিছুটা এগিয়ে
এক ও তিন বছর মেয়াদে সোনা অপেক্ষা রুপা বেশি মুনাফা দিয়েছে। ৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রুপায় ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে, ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ১.১৮ লাখ টাকায় পরিণত হতো। একই পরিমাণ অর্থ সোনাতে বিনিয়োগ করলে তা হতো প্রায় ১.১৪ লাখ টাকা।
তিন বছরের সময়কালে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট
তিন বছরের সময়কালে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রুপার ১৪৯.২৯% মূল্যবৃদ্ধির ফলে ১ লাখ টাকার বিনিয়োগ প্রায় ২.৪৯ লাখ টাকায় পরিণত হতো, যেখানে সোনার ১২৫.২৬% রিটার্নের ক্ষেত্রে সেই বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়াত প্রায় ২.২৫ লাখ টাকায়। তবে পাঁচ বছরের সময়সীমা বিবেচনায় নিলে, সোনার রিটার্ন রুপার তুলনায় বেশি।
সোনা না রূপা বিনিয়োগের জন্য কোনটা সেরা?
সোনার ক্ষেত্রে নিকটতম উপলব্ধ প্রারম্ভিক দর ব্যবহার করলে, ১ লাখ টাকার বিনিয়োগ বেড়ে প্রায় ২.৮৮ লাখ টাকায় পৌঁছাত, আর রুপার ক্ষেত্রে তা হতো ২.৭৯ লাখ টাকা। এই পার্থক্য তুলনামূলকভাবে সামান্য এবং এই তুলনার ক্ষেত্রে উপরে উল্লিখিত সময় সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
সোনা ও রুপার রিটার্নে কেন পার্থক্য হতে পারে?
সোনা ও রুপা উভয়ই মার্কিন ডলারের মান, সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশা, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদার মতো কিছু সাধারণ বিষয়ের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখায়। তবে এগুলোর চাহিদার চালিকাশক্তিগুলো হুবহু এক নয়।
কোনটা নিরাপদ বিনিয়োগ
সোনাকে সাধারণত একটি 'নিরাপদ বিনিয়োগ' (safe-haven asset) হিসেবে গণ্য করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়, বিনিয়োগ চাহিদা এবং বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা সোনার দামকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে, রুপার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে। সৌরশক্তি, ইলেকট্রনিক্স এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের মতো খাতগুলো থেকে আসা চাহিদা, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের পাশাপাশি রুপার দামকে প্রভাবিত করতে পারে।
শক্তিশালী অর্থনৈতিক
এর অর্থ হলো, রুপার দামের ওঠানামা বা অস্থিরতা (volatility) বেশি হতে পারে। শক্তিশালী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় শিল্পক্ষেত্রে চাহিদার কারণে রুপার দাম ভালো অবস্থানে থাকতে পারে, কিন্তু উৎপাদন চাহিদায় পরিবর্তন বা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের দ্রুত পরিবর্তনের ফলে এর দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের যা মনে রাখা উচিত
এখানে উল্লিখিত পরিসংখ্যানগুলো IBJA-এর ৯৯৯ বিশুদ্ধতার বেঞ্চমার্ক মূল্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এগুলো কেবল একটি কাল্পনিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ধাতুর দাম পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগের মূল্যে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারত, তা নির্দেশ করে। এগুলো কোনো নিশ্চিত রিটার্ন বা একজন বিনিয়োগকারী প্রকৃতপক্ষে যে অর্থ হাতে পাবেন, তার প্রতিফলন নয়।
মেকিং চার্জ
সরাসরি সোনা বা রুপা (physical gold and silver) কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়। ক্রেতাদের ৩% জিএসটি (GST) দিতে হতে পারে এবং গয়না কেনার ক্ষেত্রে 'মেকিং চার্জ' বা তৈরির খরচও যোগ হয়। এছাড়া, ধাতুর বিশুদ্ধতা, ডিলারের মার্জিন এবং অন্যান্য কর্তনের ওপর ভিত্তি করে বিক্রয়মূল্য বেঞ্চমার্ক দর থেকে ভিন্ন হতে পারে।
বিনিয়োগকারী সরাসরি ধাতু সংরক্ষণ না করেও বিনিয়োগ
যেসব বিনিয়োগকারী সরাসরি ধাতু সংরক্ষণ না করেও সোনা ও রুপায় বিনিয়োগ করতে চান, তারা 'এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড' (ETF)-এর কথা বিবেচনা করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে বিনিয়োগের সময়সীমা, ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা এবং খরচের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। ইটিএফ (ETF)-এর রিটার্ন সরাসরি ধাতুর বেঞ্চমার্ক মূল্যের রিটার্নের সাথে হুবহু মিলবে না, কারণ এতে বিভিন্ন ধরনের খরচ এবং ট্র্যাকিং সংক্রান্ত পার্থক্য থাকে।
দ্রষ্টব্য: বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। এশিয়ানেট নিউজ বাংলা বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করে না। এই প্রতিবেদন কেবলমাত্র তথ্য প্রদানের জন্য দেওয়া। বাজারে বিনিয়োগ করতে হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন।

