SIP Investment: মাসে কত টাকা বেতনে কত টাকার SIP করবেন? জানুন সহজ হিসেব
মাসের শুরুতেই বেতন হাতে আসে। এরপর বাড়িভাড়া, সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, EMI-সহ একাধিক খাতে টাকা চলে যায়। সব খরচ সামলে ভবিষ্যতের জন্য কত টাকা বিনিয়োগ করা উচিত, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে।

মাসের শুরুতেই বেতন হাতে আসে। এরপর বাড়িভাড়া, সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, EMI-সহ একাধিক খাতে টাকা চলে যায়। সব খরচ সামলে ভবিষ্যতের জন্য কত টাকা বিনিয়োগ করা উচিত, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ডে SIP শুরু করতে চাইলে বেতনের কতটা অংশ বিনিয়োগ করা নিরাপদ, তা জানা জরুরি।

SIP বা Systematic Investment Plan-এর মাধ্যমে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্ক মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা যায়। দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত বিনিয়োগের সঙ্গে চক্রবৃদ্ধির সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তবে সবার জন্য SIP-এর অঙ্ক এক হতে পারে না। আয়, মাসিক খরচ, ঋণ, জরুরি তহবিল এবং ভবিষ্যতের আর্থিক লক্ষ্য বিবেচনা করেই বিনিয়োগের পরিমাণ ঠিক করা উচিত। মাসিক বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত একটি নিয়ম হল ৫০-৩০-২০ ফর্মুলা। এই নিয়ম অনুযায়ী, আয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচের জন্য, ৩০ শতাংশ ব্যক্তিগত পছন্দ বা জীবনযাপনের খরচের জন্য এবং বাকি ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য রাখা যেতে পারে। তবে এই ২০ শতাংশের পুরোটাই SIP-এ বিনিয়োগ করা জরুরি নয়। জরুরি পরিস্থিতির জন্য সঞ্চয় এবং ঋণ পরিশোধের টাকাও এই অংশের মধ্যে রাখা যেতে পারে।
মাসিক আয় যদি ৪০ হাজার টাকা হয়, তাহলে ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৮ হাজার টাকা সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য রাখা যেতে পারে। ঝুঁকি কম রাখতে চাইলে এর মধ্যে ২ হাজার টাকা SIP এবং ৬ হাজার টাকা জরুরি তহবিলে রাখা যেতে পারে। আবার মাঝামাঝি পরিকল্পনায় ৪ হাজার টাকা SIP এবং ৪ হাজার টাকা জরুরি তহবিলে রাখা যায়। যাঁরা তুলনামূলক বেশি বিনিয়োগ করতে চান, তাঁরা ৬ হাজার টাকা SIP-এ রেখে ২ হাজার টাকা জরুরি তহবিলে রাখতে পারেন।
মাসিক বেতন ৬০ হাজার টাকা হলে ২০ শতাংশ হিসাবে প্রায় ১২ হাজার টাকা সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ করা যায়। একটি ব্যালান্সড পরিকল্পনায় ৪ হাজার টাকা SIP, ৪ হাজার টাকা জরুরি তহবিল এবং বাকি ৪ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যদি আপনার কোনও ঋণ না থাকে এবং জরুরি তহবিল আগে থেকেই তৈরি থাকে, তাহলে SIP-এর পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব।
মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকা হলে ২০ শতাংশ হিসাবে অন্তত ২০ হাজার টাকা সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য রাখা যেতে পারে। বিনিয়োগ-কেন্দ্রিক পরিকল্পনায় এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা SIP, ৫ হাজার টাকা জরুরি তহবিল এবং ৫ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধে রাখা যেতে পারে। তবে এটি কোনও বাধ্যতামূলক ফর্মুলা নয়। আপনার খরচ ও আর্থিক দায় অনুযায়ী অনুপাত বদলাতে পারে।
বেতন কম হলে বড় অঙ্ক দিয়ে SIP শুরু করার প্রয়োজন নেই। প্রথমে আয়ের ১০-১৫ শতাংশ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। পরে বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে SIP-এর পরিমাণও ধীরে ধীরে বাড়ানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত বিনিয়োগ এবং সময়ের সঙ্গে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, SIP শুরু করার আগে পর্যাপ্ত জরুরি তহবিল তৈরি করা এবং উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখা। নিজের আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী SIP-এর পরিমাণ ঠিক করাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।