- Home
- Business News
- Indian Railways: প্রতিদিন কত কোটি টাকা আয়? কত কোটি টাকা লাভ করে ভারতীয় রেল? জানলে অবাক হবেন
Indian Railways: প্রতিদিন কত কোটি টাকা আয়? কত কোটি টাকা লাভ করে ভারতীয় রেল? জানলে অবাক হবেন
Indian Railways: ভারতীয় রেল প্রতিদিন প্রায় ২৪ হাজার ট্রেন চালায় এবং কোটি কোটি টাকা আয় করে, যার মূল উৎস হলো মালগাড়ি। তবে বিপুল আয়ের পাশাপাশি কর্মী বেতন, পেনশন ও রক্ষণাবেক্ষণে রেলের দৈনিক খরচও প্রায় সমান।

প্রতিদিন চলে ২৪ হাজারেরও বেশি ট্রেন
Indian Railways: ভারতীয় রেলে প্রতিদিন প্রায় ২৪ থেকে ২৫ হাজার ট্রেন চলে। এর মধ্যে ১৩,৫০০ থেকে ১৪,০০০টি প্যাসেঞ্জার ট্রেন। সাধারণ, এক্সপ্রেস, মেল, লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি বন্দে ভারত বা অমৃত ভারতের মতো ট্রেনও রয়েছে এই তালিকায়।

২ থেকে আড়াই কোটি মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন
প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে আড়াই কোটি মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি রোজ ১১ হাজারেরও বেশি মালগাড়ি চলে। কয়লা, সিমেন্ট, লোহা, সার এবং শস্যের মতো জরুরি জিনিসপত্র এই মালগাড়িগুলোই দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বাজারে পৌঁছে দেয়।
রেলের দৈনিক আয় কত?
ভারতীয় রেলের বার্ষিক আয় প্রায় ২.৭৪ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে কয়েকশো কোটি টাকা আয় হয়। তবে রেলের আয়ের বড় অংশ কিন্তু যাত্রীদের টিকিট থেকে আসে না। আয়ের প্রধান উৎস হলো মালগাড়ি। মোট আয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৬২ শতাংশই আসে পণ্য পরিবহণ থেকে।
দিনে প্রায় ৪৬৫ কোটি টাকা আয়
এর মানে হলো, প্রতিদিন প্রায় ৪৬৫ কোটি টাকা আয় হয় শুধু মালগাড়ি থেকেই। এর মধ্যে কয়লা পরিবহণের ভাগই সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে সিমেন্ট, লোহা, সার ও শস্য। অন্যদিকে, যাত্রীবাহী ট্রেন থেকে প্রতিদিন আয় হয় প্রায় ২০০ থেকে ২৩২ কোটি টাকা, যা মোট আয়ের প্রায় ৩১ শতাংশ। বাকি টাকা আসে পার্সেল পরিষেবা, বিজ্ঞাপন, বাতিল জিনিসপত্র (স্ক্র্যাপ) বিক্রি এবং লিজিংয়ের মতো অন্যান্য খাত থেকে।
আয়ের বড় অংশই চলে যায় খরচে
এত বড় একটা রেল ব্যবস্থা চালাতে খরচও হয় বিপুল। হিসেব অনুযায়ী, রেলের দৈনিক পরিচালনার খরচ প্রায় ৬৯০ থেকে ৭২০ কোটি টাকা। রেলে কর্মরত ১২ লক্ষেরও বেশি কর্মীর বেতন এই খরচের একটা বড় অংশ। কর্মী সংখ্যা বেশি হওয়ায় বেতনের পেছনে বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যয় করতে হয়।
পেনশনও রেলের অন্যতম বড় খরচ
অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশনও রেলের অন্যতম বড় খরচ। এছাড়াও ট্রেন চালানোর জন্য বিদ্যুৎ, ডিজেল, লাইন রক্ষণাবেক্ষণ, ট্রেনের মেরামত, স্টেশন পরিচালনা এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থার পেছনেও প্রচুর টাকা খরচ করে রেল। বর্তমানে ব্রডগেজ লাইনের বেশিরভাগ অংশে বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ হওয়ায় বিদ্যুতের ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে খরচ কমাতে রেল এখন সৌরবিদ্যুতের মতো বিকল্প শক্তির দিকেও নজর দিচ্ছে।
অপারেটিং রেশিও আসলে কী?
ভারতীয় রেলের আর্থিক অবস্থা বোঝার জন্য 'অপারেটিং রেশিও' বা পরিচালন অনুপাত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উদাহরণস্বরূপ, অপারেটিং রেশিও যদি ৯৮.৪৩ শতাংশ হয়, তার মানে হলো ১০০ টাকা আয় করতে রেলকে প্রায় ৯৮.৪৩ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
আয় বিপুল হলেও খরচও প্রায় একই রকম
অর্থাৎ, আয় বিপুল হলেও খরচও প্রায় একই রকম। তাই রেলকে বিশাল আয়ের সংস্থা বলা গেলেও, এটি কোনো বড় মুনাফা অর্জনকারী ব্যবসা নয়। আয়ের বেশিরভাগ অংশই পরিচালনার খরচে চলে যায়।
যাত্রীদের টিকিটের দাম এত কম কেন?
ভারতীয় রেল শুধু একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে না। দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষকে সাধ্যের মধ্যে যাতায়াতের সুবিধা দেওয়াটাও রেলের অন্যতম দায়িত্ব। আর সেই কারণেই কিছু যাত্রীবাহী ট্রেনের টিকিটের দাম বেশ কম রাখা হয়।
রেলের খরচ অনেক বেশি হয়
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একজন যাত্রীকে ট্রেনে এক কিলোমিটার নিয়ে যেতে রেলের গড়ে ১.৩৮ টাকা খরচ হয়। কিন্তু যাত্রীর কাছ থেকে রেল গড়ে মাত্র ৭৩ পয়সা ভাড়া নেয়। অর্থাৎ, যাত্রীদের টিকিটের মাধ্যমে যে আয় হয়, তার চেয়ে তাদের পরিষেবা দিতে রেলের খরচ অনেক বেশি হয়।