EGR: ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) এবং অগমন্ট এন্টারপ্রাইজেস একসঙ্গে ভারতে ইলেকট্রনিক গোল্ড রিসিট (EGR) ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যার মূল লক্ষ্য হল, সোনার বাজারে টাকার জোগান বাড়ানো এবং ঘরে জমে থাকা সোনাকে অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনা।

EGR: ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া (NSE) এবার অগমন্ট এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের সঙ্গে হাত মেলাল। NSE-র তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে ইলেকট্রনিক গোল্ড রিসিট (EGR) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই চুক্তি। এর মাধ্যমে সোনা কেনাবেচার বাজারকে আরও উন্নত করা হবে, যাতে EGR তৈরি, ভাঙানো, নগদের জোগান এবং সঠিক দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়।

সংবাদসংস্থাকে দেওয়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে দুটি সংস্থাই একসঙ্গে কাজ করবে। যার লক্ষ্য হল, বাজারে আরও বেশি মানুষকে নিয়ে আসা, নগদের জোগান বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারী, গয়না ব্যবসায়ী ও অন্যান্যদের মধ্যে EGR-এর ব্যবহার জনপ্রিয় করে তোলা।"

NSE-র EGR প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বক্তব্য

বুধবার, NSE-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও আশিস কুমার চৌহান বলেন, “এক্সচেঞ্জের ইলেকট্রনিক গোল্ড রিসিট (EGR) প্ল্যাটফর্মটি SEBI দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি বাজার। এখানে আসল সোনাকে ডিম্যাটেরিয়ালাইজড সিকিউরিটিতে রূপান্তরিত করা যায় এবং সাধারণ ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে রাখা যায়। এই ব্যবস্থা সমস্ত যোগ্য অংশগ্রহণকারীদের জন্য খোলা। আমরা প্রত্যেক ভল্ট ম্যানেজার, গয়না ব্যবসায়ী এবং মধ্যস্থতাকারীকে স্বাগত জানাই, যারা আমাদের মানদণ্ড পূরণ করতে পারবেন।"

ভারতের ঘরে থাকা সোনার ভান্ডারকে কাজে লাগানোর চেষ্টা

ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (IBJA) ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট পৃথ্বীরাজ কোঠারি জানান, ভারতে আনুমানিক ৩০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টন সোনা রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ব্যক্তিগত সোনার ভান্ডার। কিন্তু এর বেশিরভাগটাই অর্থনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয়। তিনি আরও বলেন, ভারত বিদেশের বাজারের জন্য ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল বুলিয়ন এক্সচেঞ্জ (IIBX) তৈরি করছে, আর দেশের বাজারের জন্য SEBI ইতিমধ্যেই ইলেকট্রনিক গোল্ড রিসিটের (EGR) কাঠামো তৈরি করে দিয়েছে।

বলা হচ্ছে, "EGR ভারতের জন্য এক বিরাট সম্ভাবনা খুলে দিতে পারে। আমাদের বাড়িতে অলসভাবে পড়ে থাকা সোনার সামান্য অংশও যদি একটি স্বচ্ছ এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে আসে, তবে তা নগদের জোগান বাড়াতে পারে, অর্থনীতিকে আরও মজবুত করতে পারে, ঋণ ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে পারে এবং নতুন করে সোনা আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে পারে।"

সোনা থেকে আয়ের নতুন দিশা

অগমন্ট গোল্ডটেক প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর এবং প্রতিষ্ঠাতা কেতন কোঠারি বলেন, ইলেকট্রনিক গোল্ড রিসিট ভারতের গোল্ড ফিনান্সিং ব্যবস্থায় বিপ্লব আনতে পারে। সাধারণ মানুষ তাদের বাড়িতে পড়ে থাকা সোনা, বার বা কয়েনকে EGR-এ রূপান্তরিত করতে পারবেন এবং সিকিউরিটিজ লেন্ডিং অ্যান্ড বরোয়িং (SLB) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উৎপাদকদের ধার দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, “এর ফলে গ্রাহকরা সুদ পাবেন, আর উৎপাদকরা সুদ দেবেন। বর্তমানে সবচেয়ে বড় টোকেনাইজড গোল্ড প্ল্যাটফর্মের অ্যাসেট আন্ডার ম্যানেজমেন্ট (AUM) হল ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কোঠারির অনুমান, আগামী বছরগুলিতে EGR-এর AUM এর থেকে ১০০ গুণ বেশি হবে।"

ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।