রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করল। তিন বছর পর এই রেট বাড়ায় বাড়ি ও গাড়ির লোনে ইএমআইয়ের চাপ বাড়বে। মূলত মূল্যবৃদ্ধি ও অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ফের রেপো রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল। ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে রেপো রেট ৫.৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এর আগে রেপো রেট ছিল ৫.২৫ শতাংশ। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর ফের রেপো রেট বৃদ্ধির পথে হাঁটল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। ঋণনীতি ঘোষণার সময়ই এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বাড়ির ঋণে বাড়তে পারে সুদের চাপ

রেপো রেট বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ব্যাঙ্কের ঋণের সুদের হারে। বিশেষ করে যাঁরা ফ্লোটিং রেটের হোম লোন নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে একই ঋণের জন্য মাসিক কিস্তি বা EMI-এর পরিমাণ বাড়তে পারে। নতুন করে যাঁরা বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও ঋণের খরচ আগের তুলনায় বেশি হতে পারে।

গাড়ির ঋণেও বাড়তে পারে EMI

শুধু গৃহঋণ নয়, গাড়ি কেনার জন্য নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ব্যাঙ্কগুলি ঋণের সুদের হার বাড়ালে নতুন গাড়ি ঋণের মাসিক কিস্তিও বাড়তে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের উপর ঋণের আর্থিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কেন রেপো রেট বাড়াল RBI?

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মূল্যবৃদ্ধির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরবিআইয়ের মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) পক্ষ থেকে আর্থিক নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেপো রেট বৃদ্ধি সেই নীতিরই অন্যতম হাতিয়ার।

২০২৫ সালে একাধিকবার কমেছিল রেপো রেট

এর আগে ২০২৫ সালে মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। তার পর টানা চারটি ঋণনীতি বৈঠকে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে এবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে রেট ৫.৫০ শতাংশ করা হল।

সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব পড়বে?

রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে ব্যাঙ্কগুলির কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ইতিমধ্যেই বড় অঙ্কের হোম বা কার লোন রয়েছে, তাঁদের জন্য সুদের হার বৃদ্ধি মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। ঋণের মেয়াদ অপরিবর্তিত থাকলে EMI বাড়তে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে EMI না বাড়িয়ে ঋণের মেয়াদও বাড়তে পারে।

সঞ্চয়কারীদের জন্য কি কিছুটা স্বস্তি?

ঋণের সুদের হার বাড়ার পাশাপাশি ব্যাঙ্কগুলির আমানতের সুদের হারেও পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্যান্য আমানত প্রকল্পে যাঁরা টাকা রাখেন, তাঁদের জন্য সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তবে কোনও ব্যাঙ্ক ঠিক কতটা সুদ বাড়াবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে রেপো রেট?

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, মূল্যবৃদ্ধির চাপ এবং অপরিশোধিত তেলের দামের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০২৭ অর্থবর্ষে রেপো রেট আরও বাড়তে পারে। তবে ভবিষ্যতে রেপো রেটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি, আন্তর্জাতিক বাজার এবং তেলের দামের মতো একাধিক বিষয় বিবেচনা করবে RBI।

ফলে রেপো রেটের এই বৃদ্ধির পর এখন সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের নজর থাকবে ব্যাঙ্কগুলির সুদের হারের দিকে। বিশেষ করে হোম লোন ও গাড়ির ঋণের EMI কতটা বাড়ে, সেটাই আপাতত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।